‘একটা বিকট গ্লানি, অপরাধবোধ’ ঘিরে ধরেছে ঊষসীকে, কমরেড শ্যামল চক্রবর্তীর মৃত্যুর ৫ বছর পার, কী নিয়ে আফসোস?
ছোটবেলায় মা-কে হারিয়েছিলেন। বাবাই ছিল তাঁর গোটা জগত। ৫ বছর আগে কোভিডকালে তাঁকেও হারান ঊষসী চক্রবর্তী। শ্যামল চক্রবর্তীর মৃত্যুবার্ষিকীতে কীসের আফসোস কন্যের?
বৃহস্পতিবার, ৬ই অগস্ট ছিল সিপিআইএম (CPIM)-এর প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী-র প্রয়াণের পঞ্চম বর্ষপূর্তি। করোনাকালে বাবা হারানোর এই যন্ত্রণাদায়ক দিনে এক বুক জমে থাকা কষ্ট, ক্ষোভ আর তীব্র অপরাধবোধ উগরে দিলেন অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী (Ushasie Chakraborty)। এতদিন যা মনের গভীরে চেপে রেখেছিলেন, এদিন সোশাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে সেই গোপন সত্য ও হাসপাতালের গাফিলতির বিস্ফোরক বিবরণ তুলে ধরেছেন তিনি।

অনুমতি ছাড়াই ভেন্টিলেশন! চিকিৎসকদের গাফিলতির অভিযোগ
কলকাতা বাইপাস সংলগ্ন যে বেসরকারি হাসপাতালে শ্যামল চক্রবর্তীকে ভর্তি করানো হয়েছিল, সেখানকার পরিবেশ ও চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন ঊষসী।
কনসেন্ট ছাড়াই ভেন্টিলেশন
ছোটপর্দার জুন আন্টি ঊষসী লেখেন, বাবাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো অনুমতি (Consent) নেয়নি। অনুমতি চাইলে তাঁরা কখনোই দিতেন না। সিনিয়র ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে কয়েকজন জুনিয়র আরএমও (RMO) কারও অনুমতি না নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেন।
শারীরিক জটিলতা জানা সত্ত্বেও ভুল: শ্যামলবাবু 'অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস'-এর রোগী ছিলেন। ঊষসীরা জানতেন ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিলে তাঁকে আর ফেরানো সম্ভব নয়, উপরন্তু তিনি নিজেও কখনো ভেন্টিলেশনে যেতে চাননি।
ঊষসীর আক্ষেপ, ‘মামলা করতে পারতাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আর কোনো এনার্জি অবশিষ্ট ছিল না। কোনোদিনও এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে না— অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে গেলে কি পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত?’
একক সন্তান ও কেয়ারগিভারের একাকীত্ব ও গ্লানিবোধ
বাবার একমাত্র কেয়ারগিভার হিসেবে সেই কঠিন দিনগুলোর মানসিক যন্ত্রণার কথা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। ঊষসী জানান, বাবা বা মায়ের শেষ দিনগুলোতে আপনি যদি একমাত্র কেয়ারগিভার হন (বিশেষ করে সিঙ্গেল চাইল্ড হলে), তবে আপনি তাঁদের জন্য যতই করুন না কেন, মানুষটি চলে যাওয়ার পর এক বিকট গ্লানিবোধ ও অনর্থক অপরাধবোধ ঘিরে ধরে। বহু চেষ্টা করেও সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
কোভিড পর্বের বাস্তবতা: পোস্টে আগাম ট্রোলদের বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বাবার যখন 'কোভিড-১' হয়েছিল, তখন আপ্রাণ চেষ্টা করেও কোনো সরকারি হাসপাতালে বেড অ্যারেঞ্জ করা সম্ভব হয়নি বলেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।
বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে ঊষসীর এই সততা ও বিষাদমাখা পোস্ট দেখে সোশাল মিডিয়ায় অনুরাগী থেকে শুরু করে বহু মানুষ অভিনেত্রীর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


