খেতে বসলেই নাক দিয়ে জল পড়ে? এটি কীসের লক্ষণ জানেন

এই সমস্যাটি বেশ বিব্রতকর, বিশেষ করে যখন আপনি জনসমক্ষে খাচ্ছেন। এই শারীরিক সমস্যাটি সাধারণত অ্যালার্জি বা ঠান্ডাজনিত নয়, বরং এর পিছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

Published on: Oct 18, 2025, 09:00:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

খাবার খাওয়ার সময় অনেকেরই নাক দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে জল পড়তে শুরু করে। এই সমস্যাটি বেশ বিব্রতকর, বিশেষ করে যখন আপনি জনসমক্ষে খাচ্ছেন। এই শারীরিক সমস্যাটি সাধারণত অ্যালার্জি বা ঠান্ডাজনিত নয়, বরং এর পিছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গাস্টেটরি রাইনাইটিস (Gustatory Rhinitis) বলা হয়।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

গাস্টেটরি রাইনাইটিস কী?

গাস্টেটরি রাইনাইটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার সময় নাকের স্নায়ুগুলি অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়। এর ফলে নাক থেকে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বা জল বের হয়। এটি মূলত অ্যালার্জি বা সংক্রমণের কারণে হয় না, বরং এটি একটি প্রতিবর্তী ক্রিয়া (Reflex Action)।

কেন এই সমস্যা হয়?

এই সমস্যার প্রধান কারণ হলো মুখের এবং নাকের স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে একটি যোগাযোগ ত্রুটি।

  • মসলাদার খাবার: এই সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ ট্রিগার হলো ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার। ক্যাপসাইসিন (Capsaicin) নামক উপাদান, যা ঝাল খাবারে থাকে, তা নাকের ভেতরের স্নায়ুগুলিকে উদ্দীপিত করে।
  • তীব্র গন্ধ: কিছু লোকের ক্ষেত্রে তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার, যেমন গরম স্যুপ, কফি বা ভিনিগারযুক্ত খাবারও এই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
  • বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের প্রতিক্রিয়াগুলো বৃদ্ধি পেতে পারে, কারণ নাকের স্নায়ুতন্ত্রের সংবেদনশীলতা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

সমাধানের উপায় কী?

গাস্টেটরি রাইনাইটিস পুরোপুরি নিরাময় করা কঠিন হলেও, কিছু পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব:

১. ট্রিগার সনাক্তকরণ: আপনার কোন ধরনের খাবার খেলে এই সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঝাল বা খুব গরম খাবার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। সেই খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন বা কম পরিমাণে গ্রহণ করুন।

২. খাওয়ার পদ্ধতির পরিবর্তন: খুব দ্রুত খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে খান। খাবার খুব গরম অবস্থায় না খেয়ে সামান্য ঠান্ডা করে খান। এতে নাক উদ্দীপিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

৩. ওষুধের ব্যবহার: যদি সমস্যাটি গুরুতর হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডাক্তার কিছু ক্ষেত্রে নাকের স্প্রে, যেমন অ্যাট্রোপিন (Atropine) বা ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড (Ipratropium Bromide) যুক্ত নাকের স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এই স্প্রেগুলো স্নায়ুর উদ্দীপনাকে শান্ত করে শ্লেষ্মা উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে।

৪. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার: খেতে বসার আগে এবং পরে হাত পরিষ্কার রাখুন, যাতে হাতে থাকা মসলা বা ঝাল নাকের কাছে না আসে।

মনে রাখবেন, এই সমস্যাটি সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। তবে এটি যদি শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বস্তির কারণ হয়, তবে অবশ্যই একজন ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞ বা অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More