রাতে ঘুম আসছে না? এই খাবারগুলি খেলে সমস্যা কিছুটা কমবে
রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া বা বার বার ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ অনেক সময় আমাদের জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত।
অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া (Insomnia) বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া বা বার বার ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ অনেক সময় আমাদের জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত। সৌভাগ্যবশত, কিছু প্রাকৃতিক খাবার রয়েছে যা ঘুমের হরমোন উৎপাদন বাড়িয়ে এবং স্নায়ুকে শান্ত করে আপনাকে গভীর ঘুমের দিকে পরিচালিত করতে পারে।

কোন কোন খাবার রাতে খেলে অনিদ্রার সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব, তা নিচে বৈজ্ঞানিক কারণসহ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
ঘুমের বিজ্ঞান: কেন কাজ করে এই খাবারগুলো?
ভালো ঘুমের জন্য শরীরে মূলত দুটি উপাদান প্রয়োজন:
- মেলাটোনিন (Melatonin): এটি সরাসরি 'ঘুমের হরমোন' নামে পরিচিত এবং শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে।
- ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan): এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন (সুখ হরমোন) উৎপাদনে সাহায্য করে।
- ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium): এটি একটি খনিজ, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে এবং পেশীর টান কমায়, ফলে ঘুম সহজ হয়।
রাতে যেসব খাবার খেলে দ্রুত ঘুম আসবে
১. কাঠবাদাম ও আখরোট (Almonds and Walnuts)
বাদাম, বিশেষত আখরোট এবং কাঠবাদাম, ঘুমের জন্য দারুণ কার্যকরী।
- উপকারিতা: কাঠবাদাম হলো ম্যাগনেসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, যা পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে। আর আখরোট হলো মেলাটোনিনের প্রাকৃতিক উৎসগুলির মধ্যে অন্যতম। এছাড়া এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে, যা ভালো ঘুমের জন্য উপকারী।
- পরিমাণ: রাতে শোবার ১ ঘণ্টা আগে এক মুঠো (৫-১০টি) কাঠবাদাম বা আখরোট খেতে পারেন।
২. কিউই ফল (Kiwi Fruit)
কম ক্যালোরির কিউই ফল সাম্প্রতিক গবেষণায় ঘুমের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
- উপকারিতা: কিউইতে উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং সেরোটোনিন (যা মেলাটোনিনের অগ্রদূত) থাকে। গবেষণা অনুসারে, রাতে শোবার আগে কিউই খেলে ঘুমের মান ও সময় দুটোই বাড়ে।
৩. উষ্ণ দুধ (Warm Milk)
এটি কেবল প্রচলিত টোটকাই নয়, এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে।
- উপকারিতা: দুধে থাকে ট্রিপটোফ্যান। উষ্ণ দুধ পান করলে মানসিক আরাম পাওয়া যায় এবং ট্রিপটোফ্যান শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়া দুধে ক্যালসিয়ামও থাকে, যা মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে।
৪. ক্যামোমিল চা ও অন্যান্য ভেষজ চা (Chamomile Tea)
ক্যাফেইনমুক্ত ক্যামোমিল চা হলো অনিদ্রার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাকৃতিক প্রতিকার।
- উপকারিতা: ক্যামোমিল চা-তে অ্যাপিজেনিন (Apigenin) নামক একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট রিসেপ্টরগুলিকে শান্ত করে উদ্বেগ কমায় এবং ঘুম আনতে সাহায্য করে। শোবার ৩০ মিনিট আগে হালকা গরম চা পান করুন।
৫. কলা (Banana)
কলা একটি প্রাকৃতিক ঘুম-সহায়ক খাবার।
- উপকারিতা: কলায় রয়েছে পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই দুটি খনিজই পেশী শিথিল করতে এবং রাতে ঘুমের সময় পায়ের পেশীতে টান বা ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা: কী খাবেন না?
রাতে ভালো ঘুমের জন্য খাবারের মতোই জরুরি হলো কিছু জিনিস এড়িয়ে চলা:
- শোবার ২-৩ ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- রাতে কফি, অ্যালকোহল বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না।
- অতি মশলাদার খাবার খাবেন না, যা বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


