আঙুল ফোটানো কি সত্যিই ক্ষতিকর? বিজ্ঞান কী বলছে এই বিষয়ে
দীর্ঘদিন ধরে এই ধারণা প্রচলিত আছে যে আঙুল ফোটালে বা হাঁটুতে আওয়াজ করলে তা ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস (Arthritis) বা বাতের ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু এই বহুল প্রচলিত ধারণার পেছনে বিজ্ঞান কী বলছে?
আঙুল ফোটানো বা 'ক্র্যাকিং নক্লস' একটি অত্যন্ত সাধারণ অভ্যাস। অনেকেই আছেন যারা মানসিক চাপ কমাতে বা কেবল স্বস্তির জন্য এই কাজটি করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ধারণা প্রচলিত আছে যে আঙুল ফোটালে বা হাঁটুতে আওয়াজ করলে তা ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস (Arthritis) বা বাতের ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু এই বহুল প্রচলিত ধারণার পেছনে বিজ্ঞান কী বলছে?

আঙুল ফোটানোর শব্দ কেন হয়?
প্রথমেই জানা প্রয়োজন, কেন এই আওয়াজ হয়। আমাদের আঙুলের জোড়গুলো হলো সিনোভিয়াল জয়েন্ট (Synovial Joint)। এই জোড়গুলোর মধ্যে থাকে এক ধরনের পিচ্ছিল তরল, যাকে সিনোভিয়াল ফ্লুইড (Synovial Fluid) বলা হয়। এই তরল জয়েন্টগুলোকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং এর মধ্যে দ্রবীভূত গ্যাস (যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন) থাকে।
আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্ট বা গাঁট প্রসারিত হয়, যার ফলে:
- গ্যাসের বুদবুদ: জয়েন্টের ভেতরের চাপ হঠাৎ করে কমে যায়। এই নিম্নচাপের কারণে সিনোভিয়াল ফ্লুইডে দ্রবীভূত গ্যাসগুলো দ্রুত বুদবুদ বা বাবল তৈরি করে।
- শব্দ: এই বুদবুদগুলি দ্রুত ফেটে যাওয়ার ফলে যে শব্দ হয়, সেটাই আমরা 'আঙুল ফোটানো'র শব্দ হিসেবে শুনি।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে?
আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে।
১. আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি:
- বেশিরভাগ বড় এবং নির্ভরযোগ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত আঙুল ফোটানোর অভ্যাসের সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা।
- প্রমাণ: আমেরিকান একাডেমি অফ অর্থোপেডিক সার্জনস (AAOS) সহ অনেক স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, এমন কোনো প্রমাণ নেই যা আঙুল ফোটানোকে বাতের ব্যথার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
২. জয়েন্টের ক্ষতি:
- কিছু পুরোনো গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা খুব ঘন ঘন আঙুল ফোটান, তাদের হাতের গাঁটে সামান্য ফোলাভাব বা গ্রিপের শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে এগুলো সাধারণত গুরুতর নয় এবং আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে যুক্ত নয়।
- ডোনাল্ড এল. উঙ্গার (Donald L. Unger)-এর গবেষণা: একজন চিকিৎসক ডোনাল্ড উঙ্গার টানা ৬০ বছর ধরে তার বাম হাতের আঙুল ফোটাতেন, কিন্তু ডান হাত ফোটাতেন না। ৬০ বছর পর পরীক্ষায় দেখা যায়, তার দুই হাতেই বাতের কোনো লক্ষণ নেই। এই কাজের জন্য তিনি আইজি নোবেল (Ig Nobel Prize) পুরস্কারও পান।
ঝুঁকি কখন বাড়ে?
যদিও আঙুল ফোটানো আর্থ্রাইটিসের কারণ নয়, তবুও কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলা উচিত:
- ব্যথা হলে: আঙুল ফোটানোর সময় যদি আপনি ব্যথা অনুভব করেন, তবে তা জয়েন্টের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
- ফোলাভাব বা লালচে ভাব: যদি আঙুল ফোটানোর পর জয়েন্টে ফোলাভাব বা লালচে ভাব দেখা যায়, তবে তা লিগামেন্ট বা জয়েন্টের ক্যাপসুলে আঘাতের লক্ষণ হতে পারে।
বিজ্ঞান পরিষ্কারভাবে বলছে, আঙুল ফোটানোর শব্দটি মূলত জয়েন্টের ভেতরের গ্যাসের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে হয় এবং এটি বাতের রোগের কারণ নয়। তবে, এটি যেন অভ্যাসের বশে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


