Foods for child hair growth: ছোট বয়সেই বাচ্চার মাথায় পাকা চুল? আজ থেকেই খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫টি খাবার, ফিরবে কালো রং

How to prevent premature greying in kids: চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের মতে, জিনগত কারণ বা বংশগত প্রভাব ছাড়াও শিশুদের অকালে চুল পাকার পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণটি কাজ করে, তা হলো পুষ্টির অভাব (Nutritional Deficiency) এবং অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস।

Published on: Jun 15, 2026, 12:39:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Foods for child hair growth: চুল পেকে সাদা হয়ে যাওয়া সাধারণত বার্ধক্যের লক্ষণ। কিন্তু বর্তমান যুগে অনেক বাবা-মায়েরই মস্ত বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশুর অকালে চুল পেকে যাওয়া (Premature Greying of Hair)। অনেক সময় দেখা যায়, মাত্র ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মাথাতেও দু-চারটি রূপোলি বা সাদা চুল উঁকি দিচ্ছে। ছোট বয়সে বাচ্চার চুল পেকে গেলে তা যেমন দেখতে খারাপ লাগে, তেমনই তা শিশুর আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়।

ছোট বয়সেই বাচ্চার মাথায় পাকা চুল? আজ থেকেই খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫টি খাবার
ছোট বয়সেই বাচ্চার মাথায় পাকা চুল? আজ থেকেই খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫টি খাবার

চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের মতে, জিনগত কারণ বা বংশগত প্রভাব ছাড়াও শিশুদের অকালে চুল পাকার পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণটি কাজ করে, তা হলো পুষ্টির অভাব (Nutritional Deficiency) এবং অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস। চুলের প্রাকৃতিক কালো রঙের জন্য দায়ী হলো ‘মেলানিন’ (Melanin) নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাব হলে মেলানিন উৎপাদন কমে যায় এবং চুল সাদা হতে শুরু করে। তবে সঠিক সময়ে বাচ্চার খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে এই সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোন কোন খাবার খাওয়ালে শিশুর অকালে চুল পাকবে না, তা জেনে নিন।

শিশুর চুলের স্বাস্থ্য ভেতর থেকে ভালো রাখতে দামি শ্যাম্পু বা তেলের চেয়েও বেশি প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। বাচ্চার চুল অকালে পেকে যাওয়া রোধ করতে প্রতিদিনের ডায়েটে নিচে দেওয়া খাবারগুলো অবশ্যই রাখুন:

১. ডিম এবং দুগ্ধজাত খাবার (ভিটামিন বি-১২-এর উৎস):

ভিটামিন বি-১২ (Vitamin B-12) চুলের মেলানিন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। এই ভিটামিনের অভাবে শিশুদের চুল সবচেয়ে দ্রুত পাকে। তাই বাচ্চার রোজকার খাবারে অন্তত একটি করে সেদ্ধ ডিম রাখুন। ডিমে থাকা প্রোটিন ও বায়োটিন চুলের গোড়া শক্ত করে। এছাড়া প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ, খাঁটি ছানা বা টক দই খাওয়ালে বাচ্চার শরীরে ভিটামিন বি-১২ এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়, যা চুলকে অকালে পেকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

২. সবুজ শাকসবজি ও পালং শাক (আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড):

শরীরে রক্তের অভাব বা অ্যানিমিয়া হলে চুলের পুষ্টি ব্যাহত হয়। পালং শাক, ব্রকোলি, মেথি শাকের মতো গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ ও সি থাকে। ভিটামিন সি মাথায় প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম তৈরিতে সাহায্য করে, যা চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে। নিয়মিত শাকসবজি খাওয়ালে মাথার ত্বকে (Scalp) রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে মেলানিন উৎপাদন সচল থাকে।

৩. কাঠবাদাম ও আখরোট (ভিটামিন ই এবং কপার):

বাদাম হলো পুষ্টির খনি। বিশেষ করে কাঠবাদাম (Almonds) এবং আখরোটের (Walnuts) মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ‘কপার’ বা তামা। কপার শরীরে মেলানিন তৈরিতে সরাসরি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন রাতে ৩-৪টি কাঠবাদাম জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান। এটি বাচ্চার স্মৃতিশক্তি যেমন বাড়াবে, তেমনই চুল পাকাও রোধ করবে।

৪. আমলকী এবং সাইট্রাস ফল (ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট):

আমলকীকে বলা হয় চুলের পরম বন্ধু। এতে থাকা বিপুল পরিমাণ ভিটামিন সি এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের অকাল বার্ধক্য বা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দূর করে। বাচ্চার বয়স একটু বেশি হলে তাকে প্রতিদিন আমলকীর রস বা আমলকীর মোরব্বা খাওয়াতে পারেন। এছাড়া পাতিলেবু, কমলালেবু, পেয়ারা এবং স্ট্রবেরির মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রেগুলার ডায়েটে রাখলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে, যা চুল কালো রাখতে সাহায্য করে।

৫. সামুদ্রিক মাছ ও লিভার (জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম):

বাচ্চা যদি মাছ খেতে ভালোবাসে, তবে তাকে সপ্তাহে অন্তত দু-এক দিন সামুদ্রিক মাছ (যেমন ইলিশ, পমফ্রেট বা স্যালমন) খাওয়ান। এই মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের শুষ্কতা দূর করে। এছাড়া মুরগির লিভার বা যকৃতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক (Zinc) এবং আয়রন থাকে, যা চুলের কোষগুলোকে অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

কোন খাবারগুলো একদম বাদ দেবেন?

বাচ্চার চুল পাকা আটকাতে ঘরের পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্যাকেটজাত চিপস, কোল্ড ড্রিংকস, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চকলেট এবং ময়দার তৈরি ফাস্টফুড (যেমন পিৎজা, বার্গার) খাওয়ানো একদম বন্ধ করতে হবে। এগুলো বাচ্চার শরীরে টক্সিন বাড়ায় এবং পুষ্টির শোষণ কমিয়ে দেয়।

শিশুর অকালে চুল পাকা কোনো স্থায়ী রোগ নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরের পুষ্টির অভাবেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। তাই চিন্তিত না হয়ে আজ থেকেই বাচ্চার খাবারের থালায় এই জাদুকরী খাবারগুলো সাজিয়ে দিন। সঠিক পুষ্টি আর পরিচ্ছন্ন জীবনযাত্রাই আপনার সন্তানের চুলকে রাখবে সুস্থ, ঘন এবং চিরকাল কালো।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More