Mausumi Chatterjee: ‘সন্তানের বাবা বিনোদ মেহরা?’ পরকীয়ার অভিযোগ করেন সহ-অভিনেতা, যোগ্য জবাব মৌসুমীর
‘সন্তানের বাবা কি স্বামীর বন্ধু?’ পরকীয়ার অভিযোগ করেন রাজেশ খন্না, কড়া জবাব দিয়েছিলেন বাঙালি নায়িকাও
বাঙালি কন্যে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় বলিউড সিনেমাতে একসময় একচেটিয়া রাজত্ব করেছিলেন। অল্প বয়সে কিংবদন্তি গায়ক হেমন্ত কুমারের পুত্র জয়ন্ত মুখার্জীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং প্রায় আকস্মিকভাবেই তিনি সিনেমায় পা রাখেন। ১৯৭২ সালে শক্তি সামন্ত পরিচালিত 'অনুরাগ' ছবির মাধ্যমে তাঁর ডেবিউ। এই সিনেমায় মৌসুমী এক অন্ধ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

১৯৭৪ সালে ‘হামশাকাল’-এর সেটে রাজেশ খান্নার সঙ্গে যখন তাঁর দেখা হয়, ততদিনে তিনি বলিউডে শক্ত করেছেন নিজের পায়ের তলার জমি। পর্দায় রাজেশ ও মৌসুমির মধ্যে ছিল অসাধারণ রসায়ন। কিন্তু পর্দার বাইরে সেভাবে সুন্দর ছিল না তাঁদের সম্পর্ক। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজেশ খান্নাকে নিয়ে মৌসুমী বলেছিলেন, ‘ও ছিল এক বিগড়ে যাওয়া ছেলে। সাফল্য সবসময় ওর মাথায় চড়ে যেত।’
এমনকী মৌসুমী জানিয়েছিলেন যে, একটি ছবির শুটিং করার সময়, রাজেশ খান্না প্রেগন্য়ান্ট মৌসুমীর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘এটা কি বিনোদ মেহরার সন্তান?’ আসলে মৌসুমী ও বিনোদ মেহরা একসঙ্গে ১০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছিল। এমনকী, দুই তারকার সম্পর্কের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে রাজেশ খান্নার এই প্রশ্নে কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন মৌসুমী।
মৌসুমীসেই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রাজেশ খান্না অনেকবার নোংরা খেলা খেলেছেন। হ্যাঁ, আমিও ওকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিলাম। আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম— 'ডিম্পলের সন্তান কি ঋষি কাপুরের সন্তান, নাকি তোমার'?’
তবে পুরনো খারাপলাগা মন থেকে মুছে ফেলেছিলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। শেষ দিনগুলিতে রাজেশ খান্নার সঙ্গেও দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন— ‘আজ তিনি আর নেই। আমি তাঁর শেষ সময়েও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি আমার ছোট মেয়ের সামনেই আমার প্রশংসা করছিলেন। তিনি ওকে বলেছিলেন, তোর মা পাগল ছিল কিন্তু আমরা সবাই ওকে ভয় পেতাম। ও কোনো আজেবাজে কথা একেবারে পাত্তা দিত না।’
২০১২ সালের জুলাই মাসে মারা যান রাজেশ খান্না। মৃত্যুর আগে প্রায় একাকী কেটেছিল অভিনেতার জীবন। মৌসুমীর কাছে তাই যখন প্রশ্ন করা হয়, প্রয়াত অভিনেতার একাকীত্বের জন্য তাঁর করুণা হয় কি না, মৌসুমী একটি শব্দ বলেন— ‘কর্মফল’।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


