'মানুষের দেওয়া ভোটই কি রেজাল্টে আসবে?' ভিভিপ্যাট কাণ্ডে সংশয়ে রূপা-জ্যাকরা
ভোটের ফল ঘোষণার আগে উত্তর ২৪ পরগনার রাস্তায় ভিভিপ্যাড স্লিপ ছড়িয়ে থাকার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ‘মক পোল’ তত্ত্ব আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন টলিপাড়ার তারকারা। দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য (জ্যাক) স্বঘোষিত বামপন্থী। তাঁর মনে প্রশ্ন, বামেরা কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার?
গণতন্ত্রের উৎসবে কি তবে কোথাও ঘুণ ধরেছে? উত্তর ২৪ পরগনার রাস্তায় গড়াগড়ি খাওয়া ভিভিপ্যাড স্লিপের ছবি দেখে এখন এমনই এক আশঙ্কায় ভুগছেন অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য। নির্বাচন কমিশন সেগুলোকে ‘মক পোল’-এর কাগজ বলে দাবি করলেও, রূপার মনে দানা বেঁধেছে গভীর অবিশ্বাস। তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টটি কেবল একটি অভিযোগ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক দর্পণ।

মন থেকে দেওয়া ভোটের মর্যাদা কোথায়?
রূপা তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, 'মানুষ স্বাধীনভাবে মন থেকে যে ভোট দিয়েছে, রেজাল্ট সেটাই আসবে তো?” এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ ভোটারের মনের লুকানো সংশয়। যখন ভোটের পবিত্র নথি নর্দমার ধারে পড়ে থাকে, তখন ব্যালট বক্স বা ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি খুব অস্বাভাবিক? রূপার স্পষ্ট কথা, এই অনিশ্চয়তার পরিবেশই গণতন্ত্রের আসল শত্রু।
অসৎদের ভিড়ে সতের লড়াই:
নিজের পোস্টে রূপা আরও এক তিক্ত সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অসৎরা সবসময় দলে ভারী, তাই সৎভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়াটাই আসল লড়াই।’ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম না নিলেও, তাঁর নিশানায় যে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবক্ষয়, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। সংখ্যাতত্ত্বের জোরে বা পেশ পেশীশক্তির দাপটে ‘অসৎ’রা হয়তো জিততে পারে, কিন্তু ‘সৎ’ মানুষের হার না মেনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকেই শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দিয়েছেন অভিনেত্রী।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি:
এই ঘটনার ছবি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রাস্তায় পড়ে থাকা এই কাগজগুলো বামপ্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে পড়া ভোটের সাক্ষ্য বহন করছে। তাঁর অভিযোগ, বাম প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কমিশনের সাফাই ও জনরোষ:
বিতর্ক দানা বাঁধতেই মুখ খুলেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO)। তাঁদের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ওই স্লিপগুলো নির্বাচনের আগের ‘মক পোল’-এর অংশ, আসল ভোট গ্রহণের দিন বা প্রকৃত ভোটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন যেখানে অনুত্তরিত:
কমিশন একে ‘মক পোল’ বলে দায় সারতে চাইলেও নেটিজেনদের মনে উঁকি দিচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। অভিনেতা দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য (জ্যাক) প্রশ্ন তুলেছিলেন, সমস্ত কেন্দ্রের মক পোল কি এক জায়গাতেই হয়েছিল? যদি এগুলো কেবলই মক পোলের কাগজ হয়, তবে সেগুলো সঠিক পদ্ধতিতে নষ্ট না করে রাস্তায় এভাবে কেন ফেলে রাখা হলো, সেই ‘ভুল’ নিয়েও উঠছে ধিক্কার।
জ্যাকের সেই যৌক্তিক প্রশ্নের পর রূপার এই আবেগঘন ও বিশ্লেষণধর্মী পোস্টটি নেটপাড়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভোটের ফল যাই হোক না কেন, রূপার এই ‘সংশয়’ এবং ‘সৎ লড়াই’-এর আহ্বান যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, টলিপাড়া আর কেবল রূপালি জগতের গ্ল্যামারে আবদ্ধ নেই; সমাজের অসংগতি নিয়ে কথা বলতে তাঁরা এখন দ্বিধাহীন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


