ভাত খেলেই কি হু হু করে ওজন বাড়ে? জানুন ওজন না বাড়িয়ে নিশ্চিন্তে ভাত খাওয়ার নিয়ম

আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান (Nutritional Science)-এর মতে, ভাত খেলে সোজা মেদ বাড়ে—এই ধারণাটি পুরোপুরি সত্যি নয়। মূল অপরাধী ভাত নিজে নয়, বরং আমাদের ভাত খাওয়ার পরিমাণ, খাওয়ার সময় এবং জীবনযাত্রা!

Published on: Aug 7, 2026, 15:50:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাঙালির খাদ্যতালিকায় 'ভাত' কেবল একটি খাবার নয়, বরং এক পরম আবেগ ও তৃপ্তির নাম। দুপুরে এক থালা গরম ভাত ছাড়া যেন আমাদের আহার অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে আজকাল ওজন কমানোর ভূত মাথায় চাপলেই খাদ্যরসিকদের নিশানা হয় এই ভাত। জিম ট্রেনার থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার ডায়েট গুরুদের মতে—ওজন কমাতে হলে বা পেটের মেদ ঝরাতে হলে প্রথমেই ভাত পুরোপুরি খাদ্যতালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে হবে। কিন্তু সত্যিই কি ভাত খেলে মেদ বাড়ে, নাকি এটি স্রেফ একটি প্রচলিত ভুল ধারণা বা মিথ?

ভাত খেলেই কি হু হু করে ওজন বাড়ে? জানুন ওজন না বাড়িয়ে নিশ্চিন্তে ভাত খাওয়ার নিয়ম
ভাত খেলেই কি হু হু করে ওজন বাড়ে? জানুন ওজন না বাড়িয়ে নিশ্চিন্তে ভাত খাওয়ার নিয়ম

আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান (Nutritional Science)-এর মতে, ভাত খেলে সোজা মেদ বাড়ে—এই ধারণাটি পুরোপুরি সত্যি নয়। মূল অপরাধী ভাত নিজে নয়, বরং আমাদের ভাত খাওয়ার পরিমাণ, খাওয়ার সময় এবং জীবনযাত্রা! ভাত খেয়েও কীভাবে ছিপছিপে ও সুস্থ থাকা সম্ভব, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত পুষ্টি প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. ভাত খেলে কেন মেদ বাড়ে মনে করা হয় এবং এর আসল রহস্য

ক) উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (High GI):

সাদা চালে (White Rice) প্রচুর পরিমাণে সিম্পল কার্বোহাইড্রেট থাকে এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। ফলে ভাত খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবে ভাত একা না খেয়ে যদি শাকসবজি, ডাল বা মাছ-মাংসের সাথে খাওয়া হয়, তবে ভাতের এই গ্লাইসেমিক লোড একধাক্কায় অনেক কমে যায় এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

খ) পরিমাণের ভুল (Portion Control-এর অভাব):

বাঙালি পরিবারে প্লেট ভর্তি ভাত এবং তার সাথে অল্প তরকারি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ভাতে ক্যালরির পরিমাণ কিন্তু আকাশছোঁয়া নয় (১ কাপ সিদ্ধ ভাতে প্রায় ১৩০-১৫০ ক্যালরি থাকে)। সমস্যা তৈরি হয় যখন আমরা একবারে ২-৩ কাপ ভাত খেয়ে ফেলি। শরীরের চাহিদার অতিরিক্ত যে ক্যালরি গ্রহণ করা হয়, সেটাই পরবর্তীতে চর্বি হিসেবে জমে।

গ) কায়িক পরিশ্রমের অভাব:

ভাত দ্রুত হজম হয়ে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। কিন্তু ভাত খাওয়ার পর কোনো শারীরিক পরিশ্রম বা কায়িক কাজ না করলে বা দুপুরে ভারী ভাত খেয়ে সোজা ঘুমিয়ে পড়লে সেই অব্যবহৃত ক্যালরি পেটে ও নিতম্বে মেদ হিসেবে জমা হতে শুরু করে।

২. মেদ না বাড়িয়ে নিশ্চিন্তে ভাত খাওয়ার ৪টি জাদুকরী নিয়ম

  • ১. প্লেটের ৩ ভাগের ১ ভাগ নিয়ম (Plate Method):

ভাত খাওয়ার সময় থালার অর্ধেক অংশ নানাবিধ শাকসবজি ও সালাড দিয়ে ভরিয়ে রাখুন। চারভাগের একভাগ অংশ প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম বা পনির) এবং বাকি চারভাগের একভাগ অংশে ভাত রাখুন। এতে পেট দ্রুত ভরবে, পুষ্টি মিলবে এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

  • ২. বাসমতী বা ব্রাউন রাইস বেছে নেওয়া:

অতিরিক্ত পলিশ করা সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইস (Brown Rice) বা লাল চালের ভাত খাওয়া বেশি উপকারী। এতে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজম হতে সময় নেয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রেখে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

  • ৩. রাতে ভাত এড়িয়ে দুপুরে খাওয়া:

দুপুরের খাবারের সময় আমাদের শরীরের মেটাবলিজম বা হজমক্ষমতা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই দুপুরে পরিমিত ভাত খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে রাতে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার সুযোগ কম থাকে বলে রাতে ভাত এড়িয়ে রুটি বা হালকা খাবার খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

  • ৪. ভাত পানের আগে একটু জল ও শাকসবজি খাওয়া:

খাবার খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে এক গ্লাস জল পান করুন। ভাত খাওয়া শুরু করার আগে প্রথম কয়েকটি কামড় শসা, সালাড বা তরকারি দিয়ে নিন। এতে ভাতের মাত্রা আপনা থেকেই কমে আসবে।

আসল কথা

মেদ বৃদ্ধির পেছনে এককভাবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার দায়ী নয়, দায়ী হলো অনিয়ন্ত্রিত ক্যালরি গ্রহণ। তাই পছন্দের ভাতকে জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে ও সঠিক উপায়ে খেলে মেদ বাড়ার কোনো ঝুঁকি ছাড়াই সুস্থ থাকা সম্ভব।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More