‘সেটে এসে শুনি বিকিনি পরতে হবে, ২ ঘণ্টা শুটিং বন্ধ’, কার কথায় স্নানপোশাক পরতে রাজি হন বিন্দু?

জোশিলা’ ছবির সেটে হঠাৎ বিকিনি পরতে বলায় মাথায় বাজ পড়েছিল বিন্দুর। টানা ২ ঘণ্টা শুটিং বন্ধ হয়ে যায় ছবির। নায়িকার অস্বস্তি দেখে কী জানান পরিচালক যশ চোপড়া?

Published on: Jun 28, 2026, 19:35:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বলিউডের সত্তর-আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দাপুটে অভিনেত্রী বিন্দু (Bindu)। খলনায়িকার চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর এক অজানা ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া প্রখ্যাত পরিচালক যশ চোপড়ার ‘জোশিলা’ (Joshila) সিনেমার সেটে আচমকাই তাঁকে একটি বিকিনি দৃশ্য শুট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা শুনে কার্যত আকাশ থেকে পড়েছিলেন বিন্দু!

‘সেটে এসে শুনি বিকিনি পরতে হবে, ২ ঘণ্টা শুটিং বন্ধ’, কার কথায় স্নানপোশাক পরতে রাজি হন বিন্দু
‘সেটে এসে শুনি বিকিনি পরতে হবে, ২ ঘণ্টা শুটিং বন্ধ’, কার কথায় স্নানপোশাক পরতে রাজি হন বিন্দু

পরিচালককে না জানিয়ে এবং নিজের আপত্তির কথা স্পষ্ট করে কীভাবে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা শুটিং স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, সেই গল্পই এতদিনে শোনালেন অভিনেত্রী।

১. “আগে থেকে কিচ্ছু জানানো হয়নি, সেটে এসে জানতে পারি”— বিন্দু

প্রখ্যাত বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বিন্দু জানান, ছবিতে বিকিনি দৃশ্য থাকার কথা তাঁকে আগে থেকে কেউই জানায়নি। সেটে পৌঁছানোর পরই ওনাকে ওই পোশাকটি পরতে দেওয়া হয়।

পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে বিন্দু বলেন:

“আমি প্রায় দুই ঘণ্টা শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলাম, কারণ আমি প্রপার বিকিনি পরার জন্য মানসিকভাবে একদমই প্রস্তুত ছিলাম না। বিকিনি তো বিকিনিই হয়! আমি সরাসরি যশ জি-কে (যশ চোপড়া) গিয়ে বললাম, ‘প্লিজ... আপনি তো আমাকে এই বিষয়ে আগে কিছুই জানাননি।’ সেটে এসে আমি প্রথম এটা জানতে পারি। আমার আপত্তি দেখে বেচারা দেব আনন্দ জি (Dev Anand) চুপচাপ একপাশে বসে রইলেন, কিচ্ছু বললেন না। আমি শুধু ভাবছিলাম, উনি আমার ব্যাপারে কী ভাবছেন! কিন্তু যশ জি পরিস্থিতি সামাল দেন।'

বিন্দুর অস্বস্তি দূর করতে দৃশ্যই বদলে ফেললেন যশ চোপড়া!

অভিনেত্রীর আপত্তির কথা বুঝতে পেরে পরিচালক যশ চোপড়া জোর জবরদস্তি না করে বিন্দুর কমফোর্টকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। বিন্দু যাতে ক্যামেরার সামনে কুঁকড়ে না যান, তার জন্য পুরো দৃশ্যটির শুটিংয়ের কায়দাই বদলে ফেলেন পরিচালক।

বিন্দু জানান, ‘যশজি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘আমরা সামলে নেব, তুমি চিন্তা কোরো না।’ এরপর ওনারা আমাকে জলের মধ্যে নামিয়ে দেন এবং বলেন যতটা সম্ভব জলের নিচেই থাকতে। ক্যামেরা এমনভাবে সেট করা হয়েছিল যাতে আমার শুধু সাইড এবং ব্যাক শট (Side and Back shots) নেওয়া যায়। শুটিং শেষ হওয়ার পর আমি সিনেমাটোগ্রাফার ফালি মিস্ত্রিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাকে কেমন লাগছে? উনি বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, মোটেও অশ্লীল লাগছে না।’ ওঁর ওই কথার পর আমি স্বস্তি পাই।’

এক নজরে ব্লকবাস্টার ‘জোশিলা’

১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোশিলা’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দেব আনন্দ, হেমা মালিনী, রাখী এবং বিন্দু। ছবিতে দেব আনন্দকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা গিয়েছিল।

দার্জিলিং কানেকশন: এই ছবির সিংহভাগ আউটডোর শুটিং হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের শৈলশহর দার্জিলিংয়ের মনোরম লোকেশনে। ছবিটি মূলত জেমস হ্যাডলি চেজের ১৯৫৯ সালের বিখ্যাত উপন্যাস ‘শক ট্রিটমেন্ট’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।

ভ্যাম্প ঘরানার রানি বিন্দু

সত্তর ও আশির দশকের হিন্দি সিনেমার অন্যতম গ্ল্যামারাস খলনায়িকা ছিলেন বিন্দু। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৬০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৬২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে ‘অনপড়’ ছবি দিয়ে ডেবিউ করার পর, ১৯৭০ সালে ‘কাটি পতঙ্গ’ ছবিতে ‘শবনম’ চরিত্রে ওঁর অভিনয় এবং প্রেম চোপড়ার সাথে ওঁর অনস্ক্রিন জুটি আজও আইকনিক হয়ে রয়েছে। ২০০৮ সালে অজয় দেবগন ও মনীষা কৈরালা অভিনীত ‘মেহবুবা’ ছবিতে তাঁকে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More