Suman Kalyanpur: ‘রহে ইয়া না রয়ে হাম…’, সুরলোকে লীন আরও এক স্বর্ণযুগ! প্রয়াত সুমন কল্যাণপুর, বয়স হয়েছিল ৮৯
Suman Kalyanpur: লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠস্বরের অদ্ভূত মিল ছিল। আর সেই মিলই হয়ে ওঠে তাঁর কেরিয়ারের অভিশাপ। যদিও বলিউডকে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘আজ কাল তেরে মেরে চর্চে’
ভারতীয় সঙ্গীত দুনিয়ায় আরও এক নক্ষত্রপতন। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের কয়েক সপ্তাহের মাথায় সুরের জগৎ থেকে চিরবিদায় নিলেন আরও এক প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী, পদ্মভূষণ সুমন কল্যাণপুর। রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৮৯ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা যুগেও যিনি নিজের সুমিষ্ট ও নিখুঁত গায়কী দিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় স্থান তৈরি করেছিলেন, ওঁর প্রয়াণে টিনসেল টাউন থেকে শুরু করে সঙ্গীত মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

লতা-সাদৃশ্য কণ্ঠস্বর আর ষাটের দশকের সেই সোনালী অধ্যায়
১৯৩৭ সালের ২৮ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের ঢাকায় (বর্তমান বাংলাদেশ) জন্ম নেন সুমন হেম্মাদী। পরবর্তীতে ওঁর পরিবার মুম্বইয়ে চলে আসে। জে জে স্কুল অফ আর্টস-এ ছবি আঁকা শেখার পাশাপাশি পণ্ডিত কেশবরাও ভোলে ও ওস্তাদ খান আবদুল রহমান খানের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন তিনি। ১৯৫৪ সালে মঙ্গু এবং শুক্রাচী চাঁদনী ছবির মাধ্যমে প্লে-ব্যাকে ওঁর পথচলা শুরু।
সুমন কল্যাণপুরের কণ্ঠস্বরের গঠন এবং মিষ্টত্ব কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে এতটাই মিলে যেত যে, সাধারণ শ্রোতারা তো বটেই, অনেক সময় রেডিও সিলনের ঘোষকরাও ভুল করে বসতেন। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে এই কণ্ঠের মিল অনেক সময় ওঁর কেরিয়ারে বাধা তৈরি করলেও, ১৯৬০-এর দশকে লতা-রফিজির মৃদু দূরত্বের সময়ে রফিজির সঙ্গে ওঁর জুটি রাজত্ব করেছিল টলিপাড়া থেকে বলিপাড়ায়। আজকালের তেরে মেরে পেয়ার কে চর্চে, রাহেঁ না রাহেঁ হাম, না না করতে পেয়ার, না তুম হামেঁ জানো কিংবা আজহু না আয়ে বালমা-র মতো অজস্র অমর গান উপহার দিয়েছেন তিনি। হিন্দি ও মারাঠির পাশাপাশি বেশ কিছু বাংলা ছবিতেও চমৎকার প্লে-ব্যাক করেছিলেন এই বহুভাষী শিল্পী।
শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক ও সঙ্গীত মহল, শেষ হলো এক সোনালী পর্ব
সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণের খবর সামনে আসতেই শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্টজনেরা। বর্ষীয়ান রাজনীতিক শরদ পওয়ার গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণের খবরটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ওঁর সুমিষ্ট এবং মন ছুঁয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর ভারতীয় সঙ্গীতের জগতকে সমৃদ্ধ করেছিল। হিন্দি, মারাঠি ও আঞ্চলিক ভাষার ওঁর অমর গানগুলো যুগের পর যুগ মানুষের মনে রাজত্ব করবে। ওঁর প্রয়াণে ভারতীয় মার্গ ও লঘু সঙ্গীতের একটি সোনালী যুগের অবসান হলো।
১৯৫৮ সালে ব্যবসায়ী রামানন্দ কল্যাণপুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর সুমন হেম্মাদী থেকে তিনি সুমন কল্যাণপুর নামে পরিচিত হন। বর্তমানে তিনি ওঁর একমাত্র কন্যা চারু অগ্নির পরিবারকে রেখে গেলেন। সুরের এই নিঃশব্দ বিদায় টিনসেল টাউনকে আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, ভারতীয় চলচ্চিত্রের মেলোডি যুগের শেষ স্তম্ভগুলো একে একে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


