কান পরিষ্কারের জন্য কটন বাড ব্যবহার করেন? এই বিপদগুলির কথা জেনে রাখুন

চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন যে, কানের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড ব্যবহার করা অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। এই অভ্যাসের কারণে কী কী মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা নিচে আলোচনা করা হল।

Published on: Nov 19, 2025, 08:44:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কটন বাড (Cotton Buds) বা ইয়ার বাড হলো কান পরিষ্কার করার জন্য বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি সরঞ্জাম। এটি ব্যবহারের পর যে আরাম বা স্বস্তির অনুভূতি পাওয়া যায়, তার কারণে বহু মানুষ নিয়মিত এটি ব্যবহার করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন যে, কানের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড ব্যবহার করা অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। এই অভ্যাসের কারণে কী কী মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা নিচে আলোচনা করা হলো।

কান পরিষ্কারের জন্য কটন বাড ব্যবহার করেন? এই বিপদগুলির কথা জেনে রাখুন
কান পরিষ্কারের জন্য কটন বাড ব্যবহার করেন? এই বিপদগুলির কথা জেনে রাখুন

১. কানের ওয়াক্স ভেতরে ঠেলে দেওয়া (Wax Impaction)

কানের ওয়াক্স (Ear Wax) বা 'সেরুমেন' (Cerumen) হলো কানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করতে গেলে ওয়াক্স বাইরে আসার পরিবর্তে তা আরও ভেতরের দিকে ঠেলে যায়।

  • সমস্যা: ওয়াক্স কানের গভীরের অংশে জমে গেলে তা শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে কান বন্ধ হয়ে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ (Tinnitus), এবং সাময়িকভাবে কম শোনার সমস্যা (Conductive Hearing Loss) হতে পারে।

২. কানের পর্দায় আঘাত (Eardrum Rupture)

এটি কটন বাড ব্যবহারের সবচেয়ে মারাত্মক ঝুঁকিগুলির মধ্যে একটি।

  • সমস্যা: কটন বাড অসাবধানতাবশত বা খুব জোরে কানের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলে তা কানের সংবেদনশীল পর্দায় (Eardrum বা Tympanic Membrane) আঘাত করতে পারে। কানের পর্দা ফেটে গেলে তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, কানে শোঁ শোঁ আওয়াজ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী বধিরতাও (Permanent Deafness) হতে পারে।

৩. সংক্রমণ ও প্রদাহ (Infection and Otitis Externa)

কানের ভেতরে ত্বক খুবই পাতলা এবং সংবেদনশীল।

  • সমস্যা: কটন বাড ব্যবহারের সময় সেই ত্বকে ছোটখাটো ঘর্ষণ বা আঘাত লাগতে পারে। এই আঘাতের স্থানগুলোতে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা 'সুইমার্স ইয়ার' বা ওটিটিস এক্সটার্না (Otitis Externa) নামে পরিচিত। এর ফলে কান লাল হয়ে যায়, ফুলে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

৪. ওয়াক্সের প্রাকৃতিক কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া

কানের ওয়াক্স বা সেরুমেন স্বাভাবিকভাবেই কানকে ধুলোবালি, ময়লা এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে।

  • সমস্যা: কটন বাড ব্যবহার করে এই ওয়াক্স অতিরিক্ত পরিমাণে বের করে দিলে কান তার প্রাকৃতিক সুরক্ষা হারায়। এর ফলে চুলকানি বা সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীর পরামর্শ: ইএনটি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কান পরিষ্কার করার জন্য কটন বাডের কোনো প্রয়োজন নেই। কানের ওয়াক্স সাধারণত কথা বলার সময়, চিবানোর সময় বা হাঁটার সময় আপনাআপনিই বাইরে চলে আসে। যদি কানের ওয়াক্স নিয়ে গুরুতর সমস্যা হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ড্রপ ব্যবহার করা উচিত বা চিকিৎসকের মাধ্যমে পেশাদার উপায়ে কান পরিষ্কার করানো উচিত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More