৪০০০ কোটির বাজেট নিয়ে ‘রামায়ণ’-কে কটাক্ষ নয়, বরং গর্ব করুন! দেশবাসীর কাছে কী আর্জি ‘রাবণ’ যশের?
প্রায় ৪০০০ কোটি টাকার বাজেট, আর তা নিয়েই নানা মহলে সমালোচনা! তবে ‘রামায়ণ’ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করে ছবিটিকে সমর্থন করার আবেদন জানালেন যশ। তাঁর কথায়, এই ছবি শুধু বিনোদন নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবে।
বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ’-এর বিপুল বাজেট নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার মাঝেই মুখ খুললেন অভিনেতা যশ। ছবিটির বাজেট প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা বলে খবর ছড়িয়েছে। এই বিপুল অঙ্ক নিয়ে ছবিকে ছোট করে দেখার পরিবর্তে দেশবাসীকে ‘রামায়ণ’ নিয়ে গর্ব করার আবেদন জানালেন অভিনেতা। তাঁর মতে, এই ছবি বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবে। নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় দুই পর্বে তৈরি এই ছবিতে রাবণের চরিত্রে অভিনয় করছেন যশ। সম্প্রতি নিজের শহর বেঙ্গালুরুতে ছবির নতুন ট্রেলার প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

একই অনুষ্ঠানে ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ ছবির পাশে থাকার জন্য অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানান যশ। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে সমালোচনার মুখেও যেভাবে অনুরাগীরা ছবিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাঁর নজর এড়ায়নি বলেই জানান অভিনেতা।
যশ বলেন, অনুরাগীরা ‘টক্সিক’-এর জন্য যে ভালবাসা দেখিয়েছেন এবং ছবিটির সমর্থনে যেভাবে লড়াই করেছেন, তার সবটাই তিনি লক্ষ্য করেছেন। এত সমালোচনা সত্ত্বেও দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখেছেন এবং বক্স অফিসের সাফল্যে অবদান রেখেছেন। তাঁদের এই ভালবাসার ঋণ কোনও দিনই পুরোপুরি শোধ করতে পারবেন না বলে জানান অভিনেতা।
এর পরেই ‘রামায়ণ’-এর প্রসঙ্গ টেনে যশ বলেন, অনুরাগীরা তাঁর উপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবেন তিনি। এই ছবিকে নিয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, এই প্রজেক্টের অন্যতম প্রযোজক তিনি নিজেও। তাঁদের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি এই ছবি এবার গোটা বিশ্বের দর্শকের কাছে পৌঁছবে।
ছবিটির বৃহত্তর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন যশ। তাঁর মতে, ‘রামায়ণ’ বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে এবং এই ছবির মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে গোটা টিমের উপর। কর্নাটকের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়িয়ে তিনি সকলের আশীর্বাদও প্রার্থনা করেন।
প্রায় ৪০০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেটের কারণে শুরু থেকেই চর্চায় রয়েছে ‘রামায়ণ’। ছবিতে রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী, লক্ষ্মণ হিসেবে রবি দুবে এবং হনুমানের চরিত্রে সানি দেওলকে দেখা যাবে। রাবণের ভূমিকায় রয়েছেন যশ। নমিত মালহোত্রার প্রযোজনায় এবং নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় তৈরি ছবিটি মুক্তি পাবে দুই পর্বে। প্রথম পর্বের মুক্তির তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২৬। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পাওয়ার কথা ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
যশের আগের ছবি ‘টক্সিক’-এর সঙ্গে ‘রামায়ণ’-এর বাজেটের তুলনাও উঠে আসছে আলোচনায়। গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এ যশের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন কিয়ারা আডবাণী, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত এবং তারা সুতারিয়া। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ছবিটি বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৩৩০ কোটি টাকা আয় করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শুরুতে ভাল ব্যবসা করলেও নেতিবাচক পর্যালোচনা ও অনলাইন সমালোচনার জেরে ছবিটির আয় দ্রুত কমে যায়।
তবে ‘টক্সিক’-এর বক্স অফিস ফলাফল পিছনে ফেলে এবার ‘রামায়ণ’-এর মাধ্যমে বড় পরিসরে দর্শকের সামনে আসতে চলেছেন যশ। এই ছবিকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন তুঙ্গে, তেমনই বিপুল বাজেটের কারণে বিতর্কও অব্যাহত। এবার সেই বিতর্কের আবহেই ছবিটিকে সমর্থন করার আবেদন জানালেন অভিনেতা।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


