Nargis and Sunil Dutt: পর্দায় মা-ছেলে! বিয়ের পর মহা বিড়াম্বনা, এক বাড়িতে থাকতে পারেননি নার্গিস-সুনীল, কতদিন জানেন?
দুজন 'মাদার ইন্ডিয়া' চলচ্চিত্রের সেটে একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং 1958 সালে বিয়ে করেন। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে, বিয়ের পর তারা দুজনেই আলাদা থাকতেন।
হিন্দি সিনেমা জগতের অন্যতম কালজয়ী ও চর্চিত প্রেমকাহিনী হলো নার্গিস এবং সুনীল দত্তের। ১৯৫০ সালে ‘দো বিঘা জমিন’-এর সেটে প্রথম দেখা এবং পরবর্তীতে কাল্ট ছবি ‘মাদার ইন্ডিয়া’-র শুটিং চলাকালীন একে অপরের প্রেমে পড়েন তাঁরা। ১৯৫৮ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও একটি বিশেষ কারণে প্রায় এক বছর নিজেদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন এবং আলাদা বাড়িতে বসবাস করতেন।

কেন আলাদা থাকতেন নার্গিস ও সুনীল দত্ত?
ছবি ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তারকা দম্পতিকে। ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির স্বার্থের কথা ভেবে নিজেদের ভালোবাসাকে দমিয়ে রাখেন তাঁরা। ‘মাদার ইন্ডিয়া’ চলচ্চিত্রে নার্গিস ও সুনীল দত্ত পর্দায় মা ও ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সিনেমা মুক্তির আগে তাঁদের বাস্তব জীবনের প্রেমের খবর জানাজানি হলে তা ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে প্রভাব ফেলতে পারতো। তাই দর্শক ও সংবাদমাধ্যমের থেকে সম্পর্কটি আড়াল রাখা জরুরি ছিল।
১৯৫৮ সালে গোপনে বিয়ে করার পর প্রায় এক বছর তাঁরা নিজ নিজ পরিবারের সাথে আলাদা বাড়িতে থাকতেন। রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে সাক্ষাৎ করতেন এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য চিঠি ও টেলিগ্রামের সাহায্য নিতেন।
১৯৫৯-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: অবশেষে ১৯৫৯ সালে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিয়ের খবর প্রকাশ করেন এবং একটি রিসেপশন পার্টির আয়োজন করে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন।
রাজ কাপুরের সাথে সম্পর্কের ইতি
সুনীল দত্তের সাথে ঘর বাঁধার আগে নার্গিস ও রাজ কাপুরের প্রেমকাহিনী নিয়ে নেটপাড়া ও বিনোদন জগতে তুমুল চর্চা ছিল। আরকে ফিল্মসের একাধিক সিনেমায় কাজ করার সময় রাজ কাপুরের প্রেমে পড়েন নার্গিস। তিনি রাজ কাপুরকে বিয়ে করে সংসার বাঁধতে চেয়েছিলেন।
রাজ কাপুর আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং স্ত্রী কৃষ্ণাকে ডিভোর্স দিতে প্রস্তুত ছিলেন না। রাজ কাপুরের এই অবস্থান বুঝতে পেরে নার্গিস নিজের স্বার্থে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
'মাদার ইন্ডিয়া' সই ও রাজ কাপুরের ধাক্কা: দীর্ঘদিন আরকে ফিল্মসে কাজ করার পর নার্গিস যখন 'মাদার ইন্ডিয়া' সই করেন, তখন রাজ কাপুর বুঝতে পারেন যে নার্গিস ওঁর জীবন থেকে চিরতরে দূরে সরে গেছেন। সুনীল দত্তের সঙ্গে সুখে সংসার করেছেন নার্গিস। তাঁদের দুই সন্তান, পুত্র সঞ্জয় দত্ত ও কন্যা প্রিয়া দত্ত।
সুনীল দত্তের আগে নার্গিস রাজ কাপুরকে হৃদয় দিয়েছিলেন। তাদের দুজনের প্রেমের গল্পটি আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে যখন তারা একসাথে অনেক ছবিতে কাজ শুরু করে। সেই সময় দু'জনেই তাদের সম্পর্কের খবরে শিরোনামে ছিলেন। রাজ কাপুর এবং নার্গিস একে অপরকে খুব ভালবাসতেন। একদিকে, নার্গিস তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং তার বাড়িতে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। একইসঙ্গে রাজ কাপুর তার স্ত্রী কৃষ্ণাকে ডিভোর্স দিতে রাজি ছিলেন না। নার্গিস যখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন, তখন তিনি রাজ কাপুরের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বছরের পর বছর ধরে আরকে ফিল্মসের ছবিতে কাজ করা নার্গিস যখন মাদার ইন্ডিয়াকে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন, তখন রাজ কাপুর বুঝতে পারেন যে এখন নার্গিস তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। এর পরে, সুনীল দত্ত নার্গিসের জীবনে প্রবেশ করেছিলেন এবং তারা দুজনেই 1958 সালে বিয়ে করেছিলেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


