Lucky Ali: ‘বাবা চলে যাওয়ার পর আর কেউ আপন ছিল না!’ মেহমুদের মৃত্যুর পর কেন বলিউড ছাড়েন লাকি আলি?

‘এক পল কা জিনা’ খ্যাত তারকা গায়ক লাকি আলি কেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও বলিউড ছেড়েছিলেন, তা নিয়ে মুখ খুললেন।

Published on: Jun 19, 2026, 10:00:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

‘কহো না... পেয়ার হ্যায়’ ছবির ‘এক পল কা জিনা’ কিংবা ‘তামাশা’ ছবির ‘সফরনামা’— নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ শ্রোতারা, তিনি হলেন ইন্ডি-পপ এবং বলিউডের আইকনিক গায়ক লাকি আলি (Lucky Ali)। ১৯৯৬ সালের স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস, ১৯৯৭-এর চ্যানেল ভি ভিউয়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড থেকে শুরু করে ২০০১ সালে ‘বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার’ হিসেবে ফিল্মফেয়ার জয়— কেরিয়ারে সাফল্যের চূড়ায় থাকা সত্ত্বেও এক সময় বলিউড থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব তৈরি করে নেন তিনি।

‘বাবা চলে যাওয়ার পর আর কেউ আপন ছিল না!’ মেহমুদের মৃত্যুর পর কেন বলিউড ছাড়েন লাকি আলি? খোলসা করলেন গায়ক নিজেই
‘বাবা চলে যাওয়ার পর আর কেউ আপন ছিল না!’ মেহমুদের মৃত্যুর পর কেন বলিউড ছাড়েন লাকি আলি? খোলসা করলেন গায়ক নিজেই

অনেকেই মনে করতেন ইন্ডাস্ট্রির নেপোটিজম বা নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে তিনি সরে গেছেন। তবে এক সাক্ষাৎকারে লাকি আলি নিজেই খোলসা করলেন, কেন বাবা তথা বলিউডের কিংবদন্তি কমেডিয়ান মেহমুদ (Mehmood)-এর মৃত্যুর পর তিনি মায়ানগরী মুম্বই এবং বলিউডকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছিলেন।

‘ইন্ডাস্ট্রি নোংরা ছিল না, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম’

বলিউড থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কারণ স্পষ্ট করে লাকি আলি জানান, কোনো ক্ষোভ বা বিষাক্ত পরিবেশের কারণে তিনি সরেননি। তাঁর কথায়, ‘হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমি কোনো টক্সিসিটির (Toxic) কারণে নিইনি। আসল কথা হলো, আমি ভীষণ ক্লান্ত ও তঙ্গ হয়ে পড়েছিলাম। আমি নিজের মতো করে গান গাইতে চেয়েছিলাম। যখন আমি স্বাধীনভাবে গান গাওয়ার স্বাধীনতা পেলাম, তখনই ‘ও সনম’-এর মতো গান তৈরি হয়েছিল। ২০১৫ সালে আমি নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিই। হ্যাঁ, আমার সাথে কিছু মানুষের ব্যবহার খারাপ ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি ভয় পেয়ে পালাইনি, আমি জাস্ট বোর হয়ে গিয়েছিলাম।’

‘বাবা চলে যাওয়ার পর আর কোনও আপন মানুষ ছিল না’

লাকি আলির জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল তাঁর বাবা, বিখ্যাত অভিনেতা মেহমুদের চলে যাওয়া। যখন মেহমুদ মারা যান, তখন লাকি নিজের চিকিৎসার জন্য আমেরিকার পেনসিলভেনিয়াতে ছিলেন। বাবার মৃত্যুই টলিউড-বলিউডের প্রতি তাঁর মোহভঙ্গ ঘটায়।

আবেগঘন কণ্ঠে লাকি আলি বলেন, ‘বাবা (মেহমুদ) গুজর যাওয়ার পর মনে হলো ওখানে (বলিউডে) আর কিছু অবশিষ্ট নেই। না ছিল কোনো প্রকৃত বন্ধু, না ছিল কোনো আপনপন বা আন্তরিকতা। হ্যাঁ, আমি শ্যাম বেনেগালের সাথে ‘ত্রিকাল’ বা ‘ভারত এক খোঁজ’-এ কাজ করেছি। নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং ওম পুরির মতো অভিনেতাদের থেকে অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু বাবা চলে যাওয়ার পর সব ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।’

নিজের শর্তে গানের দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন

বলিউড প্লেব্যাক ছেড়ে দিলেও গানকে কখনও বিদায় জানাননি লাকি। পরবর্তীতে তিনি নিজের মিউজিক লেবেল এবং নিজস্ব চেনা স্টাইলে স্বাধীন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকে ফিরে আসেন।

প্রতিযোগিতা নিয়ে লাকি আলির দর্শন এক্কেবারে সহজ:

‘আমার জন্য কোনো কম্পিটিশন ছিল না। আমি একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝে গিয়েছিলাম— আপনি যদি সত্যিই মন থেকে ভালো এবং খাঁটি কাজ করেন, মানুষ তা শুনবেই। আর আপনি যদি বকোয়াজ বা আবর্জনা তৈরি করেন, তবে দর্শকরা আপনাকে ছুড়ে ফেলে দেবে।’

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More