স্নানের সময়ে কোন অঙ্গ আগে ধোবেন? কারণটা জানলে চমকে উঠবেন

মাথা নয়, স্নানের সময়ে এই অঙ্গে সবার আগে জল ঢালুন। নাহলে হতে পারে বড় বিপদ।

Published on: Nov 30, 2025, 18:17:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অনেকেরই ধারণা, স্নানের সময় প্রথমে মাথায় জল ঢালা উচিত। কিন্তু বিশেষ করে শীতকালে বা যখন শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে জলের তাপমাত্রার বড় ধরনের পার্থক্য থাকে, তখন স্নানের এই প্রচলিত অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। স্ট্রোক (Stroke) ও হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) ঝুঁকি এড়াতে স্নানের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা ক্রম অনুসরণ করা জরুরি।

স্নানের সময়ে কোন অঙ্গ আগে ধোবেন? কারণটা জানলে চমকে উঠবেন
স্নানের সময়ে কোন অঙ্গ আগে ধোবেন? কারণটা জানলে চমকে উঠবেন

হার্টের ওপর চাপ কমাতে স্নানের সময় কোন অঙ্গে সবার আগে জল ঢালা উচিত এবং এর নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক কারণ কী, তা এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো:

বর্তমানে, সময়টি হলো রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫, সন্ধ্যা ০৫:২৯:০০ PM IST।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে স্নানের সময়ে কোন অঙ্গে সবার আগে জল ঢালবেন? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

অনেকেরই ধারণা, স্নানের সময় প্রথমে মাথায় জল ঢালা উচিত। কিন্তু বিশেষ করে শীতকালে বা যখন শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে জলের তাপমাত্রার বড় ধরনের পার্থক্য থাকে, তখন স্নানের এই প্রচলিত অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। স্ট্রোক (Stroke) ও হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) ঝুঁকি এড়াতে স্নানের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা ক্রম অনুসরণ করা জরুরি।

হার্টের ওপর চাপ কমাতে স্নানের সময় কোন অঙ্গে সবার আগে জল ঢালা উচিত এবং এর নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক কারণ কী, তা এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো:

১. কেন স্নান বিপজ্জনক হতে পারে? (হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন)

শরীরের তাপমাত্রা যখন বেশি থাকে (যেমন শরীরচর্চার পর বা গরমের দিনে), তখন শরীরের রক্তনালীগুলো প্রসারিত (Vasodilation) অবস্থায় থাকে। এই সময় হঠাৎ করে ঠান্ডা জল মাথায় বা বুকে ঢাললে দুটি গুরুতর ঘটনা ঘটতে পারে:

  • রক্তনালী সংকোচন (Vasoconstriction): হঠাৎ ঠান্ডা লাগলে রক্তনালীগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ (Blood Pressure) দ্রুত বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই sudden spike বা হঠাৎ বৃদ্ধি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • ভেগাস নার্ভ শক (Vagal Shock): ঠান্ডা জল সরাসরি মাথায় বা বুকে পড়লে ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve) সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এটি হৃদস্পন্দন দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে (Bradycardia), যা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে।

২. সঠিক পদ্ধতি: সবার আগে জল ঢালুন পায়ে

হার্টের ওপর চাপ কমাতে হলে শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে জলের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এর জন্য জল ঢালার ক্রম হওয়া উচিত 'নিচ থেকে ওপর' দিকে।

  • সবার আগে পা (Feet): প্রথমে পায়ের পাতা এবং গোড়ালিতে জল ঢালুন। এই অঙ্গগুলিতে রক্তনালীগুলো ছোট হওয়ায়, তারা দ্রুত সংকুচিত হয় এবং মস্তিষ্কের কাছে সংকেত পাঠায় যে শরীর ঠান্ডা হচ্ছে।
  • এরপর হাত ও পা (Limbs): ধীরে ধীরে জল উপরে তুলে হাঁটু এবং কনুই পর্যন্ত ঢালুন। এটি মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে এবং হঠাৎ বড় অঙ্গে আঘাত করা থেকে রক্ষা করে।
  • পেট ও বুক (Abdomen & Chest): পা ও হাত অভ্যস্ত হওয়ার পর পেটে এবং বুকে জল ঢালুন। হার্টের অবস্থান বুকে। হঠাৎ ঠান্ডা বুকে আঘাত করলে হার্টের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে, যা এই ধীর প্রক্রিয়ায় এড়ানো যায়।
  • সবার শেষে মাথা (Head): শরীর সম্পূর্ণ অভ্যস্ত হওয়ার পর সবশেষে মাথায় জল ঢালুন। এটি ভেগাস নার্ভের আকস্মিক শক এড়াতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখে।

৩. স্নানের অন্যান্য সতর্কতা

  • অতিরিক্ত গরম জল নয়: স্নানের জল অতিরিক্ত গরম হওয়াও উচিত নয়, কারণ এতে রক্তচাপ কমে গিয়ে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে। হালকা উষ্ণ জল ব্যবহার করুন।
  • তাড়াহুড়ো নয়: বিশেষ করে বয়স্কদের ধীরে ধীরে স্নান করা উচিত। তাড়াহুড়ো করে জল ঢালবেন না।

স্নানের সময় এই সহজ ক্রমটি অনুসরণ করলে, তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের ঝুঁকি কমে যায় এবং হার্ট সুস্থ থাকে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More