সিঁড়ি দিয়ে টানা ওঠানামা করলে কি কোনও উপকার পাওয়া যায়? জেনে নিন
একে ইংরেজিতে স্টেয়ার ক্লাইম্বিং (Stair Climbing) বলা হয়। সঠিক নিয়মে এই ব্যায়ামটি করলে তা শরীরের কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পেশী গঠন পর্যন্ত বহু উপকার করতে পারে।
আধুনিক জীবনে অনেকে লিফট বা এসকেলেটরের ওপর নির্ভরশীল হলেও, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করা হলো একটি সহজ, সাশ্রয়ী এবং অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়াম। একে ইংরেজিতে স্টেয়ার ক্লাইম্বিং (Stair Climbing) বলা হয়। সঠিক নিয়মে এই ব্যায়ামটি করলে তা শরীরের কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পেশী গঠন পর্যন্ত বহু উপকার করতে পারে।

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করার উপকারিতা এবং কাদের জন্য এটি বেশি ক্ষণ করা উচিত নয়, তা জেনে নিন।
১. সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার শারীরিক উপকারিতা
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা একটি ভারবহনকারী (Weight-Bearing) ব্যায়াম, যা পুরো শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে।
ক. হৃদযন্ত্র ও ক্যালোরি খরচ
- কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য: সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হৃদস্পন্দনকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা হার্টকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
- ক্যালোরি খরচ: দ্রুত হাঁটা বা জগিং করার চেয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠলে প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়। এটি চর্বি কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।
খ. পেশী গঠন ও হাড়ের স্বাস্থ্য
- পেশীর কার্যকারিতা: সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় প্রধানত পা এবং নিতম্বের পেশীগুলি (কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিংস, গ্লুটস) সক্রিয় হয়। এটি এই পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে।
- হাড়ের ঘনত্ব: এটি একটি ভারবহনকারী ব্যায়াম হওয়ায় নিয়মিত অনুশীলন হাড়ের ঘনত্ব (Bone Density) বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) বা হাড় ক্ষয়-এর ঝুঁকি কমায়।
২. কাদের এই কাজ বেশি ক্ষণ করা উচিত নয়? (সতর্কতা)
যদিও সিঁড়ি ওঠা উপকারী, তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিস্থিতিতে এই কাজ দীর্ঘক্ষণ ধরে বা উচ্চ তীব্রতায় করা ক্ষতিকর হতে পারে।
| শারীরিক অবস্থা | বিপদ কেন? | পরামর্শ |
|---|---|---|
| হাঁটুর সমস্যা (Knee Problems) | সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হাঁটুর জয়েন্টে শরীরের ওজনের প্রায় ৩ থেকে ৭ গুণ বেশি চাপ পড়ে। | অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর পুরোনো ব্যথা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হালকা ব্যায়াম বা সাঁতারের মতো বিকল্প বেছে নিন। |
| গোড়ালি বা পায়ের পাতার আঘাত | এই ধরনের ব্যায়াম গোড়ালি এবং পায়ের পাতার পেশী ও জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। | আঘাত সম্পূর্ণ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত সিঁড়ি ওঠা এড়িয়ে চলুন। |
| তীব্র কার্ডিয়াক সমস্যা | তীব্র হৃদরোগ বা গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার কারণে হার্টের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। | হৃদরোগীরা বা যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন আছে, তাদের চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়েই এই ব্যায়াম করা উচিত। |
| ভারসাম্যহীনতা বা মাথা ঘোরা | সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভারসাম্যহীনতার সমস্যা থাকলে সাবধানে সিঁড়ি ব্যবহার করা উচিত। | প্রয়োজনে রেলিং ধরে ধীরে ধীরে হাঁটুন। |
৩. কীভাবে এই অভ্যাস শুরু করবেন?
যদি আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে, তবে প্রতিদিনের রুটিনে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে এই অভ্যাস শুরু করতে পারেন:
- ধীরে শুরু করুন: প্রথমে দিনে ৫-১০ মিনিট সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করুন।
- গতি বাড়ান: একবার স্বচ্ছন্দ বোধ করলে ধীরে ধীরে সময় এবং গতি বাড়ান।
- সঠিক জুতো: আঘাত এড়াতে ভালো গ্রিপযুক্ত আরামদায়ক জুতো পরে এই ব্যায়াম করুন।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা হলো ক্যালোরি পোড়ানো, হৃদযন্ত্র শক্তিশালী করা এবং পেশী টোন করার একটি চমৎকার উপায়। তবে হাঁটু বা হৃদরোগের মতো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এই কাজ বেশি ক্ষণ ধরে করা উচিত নয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


