Sreelekha-Rituparna: টাইট বেগুনি গাউনে ‘নিঃশ্বাস আটকে’ পোজ ঋতুপর্ণার, চরম ট্রোলিং; আয়না দেখার খোঁচা শ্রীলেখার!
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে শ্রীলেখা মিত্রর সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়, তা কারুর অজানা নয়। ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে এবার নাম না করেই ঋতুপর্ণাকে পোশাক-খোঁটা দিলেন শ্রীলেখা।
টলিউড এবং সমাজমাধ্যমের পাতায় ট্রোলিং যেন বিনোদনের এক নিত্যনৈমিত্তিক অঙ্গ। বিশেষ করে প্রথম সারির তারকাদের পোশাক বা লাইফস্টাইল নিয়ে কাঁটাছেড়া করতে ওস্তাদ নেটিজেনরা। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন টলিউডের এভারগ্রিন কুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। নিজের সদ্য় মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘নেভার মাইন্ড’ ছবির প্রিমিয়ারে হাজির হয়ে নিজের পোশাকের চয়ন নিয়ে তীব্র ট্রোলিংয়ের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী। আর ঠিক এই গরম আবহাওয়ার মাঝেই ঘি ঢাললেন টলিপাড়ার ‘ঠোঁটকাটা’ এবং স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। নাম না করে ঋতুপর্ণাকে এক হাত নিলেন তিনি।

শ্রীলেখার এই ইঙ্গিতপূর্ণ সামাজিক পোস্টের পর টলিপাড়ার ভেতরের ঠান্ডা যুদ্ধ যে আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য। ঋতুপর্ণার সঙ্গে শ্রীলেখার সম্পর্ক যে আদায়-কাঁচকলায় তা কারুর অজানা নয়।
‘নেভারমাইন্ড’ প্রিমিয়ারে গাউন বিভ্রাট! ট্রোলড ঋতুপর্ণা
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নতুন সিনেমা ‘নেভারমাইন্ড’ (Nevermind)-এর জমকালো প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে। সেখানে একটি ওয়েস্টার্ন লং গাউন পরে হাজির হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তবে রেড কার্পেটে পা রাখা মাত্রই বিপত্তি। পাপারাৎজি ও ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে গিয়ে নিজের পোশাক নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় অভিনেত্রীকে।
এই ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ট্রোলের বন্যা বয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেন, যে পোশাক পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা যায় না, তা জোর করে পরার কী মানে? কেউ কেউ আবার ওঁর ফ্যাশন সেন্স নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেন। কেউ আবার বয়স নিয়ে ঋতুপর্ণাকে খোঁচা দেন। কারুর কারুর মতে, ‘নিঃশ্বাস আটকে ভুঁড়ি লুকানোর চেষ্টা’ করছেন অভিনেত্রী।
‘সন্দেহ হলে আয়না দেখুন’— ঋতুপর্ণাকে নাম না করে শ্রীলেখার তির্যক খোঁচা
ঋতুপর্ণার এই পোশাক বিভ্রাট এবং ট্রোলিংয়ের খবর চাউর হতেই আসরে নামেন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বরাবরই যেকোনো বিষয়ে সোজা কথা পষ্ট করে বলতে ভালোবাসেন। এবারও তিনি কারুর নাম নেননি, তবে ওঁর পোস্টের প্রতিটি শব্দ যে ঠিক কার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া, তা বুঝতে বাকি নেই নেটিজেনদের।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি তীক্ষ্ণ পোস্ট করে শ্রীলেখা লেখেন, ‘পোশাক আপনার পরা উচিত, এমনটা হওয়া উচিত নয় যে পোশাকই আপনাকে দমিয়ে দিচ্ছে বা আপনার ওপর চেপে বসছে। মনে কোনো সন্দেহ থাকলে অবিলম্বে একটা বড় আয়না দেখে নেওয়া উচিত। অবশ্য বলে রাখি, আমি এখানে কাউকে বডি শেমিং বা এজ শেমিং করছি না।’
শ্রীলেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কারও বয়স বা শারীরিক গঠন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করছেন না, কিন্তু এমন পোশাক পরা উচিত যা ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে, অস্বস্তিতে ফেলে দেয় না। ‘ফুল সাইজ আয়না’ দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি যে পরোক্ষভাবে ঋতুপর্ণার ফ্যাশন চয়েসকেই তুলোধোনা করলেন, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই স্টুডিও পাড়ায়। পোস্টের কমেন্ট বক্সে এক জনৈকা লেখেন,
৩. টলিপাড়ার পুরনো শত্রুতা বনাম পেশাদারিত্ব
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং শ্রীলেখা মিত্রের এই মন কষাকষি কিন্তু আজ নতুন নয়। এর আগেও টলিউডের স্বজনপোষণ বিতর্ক, প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির একাধিপত্য নিয়ে মুখ খুলেছিলেন শ্রীলেখা। বিমান কাণ্ড থেকে শুরু করে ইডি-র তলব— ঋতুপর্ণার জীবনের যেকোনো বিতর্কিত অধ্যায়েই নাম না করে সোশ্যালে তোপ দেগেছেন শ্রীলেখা। এবারও ঋতুপর্ণার পোশাকের অস্বস্তিকে হাতিয়ার করে শ্রীলেখা যেভাবে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার চেষ্টা করলেন, তাতে টলিপাড়ার এই দুই সমসাময়িক অভিনেত্রীর পুরনো তিক্ততা আরও একবার প্রকাশ্য দিবালোকে চলে এল। তবে এই ট্রোলিং ও খোঁচা নিয়ে হবু ‘নেভারমাইন্ড’ ছবির টিম বা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নিজে এখনও কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেননি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


