‘ইতিহাস মনে রাখবে এই মন্দিরের স্রষ্টার নাম - মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’, দিদি-বন্দনার জেরে ট্রোলড ময়না!
‘বিজেপি সব জায়গায় ‘কালচারাল সেন্টার’ লিখে দিলেও প্রতিদিন মন্দিরে ভক্তদের যে বিশাল ভিড়…’, গেরুয়া শিবিরকে তোপ তৃণমূল যুব সভাপতি-পত্নীর।
গত বছর অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয়েছিল দীঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের। তারপর থেকেই সৈকত শহর দীঘার অর্থনীতি ও পর্যটনে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আসে। ভিন রাজ্য তো বটেই, এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও এই মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের উদ্যোগেই দীঘাতে ধুমধাম করে শুরু হয়েছিল প্রথম রথযাত্রা উৎসবও।

তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দীঘার এই মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা। এবার সেই বিতর্ক নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট করলেন টলিউডের এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় নেত্রী ময়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
‘ধাম’ বদলে ‘কালচারাল সেন্টার’! বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ
তৃণমূলের এই তারকা নেত্রী তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি প্রথম থেকেই এই মন্দিরটি নিয়ে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়ে এসেছে। এখন ক্ষমতা বদলের পর তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মন্দিরের সাইনবোর্ড ও সমস্ত জায়গা থেকে ‘ধাম’ (Dham) শব্দটা মুছে দিয়ে সেখানে ‘কালচারাল সেন্টার’ (Cultural Center) লিখে দিয়েছে।
বিজেপিকে একহাত নিয়ে কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের যুব সভাপতি অর্ণবের ঘরণী লিখেছেন, ‘বিজেপি সব জায়গায় ‘কালচারাল সেন্টার’ লিখে দিলেও প্রতিদিন মন্দিরে ভক্তদের যে বিশাল ভিড় এবং তাঁদের ভক্তি দেখা যাচ্ছে, তা থেকেই সহজে অনুমেয় যে সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীরা এটিকে কোনো কালচারাল সেন্টার হিসেবে দেখছেন না, তাঁরা এটিকে শ্রীক্ষেত্রের মতোই পবিত্র ‘ধাম’ হিসেবেই মনের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছেন।’
‘ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, ইতিহাস মনে রাখবে মমতাকে’— স্পষ্ট বার্তা
রাজনৈতিক পালাবদলকে কটাক্ষ করে ময়না মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা আজ আছে তো কাল নেই, তা একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এই মন্দির আরও হাজার বছর ধরে এভাবেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।
তিনি অত্যন্ত জোরের সাথে দাবি করেন যে, এই ইতিহাস পরিবর্তন করার ক্ষমতা বর্তমানের কোনো রাজনৈতিক শক্তির নেই। যুগ যুগ ধরে ইতিহাস মনে রাখবে এই মন্দিরের আসল স্রষ্টার নাম— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'
ধেয়ে এল কটাক্ষ
যদিও ময়নার এই পোস্টে কটাক্ষ-বিদ্রুপের শেষ নেই। একজন লেখেন, ‘ধাম আর মন্দিরের তফাৎ টা বোঝেন? ধাম ব্যবহারে স্বয়ং জগন্নাথ দেব ও এতটাই বিরক্তি বোধ করেছিলেন যে শুধু হারান নি একবারে দলটাই তুলে দিয়েছেন।’ আরেকজন লেখেন, ‘এই মন্দির প্রতিষ্ঠায় ভক্তির থেকে অহংকার বেশি ছিলো। তাই এক বছরের মধ্যে পতন হয়েছে।’ আরেক নেটিজেন কটাক্ষের সুরে লেখেন- ‘টাকাটা জনগণের, মন্দিরের সম্পদও জনগণের। ইতিহাস মনে রাখবে’।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


