ডানদিক নাকি বাঁদিক, আপনি কোন দিকে পাশ ফিরে ঘুমোন? ভালো ঘুমের চাবিকাঠি কোনটি, জেনে নিন
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার সময় আমরা অনেকেই খেয়াল করি না যে আমাদের শোয়ার ভঙ্গি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে।
সুস্থ থাকার জন্য কেবল পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়, আপনি কোন ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছেন তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার সময় আমরা অনেকেই খেয়াল করি না যে আমাদের শোয়ার ভঙ্গি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বাঁদিকে নাকি ডানদিকে—কোন দিকে পাশ ফিরে শোওয়া বেশি উপকারী, তা নিয়ে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা।

২০২৬ সালের স্বাস্থ্য সচেতনতার এই যুগে আপনার ঘুমের অভ্যাস বদলে দিতে পারে আপনার আয়ু। বাঁদিক ও ডানদিকে ফেরার শারীরিক প্রভাব এবং সঠিক ভঙ্গি জেনে নিন।
বাঁদিকে পাশ ফিরে শোয়ার বিস্ময়কর সুফল
অধিকাংশ চিকিৎসক এবং প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বাঁদিকে পাশ ফিরে শোওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। এর কারণগুলো হলো:
- হজমে সহায়তা: আমাদের পাকস্থলী শরীরের বাঁদিকে অবস্থিত। বাঁদিকে ফিরে শুলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে খাবার সহজে হজম হয় এবং পাচক রস বা এনজাইমগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
- অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালা রোধ: যারা গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য বাঁদিকে শোওয়া মহৌষধ। এই ভঙ্গিতে শুলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসতে পারে না।
- হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি: হৃৎপিণ্ড শরীরের বাঁদিকে রক্ত পাম্প করে। বাঁদিকে ফিরে শুলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ভালো হয় এবং হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ কম পড়ে, ফলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়।
- নাক ডাকা বন্ধ করা: চিত হয়ে শুলে জিহ্বা গলার পেছনের দিকে চলে যায়, যা নাক ডাকার কারণ হতে পারে। বাঁদিকে শুলে শ্বাসনালী পরিষ্কার থাকে এবং নাক ডাকা কমে।
ডানদিকে পাশ ফিরে শোয়ার প্রভাব
ডানদিকে ফিরে শোওয়া একেবারে ক্ষতিকর না হলেও, এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
- হজমে ধীরগতি: ডানদিকে শুলে পাকস্থলী থেকে খাদ্যনালীর ভালভ আলগা হয়ে যেতে পারে, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বেড়ে যায়।
- যকৃতের ওপর চাপ: শরীরের ডানদিকে লিভার বা যকৃতের অবস্থান। ডানদিকে ফিরে শুলে লিভারের ওপর কিছুটা চাপ পড়তে পারে, যা লিম্ফ্যাটিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
- হৃদরোগীদের জন্য সতর্কতা: অনেক সময় ডানদিকে শুলে হৃৎপিণ্ডের রক্তবাহী শিরাগুলোতে চাপ পড়ে, যা রক্ত চলাচলে সামান্য ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
কাদের জন্য কোনটি সঠিক?
- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য: চিকিৎসকরা গর্ভবতী মহিলাদের সবসময় বাঁদিকে ফিরে শোয়ার পরামর্শ দেন। এতে ভ্রূণে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং কিডনির কার্যকারিতা বাড়ে।
- হৃদরোগীদের জন্য: যাদের হার্ট ফেইলিওর বা বড় কোনো হার্টের সমস্যা আছে, অনেক সময় তারা ডানদিকে শুলে বেশি আরাম পান। তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।
সামগ্রিকভাবে বিচার করলে, রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুম এবং শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) রাখতে বাঁদিকে পাশ ফিরে শোওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। আজ থেকেই আপনার শোয়ার ভঙ্গি পরিবর্তন করে দেখুন, কয়েকদিনের মধ্যেই হজম শক্তি এবং এনার্জির পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


