Vivek Agnihotri: ভোটে মমতা হারতেই মুখ খুললেন বিবেক, মনে করালেন ‘বেঙ্গল ফাইলস’-র নিষিদ্ধকরণের কথা

Vivek Agnihotri reaction on Mamata Banerjee: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, বিবেক অগ্নিহোত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর পুরনো ক্ষোভ নিয়ে টুইট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' সেখানে মানুষকে দেখিয়েছিলেন।

May 5, 2026, 13:42:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Vivek Agnihotri reaction on Mamata Banerjee: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ক্ষমতা সরে যেতেই চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী হলেন সরব। বিজেপি-র বিপুল জয় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর, বিবেক বাংলাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর পুরনো তিক্ততা উস্কে দিয়েছেন।

ভোটে মমতা হারতেই মুখ খুললেন বিবেক
ভোটে মমতা হারতেই মুখ খুললেন বিবেক

৫ মে বিবেক একটি টুইট করেছেন, যেখানে 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' এবং 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'-এর উপর নিষেধাজ্ঞার কথা স্মরণ করে মমতা সরকারের উপর সরাসরি নিশানা করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে মমতা সরকার কীভাবে ছবিটি মুক্তি আটকাতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছিল। শুধু তাই নয়, বিবেক এও জানিয়েছেন যে এতকিছুর পরেও তিনি গোপনে মানুষকে ছবিটি দেখিয়েছিলেন।

মমতা কর্তৃক নিষিদ্ধ ছবি নিয়ে বিবেক-এর সর্বশেষ টুইটে তিনি লেখেন, 'আবার কখনও নয়'। যারা জানেন না তাদের জন্য বলি, 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' মুক্তির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় আমাকে বয়কট করেছিলেন। ছবিটি সিনেমা হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বলেছিলেন যে আমাকে বাংলায় পা রাখতে দেওয়া হবে না। গত বছর, তিনি পশ্চিমবঙ্গে 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'-এর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ আটকে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের উপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং মারধর করা হয়েছিল।

'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' নিয়ে বিবেক আরও লেখেন, 'আমার বিরুদ্ধে ডজনখানেক এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। বাংলায় আমাকে সম্পূর্ণভাবে বয়কট করা হয়েছিল। এমনকি আমি রাজ্যপালের কাছ থেকে আমার পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি। কিন্তু আমরা কখনও হার মানিনি। এই নির্বাচনের সময়, আমরা নিশ্চিত করেছি যে 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' বাংলার সর্বত্র (গোপনে) বেশি বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আমি আনন্দিত যে আমরা মাথা নত করিনি এবং আমাদের ক্ষুদ্র উপায়ে আমাদের লড়াই চালিয়েছি। এবং অবশেষে... এই দুর্দান্ত জয় এসেছে। বাংলার মহান জনগণকে অনেক অনেক অভিনন্দন। এখন আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন।'

ভোট পরবর্তী সময়ে বিবেক পুরনো ভিডিয়ো আপলোড করেন, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায় 'পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জি, এই ভিডিওটি আপনার জন্য। আমাদের ছবি 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে কিন্তু সবার ধারণা যে পশ্চিমবঙ্গে এটি নিষিদ্ধ করা হবে। আমি থিয়েটার মালিকদের কাছ থেকে শুনছি যে যদি নিষিদ্ধ নাও হয়, তবে তাদের উপর এত রাজনৈতিক চাপ রয়েছে যে এটি দেখানোর জন্য তাদের অনেক বড় মূল্য চোকাতে হবে এবং তারা এটি দেখাতে ভয় পাচ্ছে। এই ভয়েই তারা ১৬ আগস্ট আমাদের ট্রেলারও দেখায়নি। আমরা যখন এটি একটি প্রাইভেট হোটেলে দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম, তখন আপনার পুলিশ এসে কোনও 'বিশেষ' কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।

বেদনাদায়ক অধ্যায় বাংলা

বিবেক এই ভিডিয়োয় আরও বলছেন, 'আপনার দলের কর্মীরা ক্রমাগত এই ছবিটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন। আমাদের বিরুদ্ধে অনেক এফআইআর রয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই। তাই আমি আপনার কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি যে এই ছবিটি শান্তিপূ্র্ণভাবে বাংলায় মুক্তি পেতে দিন। আমি বলছি কেন - কারণ আপনি ভারতের সংবিধানের শপথ নিয়েছেন। এই ছবিটি সিবিএফসি দ্বারা অনুমোদিত। তাই এই ছবিটি শান্তিপূ্র্ণভাবে মুক্তি দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া আপনার সাংবিধানিক কর্তব্য। দ্বিতীয়ত, ভারত এমন একটি দেশ যা দীর্ঘকাল ধরে নির্যাতিত হয়েছে এবং কেবল ভূমি নয়, আত্মারও দাসত্ব করেছে। ১২০০ বছর ধরে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ধর্ম, আমাদের শিল্পকলা, স্থাপত্যকে ধ্বংস ও বিকৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং বেদনাদায়ক অধ্যায় হল বাংলার, যেখানে হিন্দু গণহত্যা হয়েছিল। তা না হলে হয়তো ভারতের বিভাজন হত না।'

বিবেক এই ভিডিওতে তাঁর ছবির সমর্থনে অনেক কথা বলেছেন। একই সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছেন যে ছবিটি নিষিদ্ধ না করে বরং এটি দেখার জন্য। বিবেক বলন, 'যদি আপনার মনে হয় যে হিন্দু গণহত্যার বিষয়ে কথা বলা অপরাধ, তবে আমি দোষী। আপনি সরকার এবং আমি 'আমরা জনগণ'-এর একজন সাধারণ নাগরিক। আপনি যদি চান আমাকে শাস্তি দিতে পারেন। বন্দে মাতরম।'