গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে কোন কোন ডাল খাবেন? জানুন সেরা ৪টি সহজপাচ্য ডাল ও তাদের স্বাস্থ্যগুণ
গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ থাকতে কোন কোন ডাল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী এবং কোন ডাল থেকে কী কী স্বাস্থ্যগুণ মেলে, তা জেনে নিন।
প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরমের দিনে শরীর সুস্থ রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ঘামের কারণে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা হজম ক্ষমতাও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সময়ে খাদ্যতালিকায় ভারী, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য ও শীতল প্রভাবসম্পন্ন খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাঙালি আহারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো 'ডাল'। তবে সব ডাল গরমের দিনে সমানভাবে উপযোগী নয়। কিছু ডাল শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে, আবার কিছু ডাল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ থাকতে কোন কোন ডাল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী এবং কোন ডাল থেকে কী কী স্বাস্থ্যগুণ মেলে, তা জেনে নিন।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, গরমের দিনে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে হালকা ও কম মসলা দিয়ে তৈরি ডালের ভূমিকা অপরিসীম। গরমে সুস্থ থাকতে যে ডালগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত:
১. মুগ ডাল (Moong Dal)
গরমের দিনে সবচেয়ে উপযোগী ও পুষ্টিকর হলো সোনা মুগ বা সবুজ মুগ ডাল। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিশাস্ত্র—উভয় মতে, মুগ ডাল অত্যন্ত শীতল প্রকৃতির এবং অত্যন্ত সহজপাচ্য।
- উপকারিতা:
- হজমশক্তি বৃদ্ধি: গরমের দিনে পেটের গোলমাল, গ্যাস বা বদহজম দূর করতে মুগ ডালের জুড়ি নেই।
- শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মুগ ডালে থাকা পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
- ওজন ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ: এটি প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- ব্যবহারের উপায়: পাতলা করে রান্না করা মুগ ডালের ইউষ বা লাউ-ঝিঙে দিয়ে মুগ ডাল গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখে।
২. মসুর ডাল (Masoor Dal)
বাঙালির ঘরে ঘরে প্রতিদিনের অত্যন্ত পরিচিত ডাল হলো মসুর ডাল। সহজলভ্য এই ডালটি গরমের দিনে হালকা করে রান্না করে খেলে প্রচুর পুষ্টি মেলে।
- উপকারিতা:
- রক্তাল্পতা ও ক্লান্তি দূর: মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফাইবার ও প্রোটিন, যা গরমের ক্লান্তি ও দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে।
- কোলেস্টেরল ও হৃদযন্ত্রের যত্ন: এতে থাকা ডায়াটারি ফাইবার রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হার্ট সুস্থ রাখে।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা: ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর মসুর ডাল নিয়মিত খেলে ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।
- ব্যবহারের উপায়: কাঁচা আম বা সজনে ডাঁটা দিয়ে পাতলা মসুর ডালের টক ডাল গরমের দিনে তৃপ্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখে।
৩. বিউলি বা কলাইয়ের ডাল (Urad Dal)
অনেকে মনে করেন কলাইয়ের ডাল গুরুপাক, কিন্তু আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বিউলির ডাল বা উরদ ডাল প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত শীতল ও বলবর্ধক।
- উপকারিতা:
- হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ: গ্রীষ্মকালে বিউলির ডাল শরীরকে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
- এনার্জি বৃদ্ধি ও পাচনতন্ত্রের সুরক্ষা: এটি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
- ব্যবহারের উপায়: গরমের দুপুরে মৌরি ও আদা বাটা দিয়ে পাতলা করে রান্না করা বিউলির ডাল ও সাথে ঝিঙে পোস্ত বাঙালির পরম প্রিয় ও আরামদায়ক একটি পথ্য।
৪. ছোলার ডাল বা চানা ডাল (Chana Dal)
ছোলার ডাল কিছুটা ভারী হলেও পরিমিত পরিমাণে পাতলা করে রান্না করলে এটি শরীরকে দারুণ শক্তি জোগায়।
- উপকারিতা:
- ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ: ছোলার ডালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম, ফলে এটি রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
- পেশি গঠন ও শক্তি: এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম হাড় ও পেশি মজবুত রাখে।
- ব্যবহারের উপায়: গরমে ডালিম বা লাউ দিয়ে হালকা মসলায় ছোলার ডাল রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
গরমে ডাল রান্নার সময় কিছু জরুরি সতর্কতা
- কম তেল-মসলার ব্যবহার: গরমে ডালে অতিরিক্ত ফোড়ন, রসুন বা গরম মসলার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- আম, লাউ বা সজনে ডাঁটার সংযোগ: ডালের সাথে কাঁচা আম, সজনে ডাঁটা, লাউ বা চালকুমড়া যোগ করলে ডালের পেপটিক গুণ ও শীতল প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।
- পর্যাপ্ত জল: গরমে ঘন বা আঠালো ডাল না খেয়ে পর্যাপ্ত জল দিয়ে পাতলা করে রান্না করা ডাল পাচনতন্ত্রের জন্য ভালো।
প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে দামি প্রোটিন বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় হালকা ও পুষ্টিকর এই ডালগুলো অন্তর্ভুক্ত করাই সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


