Coffee on empty stomach side effects: সকালে উঠেই কফি খাচ্ছেন? নিজের অজান্তেই যে বিপদ ডেকে আনছেন

Coffee on empty stomach side effects: চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের (পাকস্থলী বিশেষজ্ঞ) মতামত অনুযায়ী, খালি পেটে কফি খাওয়ার অভ্যাস সাময়িকভাবে এনার্জি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের বড়সড় ক্ষতি করতে পারে।

Published on: May 25, 2026, 11:04:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Coffee on empty stomach side effects: ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফির কাপে চুমুক না দিলে অনেকেরই সকালটা ঠিক জমে ওঠে না। বিছানায় শুয়ে শুয়ে বা খালি পেটে কফি (Empty Stomach Coffee) খাওয়ার এই অভ্যাস বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের। চটজলদি ক্লান্তি দূর করে শরীর ও মনকে চনমনে করে তুলতে কফির জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু আপনি কি জানেন, সকালে কিছু না খেয়ে খালি পেটে কফি খাওয়া আপনার শরীরের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর?

সকালে উঠেই কফি খাচ্ছেন? নিজের অজান্তেই যে বিপদ ডেকে আনছেন
সকালে উঠেই কফি খাচ্ছেন? নিজের অজান্তেই যে বিপদ ডেকে আনছেন

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের (পাকস্থলী বিশেষজ্ঞ) মতামত অনুযায়ী, খালি পেটে কফি খাওয়ার অভ্যাস সাময়িকভাবে এনার্জি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের বড়সড় ক্ষতি করতে পারে।

কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন (Caffeine) আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে অলসতা দূর করতে সাহায্য করে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের পাকস্থলী যখন দীর্ঘক্ষণ খালি থাকে (যেমন রাতের ঘুমের পর সকালে), তখন সেখানে এক ধরণের সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি হয়। এই অবস্থায় সরাসরি কফি প্রবেশ করলে তা শরীরের স্বাভাবিক মেকানিজম বা কাজকর্মকে ব্যাহত করে।

১. অ্যাসিড ও গ্যাসের তীব্র সমস্যা

কফি প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা অম্লীয় বা অ্যাসিডিক (Acidic)। খালি পেটে কফি খাওয়ার সাথে সাথে এটি পাকস্থলীতে 'হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড' (HCl)-এর ক্ষরণ বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক নিয়মে এই অ্যাসিড আমাদের খাবার হজম করতে সাহায্য করে। কিন্তু পেটে কোনো খাবার না থাকা অবস্থায় যদি অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয়, তবে তা পাকস্থলীর দেয়ালে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। এর ফলে বদহজম, বুক জ্বালা, টক ঢেকুর এবং তীব্র গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘকাল এই অভ্যাস বজায় রাখলে গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

২. কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীরে 'কর্টিসল' (Cortisol) নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে যায়। এই হরমোনটিকে বলা হয় 'স্ট্রেস হরমোন', যা আমাদের ঘুম থেকে জাগতে এবং সারাদিনের কাজের জন্য শরীরকে সচল ও সতর্ক করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা বলছেন, খালি পেটে কফি খেলে ক্যাফেইন এই কর্টিসলের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে শরীর প্রাকৃতিক উপায়ে জাগ্রত হওয়ার ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং কফির ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল (Caffeine Dependency) হয়ে পড়ে।

৩. মানসিক উদ্বেগ এবং হাত-পা কাঁপা (Jitters)

অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন, সকালে খালি পেটে কড়া কফি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর বুক ধড়ফড় করে কিংবা হাত-পা হালকা কাঁপতে শুরু করে। এর কারণ হলো, খালি পেটে ক্যাফেইন খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। এটি শরীরে 'অ্যাড্রেনালিন' হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে হঠাৎ করে মানসিক উদ্বেগ, উত্তেজনা বা নার্ভাসনেস (Anxiety) তৈরি হতে পারে।

৪. খনিজ শোষণে বাধা এবং ডিহাইড্রেশন

কফি একটি মূত্রবর্ধক বা ডাইইউরেটিক (Diuretic) পানীয়। খালি পেটে এটি খেলে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যায়, যা ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কফিতে থাকা উপাদানগুলো খাবার থেকে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং জিংকের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান শোষণে বাধা দেয়।

তাহলে কফি খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?

কফি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ নয়, তবে তা খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম মেনে চলা উচিত:

  • জলখাবারের পর: সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে অন্তত এক গ্লাস জল খান। তারপর হালকা কিছু খাবার বা ব্রেকফাস্ট (যেমন ওটস, ডিম বা টোস্ট) খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পর কফির কাপে চুমুক দিন।
  • মিড-মর্নিং কফি: চিকিৎসকদের মতে, সকাল ৯:৩০ থেকে ১১:৩০ মিনিটের মধ্যে কফি খাওয়ার সেরা সময়। এই সময়ে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা কম থাকে, তাই কফি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

সকালের এক কাপ কফি আপনার সারাদিনের কাজের শক্তি জোগাতে পারে, তবে তা যেন আপনার পাকস্থলীর ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। আজই আপনার অভ্যাস সামান্য বদলে ফেলুন; খালি পেটে কফি না খেয়ে সাথে হালকা কিছু মুখে দিন এবং সুস্থ থাকুন।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More