Mahadev and Sons: বউ পেটানোর দৃশ্যেই রোম্য়ান্স! সিরিয়াল মহাদেব অ্যান্ড সন্স নিয়ে চটে লাল নেটপাড়া
কালার্স চ্যানেলের ‘মহাদেব অ্যান্ড সন্স’-এ পারিবারিক হিংসা এবং টক্সিক সম্পর্ককে রোমান্টিক ও গ্ল্যামারাস উপায়ে দেখানোর অভিযোগে উত্তাল ইন্টারনেট। কী ঘটেছে?
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ছোটপর্দায় নিত্যনতুন কন্টেন্টের জোয়ার এলেও, কিছু চেনা ছক বা ‘টক্সিক’ গল্প নিয়ে দর্শকদের একাংশের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এবার নেটিজেনদের সেই তীব্র রোষের মুখে পড়ল সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বা বহুল চর্চিত প্রজেক্ট ‘মহাদেব অ্যান্ড সন্স’ (Mahadev and Sons)। অভিযোগ, এই গল্পের মূল প্রেক্ষাপটে যেভাবে পারিবারিক হিংসা, মানসিক অত্যাচার এবং বিষাক্ত সম্পর্ককে ‘প্রেম’ বা ‘রোমান্টিক’ তকমা দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং সমাজবিরোধী।

ধারাবাহিকের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত দৃশ্যকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। উগ্র ম্যাসকুলিনিটি এবং টক্সিক সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে দেখানোর অভিযোগে নেটপাড়ার বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন— ‘ঘরোয়া হিংসা কোনও তামাশা বা রসিকতার বিষয় নয়।’
কী ছিল সেই বিতর্কিত দৃশ্য?
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ধারাবাহিকের দুই প্রধান চরিত্র ধীরজ এবং রাজ্জি । গল্পের একটি বিশেষ পর্বে ধীরজ ও রাজ্জির মধ্যে চলা এক পারিবারিক অশান্তির দৃশ্য তুলে ধরা হয়। দৃশ্যে দেখা যায়, পুরুষ চরিত্রটি রাগ ও ক্ষোভের বশে নারী চরিত্রের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে চড়াও হচ্ছে এবং গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিচ্ছে বউকে।
সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে দৃশ্যটির পরিচালনা নিয়ে। পারিবারিক এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির পর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও মেলোড্রামা ব্যবহার করে বিষয়টিকে এক ধরণের ‘অধিকারবোধ’ হিসেবে পর্দায় জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এখানেই ফুঁসে উঠেছেন দর্শকরা।
“গার্হস্থ্য হিংসা কোনও জোক নয়”— ক্ষোভে ফুঁসছে ইন্টারনেট
দর্শকদের একাংশের মতে, ভারতীয় টেলিভিশনে বছরের পর বছর ধরে নায়কের এই ‘অত্যাচারী রূপ’-কে ভালোবাসার অংশ হিসেবে দেখিয়ে নারীদের বোকা বানানোর যে ধারা চলে আসছে, ‘মহাদেব অ্যান্ড সন্স’ সেই একই বিষাক্ত ট্রেন্ডের পুনরাবৃত্তি করেছে।
এক ক্ষুব্ধ দর্শক লিখেছেন, ‘বাস্তব জীবনে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হন। কালার্স টিভির মতো বড় চ্যানেলের প্রাইম টাইম শো-তে কীভাবে এমন সংবেদনশীল বিষয়কে এত হালকাভাবে দেখানো হলো?’ অনেকেই আবার ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং অথরিটির কাছে এই শো-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
জবাব দেননি পরিচালক ও প্রোডাকশন টিম
‘মহাদেব অ্যান্ড সন্স’ ধারাবাহিকটি পরিচালনা করছেন হিন্দি টেলিভিশনের নামী ডিরেক্টর সঙ্গীতা রাও এবং এতে প্রধান চরিত্রে দেখা যাচ্ছে শক্তি আনন্দ ও স্নেহা ওয়াঘের মতো চেনা মুখদের। ধীরজ ও রাজ্জির এই দৃশ্যটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে বয়কটের ডাক উঠলেও, এখনও পর্যন্ত চ্যানেলের কর্তৃপক্ষ বা শো-এর প্রোডাকশন হাউজের তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা দুঃখপ্রকাশ করা হয়নি।
ইন্টারনেট কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এই দৃশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক্স-এর একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "তারা নির্যাতনকে রোমান্টিক করছে - তাকে চারপাশে ধাক্কা দিয়েছে, চড় মারেছে, তার উপর এক বালতি জল ফেলেছে, এখন তাকে লোহা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে এবং সে রোম্যান্সের নামে তার চিৎকার ঢেকে দিচ্ছে??? এই বাজে কথা শেষ করুন!" আরেকজন বলেন, 'আজ যা দেখলাম তা বিশ্বাস করতে পারছি না। তারা আক্ষরিক অর্থে ধীরজকে রাজিকে আঘাত করতে এবং তারপরে অবশেষে নির্যাতনকে রোমান্টিক করতে দেখিয়েছিল। তার জেলে থাকা উচিত, এটা খুবই জঘন্য। বিশ্বাস করতে পারছি না যে তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি মাঝখানে এসে তাকে আঘাত পাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। একটি মন্তব্যে লেখা হয়েছে, "কেবল অভিনেতাদের কারণে দেখতে আগ্রহী ছিলাম, তবে গল্পের লাইনটি মেরামতের বাইরে। কোনও চরিত্রই এখন আর সম্পর্কিত নয়, মহাদেব এবং পুত্রদের (কার্তিকে এবং গণেশ) কী অপমানজনক, এই শোয়ের কোনও পুরুষের মধ্যে এই সম্মানিত দেবতাদের বৈশিষ্ট্যগুলির এক আউন্সও নেই। দ্বিতীয় একজন ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন, "এটি গার্হস্থ্য সহিংসতা ... কী ঘটছে এই শোতে... এটি হয়রানি এবং ট্রিগার হতে পারে!! কে এই শো লিখছে? এটি বিভ্রান্তিকর।
"গার্হস্থ্য নির্যাতন কোনও কৌতুক নয়, এবং ভালবাসার নামে এটিকে মহিমান্বিত করা নির্মাতাদের জন্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। শিশুরা এসব অনুষ্ঠান দেখে। কী বার্তা দিচ্ছেন আপনি? আপনার সঙ্গীর সাথে এভাবে আচরণ করা এবং যদি এটি আপনার সাথে করা হয় তবে এটি সহ্য করা কি ঠিক আছে? আরও ভাল করুন," একটি মন্তব্যে লেখা হয়েছে। মহাদেব অ্যান্ড সন্স শো তৈরি ও লিখেছেন সৌরভ তিওয়ারি। এটি সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কালারস টিভিতে প্রচারিত হয় রাত 10:00 টায়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


