Dehydration signs in summer: গরমে জল খাচ্ছেন তাও এই লক্ষণগুলো আছে? সাবধান!
Dehydration signs in summer: শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে আমরা সবাই এই সময়ে বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন—বেশি করে জল খাওয়ার পরেও এই তীব্র গরমে আপনি ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারেন!
Dehydration signs in summer: চলতি চৈত্র-বৈশাখ বা জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে (Summer Heatwave) ওষ্ঠাগত প্রাণ। আবহাওয়ার পারদ যত চড়ছে, ততই বাড়ছে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের (Dehydration) ঝুঁকি। শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে আমরা সবাই এই সময়ে বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন—বেশি করে জল খাওয়ার পরেও এই তীব্র গরমে আপনি ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারেন!

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটিই চরম সত্য। নিচে এই পরিস্থিতির পেছনের আসল কারণ এবং কোন কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হলো।
গ্রীষ্মের এই চড়া রোদে শরীর থেকে অনবরত ঘাম ঝরছে। আমরা ভাবি, যতটা ঘাম হচ্ছে, ততটা জল খেয়ে নিলেই বোধহয় শরীর ঠিক থাকবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরমে কেবল জল খেলে ডিহাইড্রেশন আটকানো যায় না। এর প্রধান কারণ হলো, ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু জল বের হয় না, সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে জরুরি খনিজ বা ইলেক্ট্রোলাইটস (যেমন—সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড) বেরিয়ে যায়।
যখন আমরা কেবল সাধারণ জল ঢকঢক করে খেয়ে যাই, তখন রক্তের এই খনিজ উপাদানগুলো আরও পাতলা হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'হাইপোনাট্রেমিয়া' (Hyponatremia) বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশন। এর ফলে কোষগুলো জল ধরে রাখতে পারে না এবং বেশি জল খেয়েও শরীর ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে যেতে থাকে, যা এক ধরণের ছদ্ম-ডিহাইড্রেশন।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
শরীর যখন জল ও খনিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তখন সে কিছু প্রাথমিক সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে ভুলেও অবহেলা করবেন না:
১. অনবরত মাথা ঘোরা বা মাথা ধরা:
প্রচুর জল খাওয়ার পরেও যদি দেখেন মাথা দপদপ করছে বা রোদে বেরোলেই মাথা ঘুরছে, তবে বুঝবেন মস্তিষ্কের কোষে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে। এটি ডিহাইড্রেশনের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
২. প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন:
জল খাওয়ার পরেও যদি দেখেন প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা কোকা-কোলার মতো কালচে হচ্ছে, তবে বুঝতে হবে শরীর তীব্র জলকষ্টে ভুগছে। সুস্থ শরীরে প্রস্রাবের রঙ সবসময় খড়ের মতো হালকা হলুদ বা জলের মতো পরিষ্কার হওয়া উচিত।
৩. পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প (Muscle Cramps):
অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম কমে গেলে হাত, পা বা পেটের পেশিতে তীব্র টান ধরতে পারে। জল খাওয়ার পরেও যদি রাতে বা হাঁটার সময় পায়ে ক্র্যাম্প ধরে, তবে তা খনিজের ঘাটতিজনিত ডিহাইড্রেশনের স্পষ্ট লক্ষণ।
৪. বারবার মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং ক্লান্তি:
প্রচুর জল খাচ্ছেন অথচ গলা-মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, কিংবা তীব্র ক্লান্তি ও ঘুম-ঘুম ভাব পিছু ছাড়ছে না—এটি নির্দেশ করে যে জল আপনার কোষের ভেতরে পৌঁছাতে পারছে না।
৫. শুষ্ক ত্বক এবং ওষ্ঠাধর:
ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা কমে যাওয়া ডিহাইড্রেশনের বড় প্রমাণ। হাতের চামড়া সামান্য টেনে ছেড়ে দিলে যদি তা আগের জায়গায় ফিরতে সময় নেয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বাঁচবার উপায়: শুধু জল নয়, চাই সঠিক হাইড্রেশন
এই গরমের হাত থেকে বাঁচতে এবং বেশি জল খেয়েও যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়, তার জন্য আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:
- ওআরএস (ORS) বা নুন-চিনির জল: সাধারণ জলের পাশাপাশি দিনে অন্তত একবার ওআরএস বা বাড়িতে তৈরি নুন-চিনি-লেবুর জল খান। এটি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।
- ডাবের জল ও ঘোল: ডাবের জল হলো প্রকৃতির তৈরি সেরা এনার্জি ড্রিংক, যাতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। এছাড়া টক দইয়ের ঘোল বা ছাঁচ শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
- রসালো ফল: তরমুজ, শসা, বেল বা কাঁচা আমের শরবত নিয়মিত ডায়েটে রাখুন। এগুলোতে জলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক শর্করা ও খনিজ থাকে।
গরমের দিনে তৃষ্ণা মেটানো জরুরি, তবে তার চেয়েও বেশি জরুরি সঠিক নিয়মে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা। কেবল জলের ওপর নির্ভর না করে খনিজ সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করুন এবং শরীরের দেওয়া ছোট ছোট লক্ষণগুলোকে চিনে নিয়ে সুস্থ থাকুন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


