স্রেফ একটি শব্দের ভুলেই প্রাণ যেত অভিনেতার! হৃতিকের ‘মিশন কাশ্মীর’-এর শ্যুটিংয়ে কী ঘটেছিল?
২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা 'মিশন কাশ্মীর'-এর শ্যুটিং সেটের এক রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা উঠে এল। বিধু বিনোদ চোপড়ার একটি মাত্র শব্দের ভুলেই সেদিন প্রাণ যেতে পারত অভিনেতার। কাশ্মীরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শ্যুটিং করা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন পরিচালক।
রুপোলি পর্দায় কাশ্মীরকে আমরা স্বর্গ হিসেবে দেখি, কিন্তু সেই স্বর্গের অন্দরেই যে কত বড় বিপদ ওৎ পেতে থাকে, তা টের পেয়েছিলেন পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়া। ২০০০ সালে ‘মিশন কাশ্মীর’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন স্রেফ ‘শ্যুটিং’ শব্দের ভুল ব্যাখ্যার জেরে পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ছবির অভিনেতা। প্রাণ সংশয়ের সেই মুহূর্ত আজও ভুলতে পারেন না পরিচালক।

কী ঘটেছিল সেই দিন?
বিধু বিনোদ চোপড়া একটি সাক্ষাৎকারে জানান, কাশ্মীরের রাস্তায় এক জঙ্গির পালানোর দৃশ্য শ্যুট করা হচ্ছিল। পরিচালকের হাতে তখন দুটি ওয়াকি-টকি ছিল— একটি তাঁর ইউনিটের সাথে যোগাযোগের জন্য এবং অন্যটি পুলিশের। সেই সময় কাশ্মীরের সচিবালয়ে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে গোটা উপত্যকায় লাল সতর্কতা জারি ছিল।
‘শ্যুটিং’ বনাম ‘গুলিচালনা’:
বিভ্রান্তি ছড়ায় একটি শব্দকে কেন্দ্র করে। পরিচালক যখনই ওয়াকি-টকিতে তাঁর ক্রু মেম্বারদের বলতেন ‘শ্যুটিং’ শুরু করার কথা, পুলিশ মহলে খবর যেত যে কোথাও ‘গুলিচালনা’ (Firing) শুরু হয়েছে। বিধু বিনোদ বলেন, ‘আমি যতবারই শ্যুটিং শব্দটা বলছিলাম, পুলিশ ভাবছিল কোথাও সত্যিকারের জঙ্গি হামলা হচ্ছে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হলেই পুলিশ আমার অভিনেতাকে গুলি করে দিত, কারণ সে দেখতেও ছিল হুবহু জঙ্গিদের মতো!’
তৎক্ষণাৎ প্যাক-আপ:
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরিচালক আর ঝুঁকি নেননি। কেন শ্যুটিং বন্ধ করা হচ্ছে, তা তখন ইউনিটের কাউকে না জানিয়েই তিনি দ্রুত প্যাক-আপের নির্দেশ দেন এবং সবাইকে নিয়ে ওই এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান। অভিনেতা হৃতিক রোশন তখন কেবল কেরিয়ার শুরু করেছেন, তাঁর ও গোটা টিমের প্রাণ সেদিন স্রেফ উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই বেঁচে গিয়েছিল।
বক্স অফিসে সাফল্যের রেকর্ড:
বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে শ্যুট করা হলেও ‘মিশন কাশ্মীর’ বক্স অফিসে ইতিহাস তৈরি করেছিল। ২০ কোটি বাজেটের এই সিনেমা ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। হৃতিক রোশন ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন সঞ্জয় দত্ত, প্রীতি জিন্টা এবং জ্যাকি শ্রফ। সিনেমার দুর্দান্ত লোকেশন আর টানটান উত্তেজনা আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


