‘বয়ফ্রেন্ড থাকলেই বিয়ে করতে হবে না’, মেয়ে মেঘাকে কেন এই পরামর্শ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের?
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন, এক কথায় আক্ষরিক অর্থেই তিনি ‘বালিকা বধূ’। তবে মেয়ে মেঘাকে বিয়ে নিয়ে সাফ কথা জানিয়ে দিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
'বালিকা বধূ' (১৯৬৭) ছবি দিয়ে খুব ছোট বয়সেই বিপুল সাফল্য পেয়েছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। বাংলা ও হিন্দি সিনেমার জগতে একের পর এক হিট ছবি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি খুব অল্প বয়সেই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ছেলে জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে নিজে অল্প বয়সে বিয়ে করলেও, আজকের যুগের মেয়েদের এবং নিজের মেয়ে মেঘা মুখোপাধ্যায়কে একদম উল্টো রাস্তা দেখাচ্ছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী!

'জাগরণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬'-এ বিশিষ্ট শিল্পী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় আজকের মেয়েদের 'একটু স্বার্থপর' হওয়ার এবং নিজের জীবন নিয়ে সচেতন হওয়ার চাবুক পাঠ দিলেন।
‘বয়ফ্রেন্ড থাকতেই পারে, কিন্তু বিয়ে করার দরকার নেই!’
মৌসুমী খোলাসা করে বলেন যে তিনি নিজের মেয়ে মেঘাকে ঠিক কী শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, 'আমি আমার মেয়েকে বলি— 'তোর বয়ফ্রেন্ড থাকতেই পারে, কিন্তু তার সঙ্গেই বিয়ে করতে হবে এমন কোনো মানে নেই! আজকের মেয়েরা, একটু সাবধান হও। একটু স্বার্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিক হও, কারণ সময় এখন বদলে গেছে। গীতাতেও লেখা আছে— পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম'।'
তিনি আরও যোগ করে বলেন, আমরা এখনও মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি সামলানোর শিক্ষা দিই, কিন্তু ছেলেদের সেটা শেখাই না! মেয়েরাই সব কাজ করবে, ছেলেদের কাজ নয়— এই মনোভাব বদলানো উচিত। আজকের প্রজন্ম প্রচণ্ড মানসিক চাপে রয়েছে, তাদের নিজেদের জন্য কোনো সময়ই নেই।
কীভাবে হয়েছিল মৌসুমীর নিজের বিয়ে?
'বালিকা বধূ' হিট হওয়ার পর মৌসুমীকে বিয়ে করার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির সামনে লাইন পড়ে যেত! তবে তাঁর এত অল্প বয়সে বিয়ের পেছনে ছিল এক করুণ ইতিহাস। এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী জানান, 'আমার পিসি ক্যান্সারের শেষ ধাপে ছিলেন। তিনি আমার শ্বশুরমশাই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বলেছিলেন, 'হেমন্ত বাবু, আমি কি মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারব না?' হেমন্ত বাবু বলেন, 'হ্যাঁ, আপনি দেখবেন।' আর তার এক মাসের মধ্যেই আমার বিয়ে হয়ে যায়!'
৭০ বছর বয়সে পৌঁছে মৌসুমীর স্পষ্ট কথা— ‘আমিও নিজের জীবনে ভুল করেছি, কিন্তু একবার বুঝতে পারলে সেই ভুল আর দ্বিতীয়বার রিপিট করিনি। অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য কিছু কোরো না।’
'অনুরাগ', 'রোটি কাপড়া অউর মকান', 'মঞ্জিল'-এর মতো আইকনিক সিনেমায় অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্নাদের সঙ্গে রাজত্ব করা মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের এই স্পষ্টবক্তা পরামর্শ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল চর্চায়!
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


