'উড়তা পঞ্জাব'-এ ৮৯টি কাঁচি চালান! ‘সংস্কারি সেন্সার প্রধান’ পেহলাজ নিহালনি প্রয়াত
বলিউডের প্রবীণ প্রযোজক এবং সিবিএফসি-এর প্রাক্তন প্রধান পহলাজ নিহালানি ৭৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্মcertifications (CBFC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান পহলাজ নিহালানি আর নেই। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যকৃত বা লিভারজনিত নানাবিধ সমস্যায় ভুগছিলেন।

পরিবারের তরফ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ৪ জুন তাঁদের প্রিয় পহলাজ নিহালানি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ হিন্দু শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
বাণিজ্যিক ছবির সফল জাদুকর
১৯৫০ সালের ১০ জানুয়ারি মুম্বইয়ের এক সিন্ধি পরিবারে জন্ম পহলাজের। প্রথম থেকেই বাণিজ্যিক ছবির প্রতি তাঁর ছিল তীব্র ঝোঁক। ১৯৮২ সালে শত্রুঘ্ন সিনহা অভিনীত ‘হাথকড়ি’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে বলিউডে পা রাখেন তিনি। এরপর নব্বইয়ের দশকে একের পর এক সুপারহিট বাণিজ্যিক ছবি উপহার দিয়ে বলিউডের মূল ধারার অন্যতম সফল প্রযোজক হয়ে ওঠেন পহলাজ।
তাঁর হাত ধরেই ১৯৮৬ সালে ‘ইলজাম’ ছবির মাধ্যমে প্রধান নায়ক হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন গোবিন্দ। ১৯৯২ সালে দিব্যা ভারতীকে বড় পর্দায় এনে তিনি তৈরি করেন ‘শোলা অউর শবনম’। তবে ১৯৯৩ সালে গোবিন্দ ও চাঙ্কি পাণ্ডে অভিনীত ‘আঁখে’ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বৃহত্তম কমার্শিয়াল সাকসেস। গোবিন্দ, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং ধর্মেন্দ্রর মতো প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালে ‘জুলি ২’ এবং ২০১৯ সালে ‘রঙ্গিলা রাজা’ ছবি দুটিও প্রযোজনা করেন পহলাজ। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি প্রায় ২৯ বছর ধরে অ্যাসোসিয়েশন অফ মোশন পিকচার্স অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
সিবিএফসি-র ‘বিতর্কিত’ চেয়ারম্যান
২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফ থেকে পহলাজ নিহালানিকে ভারতের চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদ (CBFC) বা সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই বছরের এই মেয়াদকাল ছিল সেন্সর বোর্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়।
চেয়ারম্যান পদে বসার পরপরই ছবিতে ব্যবহার করা যাবে না এমন ২৮টি শব্দের একটি তালিকা তৈরি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। জেমস বন্ডের ছবি ‘স্পেক্টার’-এর চুম্বনের দৃশ্য ছেঁটে ফেলা, সমকামিতার ওপর তৈরি ছবি ‘আনফ্রিডম’কে ছাড়পত্র না দেওয়া কিংবা হনসল মেহতার ‘আলিগড়’ ছবিকে ‘এ’ (A) শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুর্খা’ ছবিটিকে তো স্রেফ ‘নারী-প্রধান’ বা ‘লেডি ওরিয়েন্টেড’ তকমা দিয়ে প্রথম দফায় ছাড়পত্র দিতেই অস্বীকার করেছিলেন তিনি।
তবে তাঁর কার্যকালের সবচেয়ে বড় সংঘাত তৈরি হয় ‘উড়তা পঞ্জাব’ ছবিটিকে ঘিরে। সিবিএফসি এই ছবিতে ৮৯টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল, যা নিয়ে আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত বোম্বে হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং আদালত মাত্র একটি কাটের মাধ্যমে ছবিটি মুক্তির নির্দেশ দেয়। হনসল মেহতা, মুকেশ ভাট, স্বরা ভাস্কর এবং অশোক পণ্ডিতের মতো ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন সময়ে পহলাজের এই রক্ষণশীল সেন্সরশিপ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন। যদিও পহলাজ সবসময় দাবি করতেন, তিনি কেবল পর্ষদের নিয়মাবলী মেনেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের আগস্টে তাঁর জায়গায় গীতিকার প্রসূন যোশীকে সেন্সর বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


