চুল পরীক্ষা করেই অনেক কিছু জানা যায় স্বাস্থ্য সম্পর্কে! কীভাবে সেটি করা যায়, জেনে নিন
এই পদ্ধতির মাধ্যমে চুলের নমুনা পরীক্ষা করে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিটি কতটুকু নির্ভরযোগ্য এবং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্পর্কে কী কী তথ্য পাওয়া যায়, তা জেনে নেওয়া যাক।
চুলকে প্রায়শই শরীরের স্বাস্থ্য এবং জীবনীশক্তির 'আয়নাস্বরূপ' মনে করা হয়। সাম্প্রতিককালে, চুল পরীক্ষা (Hair Analysis) বা হেয়ার মিনারেল অ্যানালাইসিস (Hair Mineral Analysis - HMA) পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে চুলের নমুনা পরীক্ষা করে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিটি কতটুকু নির্ভরযোগ্য এবং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্পর্কে কী কী তথ্য পাওয়া যায়, তা জেনে নেওয়া যাক।

চুল পরীক্ষা কী এবং কীভাবে কাজ করে?
চুল পরীক্ষা একটি পরীক্ষাগার-ভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে মাথার ত্বকের কাছাকাছি থেকে কাটা চুলের একটি ছোট নমুনা নেওয়া হয়। এই নমুনাটিকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে চুলের মধ্যে সঞ্চিত খনিজ উপাদানগুলির ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়।
সঞ্চয়ের কারণ: চুল হলো একটি 'সঞ্চয়স্থান'। রক্তে বা মূত্রে খনিজ পদার্থের মাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হলেও, চুলে এই খনিজ পদার্থগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমা হতে থাকে।
যেসব তথ্য জানা যায়:
- খনিজ উপাদানের ঘাটতি: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজগুলির ঘাটতি বা অতিরিক্ত মাত্রা জানা যেতে পারে।
- ভারী ধাতুর উপস্থিতি: আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সীসা (Lead), পারদের মতো ক্ষতিকারক ভারী ধাতুগুলির এক্সপোজার বা বিষক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এই ভারী ধাতুগুলো পরিবেশে দীর্ঘদিন থাকার কারণে চুলে সঞ্চিত হতে পারে।
- বিপাকীয় প্রবণতা: কিছু ক্ষেত্রে, খনিজগুলির ভারসাম্য দেখে শরীরের বিপাকীয় হার (Metabolic Rate) এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা করা হয়।
চুল পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা ও বৈজ্ঞানিক মতামত
চুল পরীক্ষা জনপ্রিয় হলেও, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এটিকে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রাথমিক বা একমাত্র নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
- ১. বাহ্যিক দূষণ: চুলের নমুনা বাইরের পরিবেশ দ্বারা সহজেই দূষিত হতে পারে। শ্যাম্পু, রং, কন্ডিশনার বা দূষিত জল—এগুলি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
- ২. গুণগত মানের অভাব: চুলে খনিজের সঞ্চয় রক্ত বা মূত্রের মতো শারীরিক প্রক্রিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, ফলে চুলের খনিজ মাত্রাকে সরাসরি শরীরের ঘাটতি বা অতিরিক্ত মাত্রার নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ধরা যায় না।
- ৩. রোগ নির্ণয়ের অযোগ্যতা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (AMA) সহ শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলি রোগ নির্ণয়ের জন্য হেয়ার মিনারেল অ্যানালাইসিসকে সমর্থন করে না। গুরুতর রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত বা টিস্যু বায়োপসির মতো প্রথাগত পরীক্ষা প্রয়োজন।
চুল পরীক্ষা ভারী ধাতুর এক্সপোজার নির্ণয়ের জন্য একটি সহায়ক টুল হতে পারে। তবে, পুষ্টির ঘাটতি বা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকদের উচিত রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা। চুল পরীক্ষার ফলাফলকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যাভ্যাস বা জীবনধারায় বড় পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


