Quote of the Day: ‘এমন কোনো অনুপম সৌন্দর্য নেই...’, অ্যালান পো রূপের কোন ব্যাখ্যা দিতে পেরেছিলেন
Quote of the Day: ১৮৪১ সালে তাঁর 'দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ' (The Murders in the Rue Morgue) গল্পের মাধ্যমে তিনি প্রথম 'সি মঁসিয়ে অগুস্ত দুপাঁ' নামক গোয়েন্দা চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। এই গল্পটিকেই বিশ্বের প্রথম আধুনিক গোয়েন্দা কাহিনি হিসেবে গণ্য করা হয়।
Quote of the Day: বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় যে কজন লেখক রহস্য আর বিষণ্ণতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন এডগার অ্যালান পো। তিনি কেবল একজন কবি বা গল্পকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের অবচেতন মনের অন্ধকার অলিন্দে আলো ফেলা এক দুঃসাহসী নাবিক। তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায় জন্ম নিয়েছে আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্য এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)
"এমন কোনো অনুপম সৌন্দর্য নেই... যার গঠনের মধ্যে কিছুটা অদ্ভুতত্ব বা অস্বাভাবিকতা মিশে নেই।" (There is no exquisite beauty… without some strangeness in the proportion)
ব্যাখ্যা: পো বিশ্বাস করতেন যে নিখুঁত সৌন্দর্য আসলে একঘেয়ে। কোনো কিছুর প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হতে হলে তার মধ্যে একটু রহস্য, একটু ভিন্নতা বা একটু 'অস্বাভাবিকতা' থাকা প্রয়োজন। এই অসামঞ্জস্যই সৌন্দর্যকে সাধারণের ভিড় থেকে আলাদা করে অনন্য করে তোলে।
জীবনের কিছু অসামান্য অ্যানেকডোট (Anecdotes)
এডগার অ্যালান পো-র জীবন তাঁর ছোটগল্পের চেয়েও বেশি রহস্যময় ছিল। তাঁর জীবনের কিছু ঘটনা আজও গবেষকদের অবাক করে:
১. গোয়েন্দা গল্পের প্রথম স্রষ্টা: আমরা আজ ফেলুদা, ব্যোমকেশ বা শার্লক হোমসকে নিয়ে মাতামাতি করি, কিন্তু এই গোয়েন্দা সাহিত্যের বীজ বপন করেছিলেন পো। ১৮৪১ সালে তাঁর 'দ্য মার্ডারস ইন দ্য রু মর্গ' (The Murders in the Rue Morgue) গল্পের মাধ্যমে তিনি প্রথম 'সি মঁসিয়ে অগুস্ত দুপাঁ' নামক গোয়েন্দা চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। এই গল্পটিকেই বিশ্বের প্রথম আধুনিক গোয়েন্দা কাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. 'দ্য রেভেন' এবং রাতারাতি খ্যাতি: তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘দ্য রেভেন’ (The Raven) যখন ১৮৪৫ সালে প্রকাশিত হয়, তখন তিনি রাতারাতি তারকা হয়ে যান। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রাস্তায় তাঁকে দেখলে ডানা ঝাপটিয়ে কাকের মতো ডাকত এবং পিছু পিছু ছুটত। তিনি মজা করে নিজেকে ‘দ্য রেভেন’ বলেই পরিচয় দিতেন। অথচ ট্র্যাজেডি হলো, এই বিশ্ববিখ্যাত কবিতার জন্য তিনি পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ৯ ডলার!
৩. রহস্যময় মৃত্যু: পো-র মৃত্যু আজও সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত রহস্য। ১৮৪৯ সালের ৩ অক্টোবর বাল্টিমোরের রাস্তায় তাঁকে অত্যন্ত বিধ্বস্ত এবং অন্যের পোশাক পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। চার দিন পর হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি বারবার 'রেনল্ডস' নামে কাউকে ডাকছিলেন। তিনি কীভাবে সেই অবস্থায় পৌঁছালেন, তা আজও কেউ জানে না।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শৈশব: ১৮০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি আমেরিকার বোস্টনে এডগার অ্যালান পো জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতা-মাতাকে হারান এবং জন ও ফ্রান্সেস অ্যালান নামক এক দম্পতির কাছে পালিত হন। যদিও তাঁর পালক পিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনোই মধুর ছিল না।
- সাহিত্যিক সংগ্রাম: পো-র জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য আর সংগ্রামের। তিনি ছিলেন আমেরিকার প্রথম দিককার একজন লেখক, যিনি কেবল লেখালেখি করে জীবন ধারণ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ‘দ্য ব্ল্যাক ক্যাট’, ‘দ্য টেল-টেল হার্ট’ এবং ‘দ্য ফল অফ দ্য হাউস অফ আশার’ গল্পগুলো তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে।
- ব্যক্তিগত জীবন: ১৮৩৫ সালে তিনি তাঁর তুতো বোন ভার্জিনিয়া ক্লেমকে বিয়ে করেন। ভার্জিনিয়ার অকাল মৃত্যু পো-কে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয়, যা তাঁর পরবর্তী অনেক কবিতায় (যেমন— 'অ্যানাবেল লি') ফুটে উঠেছে।
কেন তিনি আজও অপরিহার্য?
এডগার অ্যালান পো আমাদের শিখিয়েছেন যে ভয়ও সুন্দর হতে পারে। বর্তমানের হরর সিনেমা বা সাসপেন্স থ্রিলারের যে কাঠামো আমরা দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনিই। মানুষের মনের অন্ধকার দিকগুলোকে তিনি যেভাবে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, তা আজও পাঠকদের শিহরিত করে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


