ছিন্নমস্তা সাজে কুৎসিত কাজ! পশ্চাৎদেশ দেখানো নৃত্যশিল্পী ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্টেও
কদিন ধরেই চর্চার কেন্দ্রে রয়েছেন নৃত্যশিল্পী দেবরাজ চৌধুরী। তিনি একসময় ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্টে ভাগ নিয়েছিলেন। এমনকী, ফাইনাল অবধিও পৌঁছেছিলেন। তবে তাঁর চুল সরিয়ে নিতম্ব প্রদর্শনে বিরক্ত সেই সময়কার তাঁর টিমমেট-ও। লিখেছেন তা ফেসবুকেও।
কদিন আগে একটি নাচের ভিডিয়ো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়েছিল মারাত্মক জলঘোলা। যেখানে স্টেজে ‘মহাবিদ্যা’-র একটি পারফরমেন্স চলছিল। আর সেটা চলাকালীন ছিন্নমস্তার সাজে থাকা এক নৃত্যশিল্পী তাঁর খোলা চুল সরিয়ে নিতম্ব প্রদর্শন করেন। আর তারপরই রীতিমতো ক্ষেপে লাল হয় বড় এক অংশ। এটি আয়োজন করা হয়েছিল ‘নিত্যা’ নামে একটি প্রযোজনা সংস্থার তরফে। আর সেদিন স্টেজে ছিন্নমস্তার সাজে কোনো মহিলা ডান্সার নন, ছিলেন দেবরাজ চৌধুরী।

স্বাভাবিকভাবেই কিছুদিনের মধ্যে সামনে আসে দেবরাজের পরিচিতি। অর্থাৎ সেদিন ছিন্নমস্তা হয়েছিলেন তিনি। এমনকী, চুল সরিয়ে নিতম্ব প্রদর্শনের সেই ‘জঘন্য কাজ’টি করেছিলেন তিনিই। বিতর্ক বাড়তে ফেসবুকে লাইভে আসেন দেবরাজ। তিনি জানান যে, রীতিমতো খুনের হুমকি পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বারংবার ক্ষমা চান নিজের কাজের জন্য। এটাও জানান যে, হিট অফ দ্য মোমেন্ট করে ফেলেছেন তিনি।
অনেকেরই অজানা দেবরাজ চৌধুরী ভাগ নিয়েছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়াজ গট ট্য়ালেন্ট’-এ। এমনকী ফাইনাল অবধি পৌঁছেছিলেন। রেনবো ডান্স গ্রুপের অংশ ছিলেন তিনি।
রেনবো ডান্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নৃত্যশিল্পী রাত্রি দাস সম্প্রতি ফেসবুকে মুখ খুলেছেন দেবরাজকে নিয়ে। তাঁর ক্ষমা চাওয়ার ভিডিয়োটি শেয়ার করে লেখেন, ‘তোকে আমি সবসময় ভালো সাজেশন দিয়ে এসেছি। পোস্টার সামনে আসার পরও তোকে বলেছিলাম। কারণ এই জায়গাটা আমি কাটিয়ে উঠেছি। শো-এর দিনও বলেছিলাম কিন্তু কেউ কথা শুনিসনি। আমি হয়তো খুব খারাপ, কিন্তু তোদের কোনোদিন খারাপ চাইনি। আজকে যা হচ্ছে বা যা কষ্ট পাচ্ছিস এটার কী খুব দরকার ছিল। শক্ত থাক। ভুল স্বীকার করার দরকার ছিল, আমি সেটাও তোকে সবার আগে বলেছিলাম। কারণ ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয় না। তোর ডান্সকে সবসময় ভালোবাসি, আমার জন্য করা তোর সব কাজকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এই ভুলটা না করলেও পারতিস, তুই জানতিস এই ঝড় সব শেষ করে দেবে। কথা শুনলি না।’
এদিকে দেবরাজের করা এই ‘ভুল’ নিয়ে কার্যত নিজেদের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলেছে ‘NITYA_faculty_of_sight’। ফেসবুকের একটি পোস্টে তাদের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘উক্ত নৃত্যপরিবেশনার কোরিওগ্রাফি, নৃত্যভঙ্গি ও উপস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট শিল্পীর নিজস্ব চিন্তাধারা ও সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ফল। আমাদের পক্ষ থেকে শিল্পীকে শুধুমাত্র নির্ধারিত স্ক্রিপ্ট ও অডিয়ো প্রদান করা হয়েছিল, যা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা যথাযথভাবে প্রদান করেছি। এছাড়াও, রিহার্সালের সময় আমাদের নির্ধারিত কস্টিউম পরিধান করে রিহার্সাল করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত প্রদর্শনীর সময় সংশ্লিষ্ট শিল্পী কী ধরনের পোশাক পরিধান করবেন, সে বিষয়ে আমাদের আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা অনুমতি চাওয়া হয়নি। চূড়ান্ত মঞ্চে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনির্ধারিত পোশাকে তাঁকে উপস্থিত হতে দেখে আমরা নিজেরাও বিস্মিত হয়েছি।’
‘সংশ্লিষ্ট সকল শিল্পীই অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নৃত্যশিল্পী। তাঁদের নিজস্ব পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার উপর আস্থা রেখেই তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তাই দলের অগোচরে, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্তে এমন পোশাক ও উপস্থাপনা করা হবে—এমনটা আমরা কখনোই প্রত্যাশা করিনি। …যা ঘটেছে তার জন্য নিত্যা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। দর্শকবৃন্দ ও শিল্পীমহলের অনুভূতি এবং অনুষ্ঠানের মর্যাদার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে, সংশ্লিষ্ট শিল্পীর ব্যক্তিগত ও অনির্ধারিত পোশাক নির্বাচন এবং সেই অনুযায়ী মঞ্চে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত দলের পূর্বানুমোদিত বা পরিকল্পিত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। অতএব, সেই নির্দিষ্ট প্রদর্শনীর সম্পূর্ণ দায়ভার নিত্যা বা আয়োজক দলের উপর বর্তায় না।’
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


