ডিভোর্সি-বিধবা মহিলারা ‘পাবলিক প্রপার্টি’! আদনান শেখের নোংরা মন্তব্যে ফুঁসলেন উরফি জাভেদ
‘বিগ বস ওটিটি ৩’ খ্যাত আদনান শেখ বিধবা ও ডিভোর্সি মহিলাদের ‘পাবলিক প্রপার্টি’ বলে উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় মুখ খুললেন উরফি জাভেদ।
জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ওটিটি ৩’ খ্যাত ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আদনান শেখ (Adnan Shaikh) এক চরম বিতর্কিত ও কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বিবাহবিচ্ছিন্না এবং বিধবা মহিলাদের ‘পাবলিক প্রপার্টি’ বা জনসাধারণের সম্পত্তি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আদনানের এই মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই ওঁর ওপর মারাত্মক চটেছেন ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার তথা অভিনেত্রী উরফি জাভেদ (Uorfi Javed)। ইনস্টাগ্রামে আদনানের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরাও।
ডকাস্টে ঠিক কী বলেছিলেন আদনান শেখ?
‘আ দিল কি বাত করেঁ’ নামের একটি পডকাস্টে বিয়ে, ডিভোর্স এবং স্বামীদের হারানো মহিলাদের নিয়ে কথা বলছিলেন আদনান। সেখানে ওঁর বক্তব্য ছিল:
“সবাইকে সমানভাবে ট্রিট করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ— বিধবা বা ডিভোর্সি, এই দুটিই তো বিষয়। হয় তারা বিয়ে করে একটা সম্মানজনক জীবন কাটাক, তাদের নামের পাশে একটা নাম যুক্ত হোক, না হলে তারা ‘পাবলিক প্রপার্টি’ হয়ে যাক। আমাদের সমাজকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, যে ৩০ শতাংশ মহিলা একা থাকছেন, কেউ যদি তাঁদের বিয়ে করে তবে আপনাদের সমস্যা কেন? তাঁরা পাবলিক প্রপার্টি হয়ে যাক আর বহু মানুষ তাঁদের ব্যবহার করুক, সেটা কি আপনারা মেনে নেবেন? ওই ৩০ শতাংশের মধ্যে আপনাদের মা-বোনও থাকতে পারতেন। আপনারা কী চাইবেন? কেউ তাঁদের দায়িত্ব নিক, নাকি যে কেউ এসে তাঁদের ব্যবহার করে চলে যাক?'
'এই ধরণের পুরুষদের কথা বলতে দেওয়া হয় কেন?'— ফুঁসে উঠলেন উরফি
আদনানের এই ‘ব্যবহার করা’ এবং ‘পাবলিক প্রপার্টি’ বলার মানসিকতাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন উরফি জাভেদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই ভিডিওটি শেয়ার করে ক্ষোভ ও গালাগাল উগড়ে দিয়ে উরফি লেখেন— “এই ধরণের পুরুষদের আদেও কোথাও কথা বলতে দেওয়া হয় কেন?”
মহিলাদের প্রতি আদনানের এই অবমাননাকর ও পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সাধারণ দর্শকরাও।
ক্ষুব্ধ নেটপাড়া: ‘মুসলিম পুরুষদের চিন্তাভাবনা দেখে ভয় লাগে’
ভিডিওর কমেন্ট বক্সে আদনানকে তুলোধোনা করেছেন নেটিজেনরা। একজন ইউজার লিখেছেন, ‘আমি নিজে একজন মুসলিম, কিন্তু কিছু মুসলিম পুরুষের এই ধরণের নোংরা চিন্তাভাবনা দেখলে এখন সত্যি ভয় লাগে।’
অন্য একজন লিখেছেন, 'বিধবা আর ডিভোর্সি মহিলাদের পাবলিক প্রপার্টি বলার অধিকার একে কে দিল? এর স্রেফ রিল বানানোই উচিত, জ্ঞান দেওয়া নয়। লোকে একে ফলো করে কেন?'
সমাজমাধ্যমের অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলেছেন, মহিলাদের এভাবে অপমান করার অপরাধে আদনানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা কেস ফাইল করা উচিত কিনা।
আদনানের নিজের বিয়ে নিয়েও হয়েছিল বিতর্ক
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই নিজের ভিনধর্মী বিয়ে নিয়ে চর্চায় এসেছিলেন আদনান শেখ। ওঁর বিয়ের পর ওঁর নিজের বোনই বিস্ফোরক অভিযোগ এনে দাবি করেছিলেন যে, আদনান ‘ঋদ্ধি যাদব’ নামের এক হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তরিত করে ‘আয়েশা’ নাম দিয়ে বিয়ে করেছেন। সেই সময় অবশ্য আদনান ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের দোহাই দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এবার মহিলাদের নিয়ে মন্তব্য করে নিজেই বড়সড় বিপাকে পড়লেন এই ইনফ্লুয়েন্সার।
আদনান শেখের আন্তঃধর্মীয় বিবাহ আদনান শেখ তার বান্ধবীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর আদনানের বোন অনেক বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছিলেন। কথিত আছে যে আদনান ঋদ্ধি যাদব নামে এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছেন এবং তাকে ধর্মান্তরিত করেছেন এবং আয়েশা নাম রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে আদনান বলেন, 'আমরা ভারতে বাস করি, এখানে প্রত্যেকেরই ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। ধর্মান্তরিত হয়ে কাউকে বিয়ে করার জন্য আমি কে? এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে হিন্দু ছেলেরা মুসলিম মেয়েদের বিয়ে করেছে। কেউ কাউকে জোর করে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না। '
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


