কোষ্ঠকাঠিন্য কমিয়ে দিতে পারে আয়ুর্বেদ! খুব সহজ কয়েকটি রাস্তা জেনে নিন
দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আধুনিক ওষুধের পাশাপাশি, আয়ুর্বেদ, যা জীবন ও জ্ঞানের প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাকৃতিক এবং কার্যকর কিছু পথ দেখায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) একটি অত্যন্ত সাধারণ হজমজনিত সমস্যা, যেখানে মলত্যাগ কঠিন, অনিয়মিত এবং কষ্টকর হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আধুনিক ওষুধের পাশাপাশি, আয়ুর্বেদ (Ayurveda), যা জীবন ও জ্ঞানের প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাকৃতিক এবং কার্যকর কিছু পথ দেখায়।

আয়ুর্বেদ অনুসারে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সহজ রাস্তা এবং ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিন।
১. আয়ুর্বেদ মতে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ
আয়ুর্বেদে কোষ্ঠকাঠিন্যকে সাধারণত শরীরের বাত (Vata) দোষের বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যখন শরীরে বাত দোষ বেড়ে যায়, তখন তা হজম প্রক্রিয়ায় শুষ্কতা সৃষ্টি করে এবং কোলনকে (Colon) অতিরিক্ত জল শোষণ করতে বাধ্য করে। এর ফলে মল শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সহজ আয়ুর্বেদিক কৌশল
আয়ুর্বেদ জীবনযাত্রা, খাদ্য এবং ভেষজের সমন্বয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ওপর জোর দেয়:
ক. ত্রিফলা (Triphala)
ত্রিফলা হলো তিনটি ফল—আমলকি, হরিতকি এবং বহেড়ার—একটি ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক মিশ্রণ।
- উপকারিতা: এটি একটি মৃদু জোলাপ (Mild Laxative) হিসেবে কাজ করে এবং কোলনকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি মলত্যাগের অভ্যাসের সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।
- ব্যবহার: রাতে ঘুমানোর আগে ১ চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো হালকা গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন।
খ. উষ্ণ জল এবং ঘি (Warm Water and Ghee)
আয়ুর্বেদ অনুসারে, সকালে উষ্ণ জল এবং ঘি-এর মিশ্রণ শুষ্কতা দূর করে।
- উপকারিতা: ঘি হলো প্রাকৃতিক লুব্রিক্যান্ট (Lubricant), যা পাচনতন্ত্রের দেয়ালকে মসৃণ করে। উষ্ণ জল কোলনকে উদ্দীপিত করে।
- ব্যবহার: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস হালকা গরম জলে ১ চা চামচ দেশি ঘি (গাওয়া ঘি) মিশিয়ে পান করুন।
গ. অভ্যাসের পরিবর্তন এবং সময় জ্ঞান (Routine and Timing)
- সকালে উষ্ণ পানীয়: সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে এক গ্লাস উষ্ণ জল পান করুন। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে এবং মলত্যাগের ইচ্ছা তৈরি করে।
- নিয়মিত সময়: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগের চেষ্টা করুন, বিশেষ করে সকালে। শরীরকে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাসে নিয়ে এলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে আসে।
ঘ. ফাইবার ও আর্দ্রতা (Fiber and Hydration)
- ফাইবার: খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার (যেমন ফল, সবজি, ডাল এবং গোটা শস্য) বাড়িয়ে দিন।
- জল: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। জল মলের শুষ্কতা দূর করে এবং মল নরম রাখতে সাহায্য করে। দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস জল পান করা উচিত।
ঙ. মুলেঠি বা যষ্টিমধু (Licorice/Mulethi)
- কিছু ক্ষেত্রে, মুলেঠি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হজমের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা ভালো।
৩. যে খাবারগুলি এড়িয়ে চলবেন
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি পরিমাণে কফি এবং চা, এবং হিমায়িত (Frozen) খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য একটি অস্বস্তিকর সমস্যা হলেও, আয়ুর্বেদের সহজ এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলি নিয়মিত অনুসরণ করলে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ত্রিফলার মতো ভেষজ ব্যবহার করে পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখা যায়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


