Kiara Advani: গর্ভাবস্থায় দেবী, মা হতেই মোটা! সমাজের দ্বিচারিতা নিয়ে বিস্ফোরক কিয়ারা
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এবং প্রসবের পর নারী শরীরে নানান বিবর্তন আসে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নায়িকাদের মা হওয়ার পর সারাক্ষণ থাকতে হয় আতসকাঁচের তলায়। চেহারা নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হয়। সেই নিয়েই বিস্ফোরক কিয়ারা।
মা হওয়ার পর একজন মহিলার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত সমাজ কি আদৌ একজন নতুন মায়ের মানসিক ও শারীরিক ধকলটা বুঝতে পারে? এবার এই জ্বলন্ত ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মুখ খুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দিলেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণী। মা হওয়ার পর মহিলাদের ওপর সমাজ কীভাবে অকারণ প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেয় এবং রূপ নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করে— তা নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে ওঁর আসন্ন ছবি এবং পরিচালকদের উদ্দেশ্যেও এক দারুণ বার্তা দিয়েছেন কিয়ারা।

সন্তান হতেই গ্ল্যামার উধাও, শুধুই মেদ খোঁজে সমাজ!
বম্বে টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা জানান, মা হওয়ার পর এই পৃথিবীর প্রতি ওঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি পরিণত হয়েছে। ওঁর কথায়, গর্ভাবস্থায় বা প্রেগনেন্সির সময় সবাই শুধু এক কথাই বলে— ‘আহা, কী সুন্দর গ্লো করছে! কত মিষ্টি লাগছে!’ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সন্তান পেটে থাকার সময় মানুষ আপনাকে দেবীর মতো পুজো করে। কিন্তু ঠিক যখনই একজন নারী বাচ্চার জন্ম দেয়, অমনি চারপাশের মানুষের চিন্তাভাবনা রাতারাতি রঙ বদলে ফেলে!
কিয়ারার আক্ষেপ, বাচ্চার জন্মের ঠিক পর থেকেই সেই চেনা গ্ল্যামার বা গ্লো মানুষের চোখে আর পড়ে না, তখন সবাই ওঁর শরীরের মেদ বা স্থূলতা নিয়ে চর্চা শুরু করে দেয়। চারপাশ থেকে মন্তব্য আসতে থাকে— ‘এখন তো বড্ড মোটা লাগছে, একটু কেমন যেন দেখতে হয়ে গিয়েছে!’ সবাই আশা করে যে মা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন মহিলা যেন জাদুবলে আবার আগের মতো স্লিম অ্যান্ড ট্রিম হয়ে নিজের পুরনো রুটিনে ফিরে যান।
বাচ্চার মতো মায়েরও দরকার গোটা গ্রামের যত্ন! কড়া বার্তা কিয়ারার
মা হওয়ার পরের কঠিন সময়টার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কিয়ারা বলেন, আসল সত্যিটা হলো সন্তান প্রসবের পরেই একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময় শুরু হয়। ঠিক এই সময়েই ওঁর সবচেয়ে বেশি মানসিক ও শারীরিক সাপোর্টের প্রয়োজন থাকে। কারণ তিনি একদিকে নিজের শরীরের হরমোনাল এবং বাহ্যিক পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করেন, অন্যদিকে এক নতুন মায়ের ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
টিনসেল টাউনের এই স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী বলেন, একটা প্রচলিত কথা আছে— ‘একটি বাচ্চাকে বড় করতে গেলে গোটা গ্রামের মানুষের সাহচর্যের প্রয়োজন হয়।’ আমি মনে করি, ঠিক একইভাবে একজন নতুন মা-কে সামলে রাখতেও গোটা গ্রামের যত্নের প্রয়োজন! এই সময়টাতেই ওই মহিলার সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা উচিত। তবে কেরিয়ার নিয়ে কিয়ারা বেশ আশাবাদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর তিনি এখন আরও পরিণত। তাই এই মুহূর্তে যে সমস্ত পরিচালকেরা ওঁর সাথে কাজ করবেন, তাঁরা পর্দায় কিয়ারার আজ পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা এবং এক্কেবারে নতুন একটা ভার্সন দেখতে পাবেন।
বিয়ের দু’বছর পর কোল আলো করে এসেছে ‘সারায়াহ’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে রাজকীয় কায়দায় অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন কিয়ারা আডবাণী। বিয়ের ঠিক দু’বছরের মাথায়, অর্থাৎ গত বছর ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই ওনাদের কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান। সিদ্ধার্থ-কিয়ারা ওনাদের এই একরত্তির নাম রেখেছেন ‘সারায়াহ’।
আপাতত মাতৃত্বের মিষ্টি স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের আগামী প্রজেক্টের জন্যও কোমর বাঁধছেন কিয়ারা। কন্নড় সুপারস্টার যশের বহু প্রতীক্ষিত প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘টক্সিক’ (Toxic)-এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে কিয়ারাকে। যদিও ছবিটির মুক্তির তারিখ এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে পর্দার অ্যাকশন ধামাকার আগেই বাস্তব জীবনের এই ‘মাদারহুড’ নিয়ে কিয়ারার এই সাহসী ও সোজাসাপ্টা বয়ান এখন নেটপাড়ায় বিপুল প্রশংসা কুড়োচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


