উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি দুধ খাওয়া নিরাপদ? জানুন পুষ্টিবিদদের মতামত ও সঠিক নিয়ম
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লেই খাদ্যতালিকা থেকে দুধ বা দুগ্ধজাত সমস্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞান কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে।
বর্তমান যুগে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের কারণে রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সমস্যা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাঁদের খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন হতে হয়।

আমাদের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় ‘দুধ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের অন্যতম উৎস হলো দুধ। কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত রোগীদের মনে প্রায়শই একটি বড় প্রশ্ন জাগে— “কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে কি দুধ খাওয়া নিরাপদ, নাকি এটি সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত?” পুষ্টিবিদ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত জেনে নিন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লেই খাদ্যতালিকা থেকে দুধ বা দুগ্ধজাত সমস্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞান কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে।
দুধ এবং কোলেস্টেরলের আসল সম্পর্ক
দুধে প্রধানত দু’ধরনের চর্বি বা ফ্যাট থাকে—স্যাচুরেটেড ফ্যাট (Saturated Fat) এবং ট্রান্স ফ্যাট। ফুল ক্রিম বা হোল মিল্কে (Full Cream Milk) স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL)-এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা ধমনীতে চর্বি জমাতে সাহায্য করে।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কোলেস্টেরলের রোগীদের জন্য দুধ পুরোপুরি ক্ষতিকর। দুধে থাকা পুষ্টি উপাদান—যেমন ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই দুধ খাওয়া বন্ধ করার চেয়ে ‘সঠিক ধরণের দুধ’ নির্বাচন করা বেশি জরুরি।
কোলেস্টেরলের রোগীরা কোন ধরণের দুধ খাবেন?
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকলে ফুল ক্রিম বা অপাস্তুরিত দুধ খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। এর পরিবর্তে নিম্নে উল্লিখিত দুধের বিকল্পগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে:
- স্কিমড মিল্ক বা ডবল টোন্ড মিল্ক: বাজারজাত স্কিমড মিল্ক বা ডবল টোন্ড মিল্কে ফ্যাট ছেঁকে বের করে নেওয়া হয়। এই দুধে চর্বির পরিমাণ প্রায় শূন্য বা ১ শতাংশের নিচে থাকে। তাই এটি খেলে শরীরে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট প্রবেশ করে না, অথচ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়।
- উদ্ভিজ্জ দুধ (Plant-based Milk): ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে সোয়া মিল্ক (Soy Milk), অ্যালমন্ড মিল্ক (Almond Milk) বা ওট মিল্ক (Oat Milk) বেছে নেওয়া যেতে পারে। উদ্ভিজ্জ দুধে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে না এবং এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
- ছাঁকা বা ননীকাড়া দুধ: বাড়িতে দুধ ভালো করে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করার পর ওপরে জমা ফ্যাট বা সর সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে সেই দুধ খাওয়া যেতে পারে।
দুধ খাওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
১. দুধের সর বা মাখন যুক্ত দুধ একেবারেই খাওয়া চলবে না।
২. দুধের সাথে অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভারড সিরাপ বা চকোলেট পাউডার মিশিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
৩. ফুল ক্রিম দুধ থেকে তৈরি মিষ্টি, পনির বা ছানা ঘন ঘন খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীরা অবশ্যই দুধ খেতে পারেন, তবে তা হতে হবে ফ্যাটমুক্ত বা স্কিমড মিল্ক। সঠিক মাত্রায় এবং ফ্যাটহীন দুধ খেলে তা শরীরের পুষ্টির ঘাটতি মেটায় এবং হৃদযন্ত্রকেও সুরক্ষিত রাখে। খাদ্যতালিকায় কোনো বড় পরিবর্তনের আগে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


