Sanjukta Banerjee: তিনি বাংলা টেলিভিশনের OG মহিষাসুরমর্দিনী! কেটেছে ৩২ বছর, সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কোথায়?
বাংলার মাটি থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে নিঃশব্দে নৃত্যের সাধনা করে যাচ্ছেন সংযুক্তা। কানাডার টরেন্টোতে থাকেন তিনি।
প্রযুক্তির ঝাঁ-চকচকে সেট বা চোখধাঁধানো গ্রাফিক্স— নব্বইয়ের দশকে দূরদর্শনের মহালয়ার মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এসবের কিছুই ছিল না। কিন্তু যা ছিল, তা আজও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন। নয়ের দশকে মহালয়ার ভোরে দূরদর্শনের পর্দায় বীরেন ভদ্রের চণ্ডীপাঠ ও উদয় শঙ্করের ঘরানার ঐতিহ্যবাহী নাচের মাঝে দূরদর্শনের দুর্গা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে যে মুখটি, তিনি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দূরদর্শনে দশভুজা রূপে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল এবং তিনিই দূরদর্শনের ইতিহাসে সবথেকে বেশি বার দুর্গার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

কীভাবে শুরু হয়েছিল নৃত্যকলা ও দুর্গা সাজা?
সংযুক্তার ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি এক গভীর টান ছিল। প্রথমে লোকনৃত্য ও কত্থক শিখলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী যামিনী কৃষ্ণমূর্তির অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েই ভরতনাট্যমের প্রেমে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে গুরু গোবিন্দন কুট্টি ও থাঙ্কমণি কুট্টির ‘কলামণ্ডলম্’ নাচের স্কুলে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নেন।
১৯৯৪ সালে শ্রী শিক্ষায়তন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী থাকাকালীন দূরদর্শনের কর্মকর্তারা কলামণ্ডলমে আসেন মহালয়ার জন্য শিল্পী নির্বাচন করতে, আর সেখানেই দশভুজা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সংযুক্তাকে।
কঠিন সাধনা ও নিষ্ঠার গল্প:
পর্দায় মা দুর্গা হয়ে ওঠা মোটেও সহজ ছিল না। ফাইটমাস্টারের কাছে অস্ত্র চালনা ও মহিষাসুরের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্য নিখুঁত করতে চলত দিনভর ওয়ার্কশপ। শ্যুটিংয়ের দিনগুলোতে তিনি হবিষ্য়ি বা সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করতেন এবং আধ্যাত্মিক ভাব মননে ধরে রাখতেন। এমনকি মাটির তৈরি ভারী আটটি অতিরিক্ত হাত শরীরে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্যুটিং করতে হতো, যার ফলে পিঠে কালসিটেও পড়ে যেত— কিন্তু মুখের অটুট রূপ ও নাচের নিখুঁত মুদ্রায় তার লেশমাত্র বুঝতে দিতেন না তিনি।

এখন কোথায় আছেন সংযুক্তা?
আজ বিনোদন জগৎ ও গ্ল্যামারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন সংযুক্তা। বিয়ের পর দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি প্রবাসী। কানাডার টরন্টোতে বসবাস করার পাশাপাশি তিনি নৃত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। দেশের মাটি থেকে দূরে থাকলেও নাচের সাধনা অটুট। বহু ছাত্রছাত্রীকে ভরতনাট্যম শিখিয়ে চলেছে। প্রচার থেকে দূরে থাকলেও আজও বিদেশের শারদোৎসবে দশভুজা রূপে নাচের আর্জি সবথেকে বেশি আসে তাঁর কাছেই। নিঃশব্দে এখনও নাচকেই নিজের প্রাণের সঙ্গী করে জীবন কাটাচ্ছেন দূরদর্শনের সেই জনপ্রিয় ‘দুর্গা’।

সংযুক্তার পুত্র ঋতিষ্মান ইতিমধ্যেই মায়ের কাঁধ ছাপিয়েছে। মাস কয়েক আগে সংযুক্তা জানিয়েছিলেন, তাঁর পুত্র গ্রেড ১২-এ গড়ে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে সাফল্য অর্জন করে ‘ওন্টারিও স্কলার’ খেতাব পেয়েছেন।
এর সাথে রীতীশমান সম্পন্ন করেছেন SHSM (ICT) প্রোগ্রাম। এই স্পেশালিস্ট হাই স্কিলস মেজর প্রোগামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তরেই ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ICT), কোডিং, ডিজিটাল মিডিয়া, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এবং আধুনিক টেকনোলজির ওপর প্র্যাক্টিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জ্ঞান অর্জন করে থাকে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


