কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না বোঝার সহজ উপায় কী? কোন লক্ষণ দেখলেই সাবধান হবেন
অনেক সময় পাথরের আকার ছোট থাকলে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু পাথরটি যখন কিডনি থেকে মূত্রনালিতে সরে আসে, তখন শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা।
কিডনিতে পাথর বা 'কিডনি স্টোন' বর্তমানে একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম এবং পর্যাপ্ত জল পান না করার ফলে এই সমস্যা হু হু করে বাড়ছে। অনেক সময় পাথরের আকার ছোট থাকলে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কিন্তু পাথরটি যখন কিডনি থেকে মূত্রনালিতে সরে আসে, তখন শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা।

আপনার কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, তা বোঝার কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ ও প্রাথমিক সংকেত জেনে নিন।
কিডনিতে পাথরের ৫টি প্রধান উপসর্গ: যা দেখে সাবধান হবেন
চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত:
১. পিঠের নিচের দিকে বা কোমরে তীব্র ব্যথা
কিডনি স্টোনের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো পিঠের দু-পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র ব্যথা। এই ব্যথা অনেক সময় কোমর থেকে কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথার তীব্রতা কখনো বাড়ে, আবার কখনো কমে।
২. প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধের পরিবর্তন
যদি দেখেন প্রস্রাবের রঙ লালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হয়ে গেছে, তবে তা কিডনিতে পাথরের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় পাথরের ঘর্ষণে মূত্রনালিতে রক্তপাত হয়। এছাড়া প্রস্রাবে দুর্গন্ধ থাকাও একটি বড় লক্ষণ।
৩. বারবার প্রস্রাবের বেগ এবং জ্বালাপোড়া
পাথর যখন মূত্রনালির কাছাকাছি চলে আসে, তখন বারবার প্রস্রাব পাওয়ার অনুভূতি হয়। প্রস্রাব করার সময় অসহ্য জ্বালাপোড়া বা ব্যথা (Dysuria) হওয়া কিডনি স্টোনের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
৪. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
কিডনি এবং পাকস্থলীর স্নায়ুর মধ্যে গভীর সংযোগ থাকে। কিডনিতে পাথর হলে বা সেখানে চাপ সৃষ্টি হলে অনেক সময় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
৫. জ্বর ও কাঁপুনি দিয়ে শরীর গরম হওয়া
যদি ব্যথার সাথে জ্বর আসে এবং শরীর কাঁপতে থাকে, তবে বুঝতে হবে কিডনিতে ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এটি একটি জরুরি অবস্থা এবং অবিলম্বে হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন।
পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
- প্রচুর জল পান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন যাতে প্রস্রাব পরিষ্কার থাকে।
- লবণ ও অক্সালেট জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত লবণ, পালং শাক, বিট এবং চকোলেট বেশি পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
- লেবুর রস: প্রতিদিন লেবু-জল পান করলে এতে থাকা সাইট্রেট পাথর জমতে বাধা দেয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে আপনি সোজা হয়ে বসতে পারছেন না, প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হচ্ছে অথবা প্রস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে সহজেই পাথরের উপস্থিতি ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।
E-Paper











