'মদ খেয়ে গান গাইছেন'! দালের মেহেন্দিকে অপমান, ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপি মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল, বিবৃতি দিল মিকা সিংয়ের টিম
নবরাত্রির অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে চরম অপমানের মুখে পড়েছিলেন দালের মেহেন্দি। মদ্যপ অবস্থায় গান গাওয়া এবং লিপ সিঙ্কের অভিযোগ তুলে মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর অনুষ্ঠান। বিতর্কের মুখে অবশেষে গায়কের কাছে ক্ষমা চাইলেন উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক দালের মেহেন্দি। মঞ্চে তাঁর অনুষ্ঠান চলাকালীনই হস্তক্ষেপ করেছিলেন উত্তরাখণ্ডের ক্যাবিনেট মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল। শুধু তাই নয়, গায়কের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গান গাওয়া এবং লিপ সিঙ্ক করার অভিযোগও উঠেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। দাদার অপমানের প্রতিবাদে সরব হন গায়ক মিকা সিং। অবশেষে বিতর্কের জেরে দালের মেহেন্দির কাছে ক্ষমা চাইলেন মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল।

ঠিক কী ঘটেছিল দালের মেহেন্দির অনুষ্ঠানে?
উত্তরাখণ্ডের সিদ্ধপীঠ মা কুঞ্জাপুরী পর্যটন ও উন্নয়ন মেলায় গান গাইতে গিয়েছিলেন দালের মেহেন্দি। নবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁর পারফরম্যান্স চলছিল। অভিযোগ, আচমকাই অনুষ্ঠান থামিয়ে দেন রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, গায়ক নাকি মদ্যপ অবস্থায় মঞ্চে উঠেছেন। এমনকী, সরাসরি গান না গেয়ে লিপ সিঙ্ক করছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সঙ্গে প্রকাশ্যে এমন আচরণের ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক।
দাদার অপমানে সরব মিকা সিং
দালের মেহেন্দির সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁর ভাই তথা জনপ্রিয় গায়ক মিকা সিং। তাঁর বক্তব্য, কোনও শিল্পীর সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে দালের মেহেন্দির মতো একজন প্রবীণ শিল্পী, যিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংগীতজগতে অবদান রেখে চলেছেন, তাঁর যথাযথ সম্মান প্রাপ্য।
বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই হস্তক্ষেপ করেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। মিকার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং মন্ত্রীর হয়ে ক্ষমা চান।
ফোন করে ক্ষমা চাইলেন মন্ত্রী
সংবাদসংস্থা আইএএনএস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিতর্কের পর দালের মেহেন্দির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সুবোধ উনিয়াল। সেই কথোপকথনেই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি বলে জানা গিয়েছে।
এরপর মিকা সিংয়ের টিমের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, সুবোধ উনিয়াল যে ফোন করে দালের মেহেন্দির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, সেই পদক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিল্পীদের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। দালের মেহেন্দি সংগীতজগতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই শুধু তিনিই নন, প্রত্যেক শিল্পীরই সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
পাশাপাশি মিকার টিম স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাঁরা আর এই বিতর্ক দীর্ঘায়িত করতে চান না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টির ইতি টানার পক্ষেই তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় মিকা সিং
এই বিতর্কের মধ্যেই উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মিকা। আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাঁর এবং দালের মেহেন্দির সঙ্গে কথা বলেছেন।
মিকার কথায়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ। দেহরাদুনে গেলে ধামি সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এত বড় পদে থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহার অত্যন্ত সাধারণ এবং বিনয়ী বলে মন্তব্য করেন গায়ক।
মিকা আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাছে মন্ত্রীর হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। যদিও তিনি ধামিকে জানিয়েছিলেন, তাঁর ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কোনও ভুল ছিল না।
শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, দুই ভাইকে উত্তরাখণ্ডে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন পুষ্কর সিং ধামি। মিকা জানিয়েছেন, আগামী দিনে তাঁরা ফের উত্তরাখণ্ডে গিয়ে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করছেন। আপাতত মন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর এই বিতর্কে ইতি টানতে চাইছেন মিকা ও দালের মেহেন্দি। তবে গোটা ঘটনা আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে শিল্পীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


