বাসন মাজলে এই উপকারটা হয়! এখনই জেনে নিন বাড়ির এই সাধারণ কীভাবে সাহায্য করছে আপনাকে
ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি (Florida State University)-র গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সচেতনভাবে থালাবাসন মাজার অভ্যাস মানুষের মানসিক চাপ হ্রাস করে এবং মস্তিষ্কে ইতিবাচক তরঙ্গের সঞ্চার করে।
দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের তালিকায় থালাবাসন মাজা বা ধোওয়াকে অনেকেই একঘেয়ে বা ক্লান্তিকর কাজ বলে মনে করেন। খাওয়ার পর সিঙ্কে জমে থাকা এঁটো বাসন পরিষ্কার করার কাজটি অধিকাংশ মানুষের কাছেই এক ধরণের বাধ্যবাধকতা। তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কিন্তু সম্পূর্ণ এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাসন মাজার এই সাধারণ কাজটিকে যদি সঠিক মানসিকতায় বা সচেতনভাবে (Mindfully) করা যায়, তবে তা মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাবার পাশাপাশি মানুষের মানসিক মনোযোগ বা মনোসংযোগ (Focus and Concentration) বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। রান্নাঘরের এই সাধারণ অভ্যাস কীভাবে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে—তা জেনে নিন।
ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি (Florida State University)-র গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সচেতনভাবে থালাবাসন মাজার অভ্যাস মানুষের মানসিক চাপ হ্রাস করে এবং মস্তিষ্কে ইতিবাচক তরঙ্গের সঞ্চার করে।
মাইন্ডফুলনেস ও বাসন মাজা: বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন
মনোবিজ্ঞানে ‘মাইন্ডফুলনেস’ (Mindfulness) বা সচেতন উপস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম। মাইন্ডফুলনেস হলো বর্তমান মুহূর্তে সম্পূর্ণ সচেতনভাবে বেঁচে থাকা। যখন কোনো ব্যক্তি বাসন ধোওয়ার সময়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ জল, ফেনা, সাবানের গন্ধ এবং থালাবাসনের স্পর্শের ওপর নিবন্ধ রাখেন, তখন মস্তিষ্ক অতীত বা ভবিষ্যতের চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে একদম বর্তমান মুহূর্তে স্থির হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা বাসন ধোওয়ার সময় কেবল দ্রুত কাজ শেষ করার চিন্তা না করে, সেই প্রক্রিয়ার প্রতিটি অনভূতির দিকে নজর দেন, তাঁদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ (Anxiety) প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায় এবং মানসিক অনুপ্রেরণা বা মনোযোগ ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
কীভাবে বাড়ে মস্তিষ্কের একাগ্রতা?
১. একমুখী মনোযোগের অনুশীলন: আধুনিক যুগে আমরা একই সাথে একাধিক কাজ বা ‘মাল্টিটাস্কিং’ করতে গিয়ে মানসিক একাগ্রতা হারিয়ে ফেলি। বাসন ধোওয়ার কাজটিতে মনোযোগ দিলে মস্তিষ্ক একমুখী চিন্তার (Single-tasking) প্রশিক্ষণ পায়, যা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য জটিল কাজে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
২. মানসিক ক্লান্তি ও স্ট্রেস দূর করা: গরম বা ঠান্ডা জলের স্পর্শ, সাবানের ফেনা এবং হালকা হাতের নড়াচড়া নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে। এর ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোন ক্ষরিত হয়, যা মনকে সতেজ করে তোলে।
৩. ইন্দ্রিয় জাগ্রতকরণ: জল স্পর্শ করা, সাবানের সুবাস পাওয়া এবং পরিষ্কার বাসনের শব্দ—এগুলি মানুষের স্পর্শ, ঘ্রাণ ও শ্রবণ ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে তোলে, যা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে ক্লিয়ারেন্স ও মানসিক সুস্থতা এনে দেয়।
মনোযোগ বাড়াতে কীভাবে ধোবেন থালাবাসন?
বাসন মাজাকে কেবল একটি বিরক্তিকর গৃহস্থালি কাজ না ভেবে, প্রতিদিনের এই অভ্যাস থেকে সর্বোচ্চ মানসিক সুফল পেতে কিছু সহজ কৌশল মেনে চলতে পারেন:
- আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি নিন: সিঙ্কের সামনে দাঁড়ানোর পর মন থেকে অন্য সমস্ত দুশ্চিন্তা সরিয়ে রাখুন।
- ইন্দ্রিয় অনুভূতিতে ডুব দিন: হাতের ওপর বয়ে যাওয়া জলের তাপমাত্রা, সাবানের সুবাস এবং স্পঞ্জ দিয়ে থালা পরিষ্কার করার শব্দ ও স্পর্শে মনোযোগ দিন।
- ধীরেসুস্থে শ্বাস নিন: বাসন মাজার সময় গভীর ও ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস রাখুন। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে এবং মন শান্ত হয়।
বাসন মাজা কেবল গৃহস্থালির আবর্জনা বা এঁটো পরিষ্কারের কাজ নয়; এটি মনকে শান্ত ও একাগ্র করার এক অসামান্য ও সহজ মাধ্যম। জীবনের ব্যস্ততা ও মানসিক দুশ্চিন্তার মাঝে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এই সচেতন বাসন মাজার অভ্যাস আপনাকে দিতে পারে এক নতুন মানসিক প্রশান্তি ও প্রখর মনোসংযোগ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


