বিয়ার পান করলে কি সত্যিই কিডনিতে পাথর হয় না? কী বলছে বিজ্ঞান

লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বিয়ার খেলে নাকি প্রস্রাবের চাপ বাড়ে এবং পাথরের টুকরো শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই ধারণা কি আদেও বিজ্ঞানসম্মত, নাকি স্রেফ একটি বিপজ্জনক মিথ?

Published on: Jan 19, 2026 12:36 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কিডনিতে পাথর হওয়া এক অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। আর এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে বা পাথর গলাতে ‘বিয়ার পান’ করার পরামর্শ দেননি এমন শুভাকাঙ্ক্ষী খুঁজে পাওয়া ভার। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বিয়ার খেলে নাকি প্রস্রাবের চাপ বাড়ে এবং পাথরের টুকরো শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই ধারণা কি আদেও বিজ্ঞানসম্মত, নাকি স্রেফ একটি বিপজ্জনক মিথ?

বিয়ার পান করলে কি সত্যিই কিডনিতে পাথর হয় না? কী বলছে বিজ্ঞান
বিয়ার পান করলে কি সত্যিই কিডনিতে পাথর হয় না? কী বলছে বিজ্ঞান

বিয়ার এবং কিডনির পাথরের মধ্যকার বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক জেনে নিন।

বিয়ার কি সত্যিই পাথর বের করতে সাহায্য করে? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

বিয়ার পান করলে সাময়িকভাবে প্রস্রাবের বেগ বাড়ে ঠিকই, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আপনার কিডনির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে, তা দেখে নিন:

১. বিয়ার ও ডিহাইড্রেশন (জলশূন্যতা)

কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরে জলের অভাব। বিয়ার একটি 'ডাই-ইউরেটিক' পানীয়, যা শরীর থেকে জল বের করে দেয়। ফলে প্রস্রাব গাঢ় হয়ে যায় এবং পাথরের খনিজ উপাদানগুলো আরও ঘনীভূত হয়। নিয়মিত বিয়ার পান করলে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে, যা নতুন করে পাথর তৈরির পথ প্রশস্ত করে।

২. পিউরিন ও ইউরিক অ্যাসিড

বিয়ারে প্রচুর পরিমাণে ‘পিউরিন’ (Purine) থাকে। এই পিউরিন ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। যারা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগছেন, বিয়ার পান করলে তাদের কিডনিতে পাথরের সংখ্যা ও আকার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

৩. অতিরিক্ত ক্যালরি ও ওজন বৃদ্ধি

বিয়ারে থাকা ক্যালরি শরীরের ওজন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দেয়। স্থূলতা সরাসরি কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম ঝুঁকি। তাই ওজন বাড়লে পরোক্ষভাবে পাথরের সমস্যাও জটিলতর হয়।

৪. পাথরের আকার ও অবস্থান

যদি পাথরের আকার ছোট (৫ মিমি-এর কম) হয়, তবে প্রচুর জল খেয়ে তা বের করা সম্ভব। কিন্তু বিয়ার খেয়ে প্রস্রাবের অতিরিক্ত চাপের মাধ্যমে বড় পাথর বের করার চেষ্টা করলে সেটি মূত্রনালীতে (Ureter) আটকে যেতে পারে, যা মারাত্মক সংক্রমণের সৃষ্টি করে।

তবে কি বিয়ার একেবারেই অকেজো?

ফিনল্যান্ডের এক পুরনো গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে, পরিমিত বিয়ার পান পাথরের ঝুঁকি কিছুটা কমায়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিয়ারের চেয়ে জল, লেবুর রস এবং ডাবের জল কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর। বিয়ারের অ্যালকোহল লিভার এবং হার্টের ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলে, তার তুলনায় এর কথিত 'উপকার' নগণ্য।

কিডনিতে পাথর রুখতে সঠিক উপায় কী?

  • পর্যাপ্ত জল: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন।
  • লবণ কমান: খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
  • লেবু ও সাইট্রাস: পাতিলেবুর রস বা সাইট্রিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফল পাথর জমতে বাধা দেয়।
  • ক্যালসিয়াম: হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খান, যাতে অক্সালেট পাথরের ঝুঁকি কমে।