1st January History: জানুয়ারির ১ তারিখকেই কেন বছরের প্রথম দিন ধরা হয়? এর ইতিহাস জানলে অবাক হবেন

কেন জানুয়ারির ১ তারিখকেই বছরের প্রথম দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হলো? এর পেছনে কোনো প্রাকৃতিক বা জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে, নাকি এটি কেবলই মানুষের তৈরি একটি প্রথা? জেনে নিন। 

Published on: Dec 31, 2025, 11:20:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

প্রতি বছর ১ জানুয়ারি মধ্যরাতে আতশবাজি আর উৎসবের আমেজে আমরা নতুন বছরকে বরণ করে নিই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন জানুয়ারির ১ তারিখকেই বছরের প্রথম দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হলো? এর পেছনে কোনো প্রাকৃতিক বা জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে, নাকি এটি কেবলই মানুষের তৈরি একটি প্রথা?

জানুয়ারির ১ তারিখকেই কেন বছরের প্রথম দিন ধরা হয়? এর ইতিহাস জানলে অবাক হবেন
জানুয়ারির ১ তারিখকেই কেন বছরের প্রথম দিন ধরা হয়? এর ইতিহাস জানলে অবাক হবেন

জানুয়ারির ১ তারিখকে নতুন বছরের সূচনা হিসেবে ধরার ঐতিহাসিক বিবর্তন ও এর পেছনের কারণ জেনে নিন।

জানুয়ারি ১: ক্যালেন্ডারের বিবর্তন ও রোমান ইতিহাস

নতুন বছরের সূচনার ইতিহাস ঘাঁটলে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রাচীন রোমে। এর বিবর্তন মূলত তিনটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত:

১. আদি রোমান ক্যালেন্ডার ও মার্চের শুরু

প্রাচীন রোমের একেবারে প্রথম দিকের ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হতো ১ মার্চ থেকে। সেই ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টি এবং বছরের মোট দিন ছিল ৩০৪। আজও আমাদের মাসের নামগুলোতে এর প্রমাণ পাওয়া যায় (যেমন: ল্যাটিন শব্দ 'Septem' মানে ৭, তাই সেপ্টেম্বর ছিল সপ্তম মাস; 'Decem' মানে ১০, তাই ডিসেম্বর ছিল দশম মাস)। কিন্তু এই ক্যালেন্ডারে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে দিন-ক্ষণের ব্যাপক অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।

২. জানুসের নামানুসারে জানুয়ারি ও জুলিয়াস সিজার

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার তৎকালীন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে ক্যালেন্ডারে আমূল পরিবর্তন আনেন, যা 'জুলিয়ান ক্যালেন্ডার' (Julian Calendar) নামে পরিচিত। সিজারই প্রথম জানুয়ারির ১ তারিখকে বছরের শুরু হিসেবে ঘোষণা করেন।

জানুস (Janus): জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান দেবতা 'জানুস'-এর নামানুসারে। জানুসের দুটি মুখ ছিল—একটি পেছনের দিকে (অতীত দেখার জন্য) এবং অন্যটি সামনের দিকে (ভবিষ্যৎ দেখার জন্য)। নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে এই মাসটিকেই বছরের সূচনার জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়।

৩. মধ্যযুগ ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রভাব

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর মধ্যযুগে ইউরোপের অনেক খ্রিস্টান দেশ ১ জানুয়ারিকে বছরের শুরু হিসেবে মানতে অস্বীকার করে। তারা ২৫ মার্চ (Annunciation Day) বা ২৫ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস)-কে বছরের শুরু হিসেবে পালন করত। তবে ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি (Pope Gregory XIII) ক্যালেন্ডারের ত্রুটি সংশোধন করে 'গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার' প্রবর্তন করেন এবং পুনরায় ১ জানুয়ারিকে বছরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সারা বিশ্ব এই পদ্ধতি গ্রহণ করে নেয়।

১ জানুয়ারি পালনের তাৎপর্য

যদিও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নিজস্ব নববর্ষ রয়েছে (যেমন: পহেলা বৈশাখ বা চীনা নববর্ষ), কিন্তু ১ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে একটি সার্বজনীন রূপ পেয়েছে। এটি কেবল তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রশাসনিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ মানদণ্ড তৈরি করেছে।

জানুয়ারির ১ তারিখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় রোমান দেবতা জানুসের কথা—যিনি আমাদের শেখান অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে। হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কার পেরিয়ে আজ এই দিনটি বিশ্বের বৃহত্তম উৎসবে পরিণত হয়েছে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More