বাথরুমে কেন বাড়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি? কী বলছে বিজ্ঞান
বিশেষ করে বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। বাথরুমে এই ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ঘটার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি সুস্পষ্ট শারীরিক প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত কারণ।
চিকিৎসা পরিভাষায় 'বাথরুম স্ট্রোক' বলে কোনো নির্দিষ্ট রোগ না থাকলেও, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে স্ট্রোক (Stroke) বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (Cardiac Arrest) মতো ঘটনাগুলি শৌচাগারেই বেশি ঘটে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। বাথরুমে এই ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ঘটার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি সুস্পষ্ট শারীরিক প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত কারণ।

এর মূল কারণগুলি এবং কীভাবে এর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, জেনে নিন।
১. মূল কারণ: ভালসালভা ম্যানুভার (Valsalva Maneuver)
স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের জন্য শৌচাগারকে বিপদজনক করে তোলার প্রধান কারণ হলো 'ভালসালভা ম্যানুভার', অর্থাৎ মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বা 'কোঁত দেওয়া'।
- হঠাৎ রক্তচাপ বৃদ্ধি: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় যখন অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তখন পেটের ভেতরের এবং বুকের ভেতরের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। এই চাপ সরাসরি মস্তিষ্কের রক্তনালী এবং হৃদযন্ত্রে প্রতিফলিত হয়।
- বিপদ: হঠাৎ এই রক্তচাপের স্পাইক (Spike) বা উল্লম্ফন মস্তিষ্কের দুর্বল রক্তনালীকে ছিঁড়ে দিতে পারে, যার ফলে হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও, এই চাপের ফলে হার্টবিট বা হৃদস্পন্দনে অনিয়ম দেখা দিতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. দ্বিতীয় কারণ: তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন
ঠান্ডা এবং গরম জলের ব্যবহার বাথরুমে আরেকটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
- গরম জল: অতিরিক্ত গরম জল দিয়ে স্নান করলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয় (Vasodilation), যা রক্তচাপ হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- ঠান্ডা জল: গরম পরিবেশ থেকে হঠাৎ ঠান্ডা জলে প্রবেশ করলে বা মাথায় ঠান্ডা জল ঢাললে রক্তনালীগুলো দ্রুত সংকুচিত (Vasoconstriction) হয়। এটি রক্তচাপকে হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৩. অন্যান্য সহায়ক কারণ
- ডিহাইড্রেশন: রাতে পর্যাপ্ত জল না পান করার ফলে সকালে মলত্যাগের সময় ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
- দীর্ঘ সময় বসে থাকা: শৌচাগারে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পা ও শরীরের নিচের অংশে রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয়।
প্রতিকার: কীভাবে এই ঝুঁকি এড়ানো যায়?
এই বিপদ এড়াতে কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি:
- মল নরম রাখা: কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় ফাইবার (শাকসবজি, ফল) অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলা: মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি মল সহজে না আসে, তবে জোর করবেন না।
- স্নানের নিয়ম: স্নানের সময় তাপমাত্রার চরম পরিবর্তন এড়িয়ে চলুন। প্রথমে পা বা শরীর ঠান্ডা জলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে স্নান শুরু করুন। কখনোই সরাসরি মাথায় ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম জল ঢালবেন না।
- জল পান: সকালে শৌচাগারে যাওয়ার আগে এক গ্লাস জল পান করে নিন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


