আদা দিয়ে সমাধান করুন চুলের সমস্ত সমস্যা! জানুন নতুন চুল গজানো ও খুশকি তাড়ানোর জাদুকরী ৫ উপায়
বয়সের সাথে সাথে বা পরিবেশ দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা স্ক্যাল্পে ইনফেকশন হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। কেমিক্যালযুক্ত দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার না করে ঘরে বসেই আদার ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তা জেনে নিন।
আদা কেবল আমাদের রান্নাঘরের একটি অতি প্রয়োজনীয় মসলাই নয়, রূপচর্চা ও কেশচর্চায় এর ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকেই সমানভাবে প্রচলিত। পুষ্টিবিজ্ঞান ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আদায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, ফ্যাট-অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ‘জিনজেরল’ (Gingerol) নামক এক শক্তিশালী উপাদান। নিয়মিত সঠিক নিয়মে চুল ও স্ক্যাল্পে আদা ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে নতুন চুল গজানো এবং খুশকি দূর করতে এটি প্রাকৃতিক বরদান হিসেবে কাজ করে।

কেশচর্চায় আদা ব্যবহারের অলৌকিক উপকারিতা, এটি ব্যবহারের কয়েকটি জাদুকরী হেয়ার প্যাক এবং সঠিক নিয়ম জেনে নিন।
বয়সের সাথে সাথে বা পরিবেশ দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা স্ক্যাল্পে ইনফেকশন হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। কেমিক্যালযুক্ত দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার না করে ঘরে বসেই আদার ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তা জেনে নিন:
১. স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও চুল পড়া রোধ
আদায় থাকা ‘জিনজেরল’ উপাদান স্ক্যাল্পের রক্তনালীগুলোকে উন্মুক্ত করে রক্ত সঞ্চালন বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। স্ক্যাল্পে রক্ত প্রবাহ বাড়লে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে যায়। এর ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল পড়া দ্রুত বন্ধ হয়।
২. নতুন চুল গজাতে আদার রস ও নারকেল তেল
যাঁদের মাথার সামনের অংশের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা চুল পড়ে স্ক্যাল্প দেখা যাচ্ছে, তাঁদের জন্য আদার রস পরম উপকারী।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ চামচ তাজা আদার রসের সাথে ২ চামচ খাঁটি নারকেল তেল বা কাঠবাদামের (Almond) তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আঙুলের সাহায্যে স্ক্যাল্পে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে কোনো মৃদু বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহারে কিছুদিনের মধ্যেই নতুন তুলতুলে চুল গজাতে শুরু করবে।
৩. খুশকি দূর করতে আদা ও লেবুর রস
আদার শক্তিশালী অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-সেপ্টিক গুণাবলী স্ক্যাল্পের ছত্রাক বা ফাঙ্গাস ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ চামচ আদার রসের সাথে ১ চামচ টাটকা পাতিলেবুর রস এবং ১ চামচ তিলের তেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি পুরো স্ক্যাল্পে তুলা দিয়ে লাগান। লেবু ও আদার এই মিশ্রণ স্ক্যাল্পের পিএইচ (pH) মাত্রা ঠিক রাখে এবং খুশকি পুরোপুরি দূর করে। ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন।
৪. শুষ্ক চুল নরম ও সুঠাম করতে আদা ও অ্যালোভেরা প্যাক
চুলের রুক্ষতা ও ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা দূর করতে আদা ও অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ চামচ আদার পেস্টের সাথে ৩ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল এবং ১ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই হেয়ার মাস্কটি চুল ও স্ক্যাল্পে ভালোভাবে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট রাখুন। এটি চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এবং চুলকে করে তোলে রেশমির মতো নরম ও উজ্জ্বল।
৫. ঘন চুলের জন্য আদা ও পেঁয়াজের রসের জাদু
আদা ও পেঁয়াজ—দুটিতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সালফার ও প্রোটিন যা চুলের ঘনত্ব বাড়াতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: সমপরিমাণ আদার রস ও পেঁয়াজের রস একসাথে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। ২০-২৫ মিনিট পর ভালো গন্ধযুক্ত কোনো হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে দ্রুত চুল লম্বা ও ঘন হয়।
আদা ব্যবহারের কিছু জরুরি সতর্কতা
- আদা বেশ ঝাঁজালো হওয়ার কারণে অনেকের ত্বকে সামান্য অস্বস্তি হতে পারে। তাই স্ক্যাল্পে সরাসরি বা কাঁচা আদার রস ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে একটু লাগিয়ে ‘প্যাচ টেস্ট’ (Patch Test) করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
- আপনার স্ক্যাল্পে যদি কোনো কাটা ছেঁড়া বা ঘা থাকে, তবে আদার রস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- আদার রস চুলে মেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে দেবেন না; সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রাখাই যথেষ্ট।
চুলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান পেতে কৃত্রিম কেমিক্যালের ওপর ভরসা না রেখে প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক বা দুই দিন নিয়ম মেনে আদা দিয়ে কেশচর্চা করলে চুল যেমন সুস্থ ও সতেজ থাকবে, তেমনই পাবেন ঘন, কালো ও প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর চুল।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


