গ্যাস্ট্রিকের তীব্র ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? জানুন ওষুধ ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার ৫টি অলৌকিক টোটকা
প্রতিনিয়ত ওষুধ না খেয়ে আমাদের রান্নাঘরে থাকা কিছু অলৌকিক প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই গ্যাস্ট্রিকের কষ্ট থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুব দ্রুত কীভাবে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমাবেন, তার কার্যকরী উপায়গুলো জেনে নিন।
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, জল কম খাওয়া এবং মানসিক চাপের কারণে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। বুকের ছাতি বা পেটের ওপরে জ্বালাপোড়া, পেটে তীব্র ব্যথা, ঢেকুর ওঠা কিংবা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা অনেকের প্রতিদিনের সঙ্গী। প্রায়শই এই তাৎক্ষণিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই একের পর এক অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খেয়ে থাকেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে স্বস্তির কথা হলো, প্রতিনিয়ত ওষুধ না খেয়ে আমাদের রান্নাঘরে থাকা কিছু অলৌকিক প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই গ্যাস্ট্রিকের কষ্ট থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুব দ্রুত কীভাবে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমাবেন, তার কার্যকরী উপায়গুলো জেনে নিন।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের ফলে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক কিছু উপাদান এই বাড়তি এসিড প্রশমিত করে পাকস্থলীকে শান্ত রাখতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
১. আদা ও কাঁচা লবঙ্গ
আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান পাকস্থলীর প্রদাহ ও গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা বুক জ্বালা অনুভব হলে এক টুকরো কাঁচা আদা সামান্য সৈন্ধব লবণ (Black Salt) দিয়ে চিবিয়ে খান। তা ছাড়া, ১-২টি লবঙ্গ মুখে রেখে আস্তে আস্তে রস চুষে খেলে লবঙ্গের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত এসিড প্রশমিত করে পেটের মোচড় ও ব্যথা কমায়।
২. জোয়ান ও বিট লবণ
বাঙালি রান্নাঘরে জোয়ানের (Carom Seeds) ব্যবহার অতি প্রাচীন। পাচনতন্ত্র সক্রিয় রাখতে এবং পেট ফাঁপা দূর করতে জোয়ান অতুলনীয়।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: হাফ চামচ জোয়ান হালকা ভেজে নিয়ে এক চিমটি বিট লবণের সাথে মিশিয়ে ঈষদুষ্ণ গরম জল দিয়ে গিলে খেয়ে নিন। খাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই পেটের জমে থাকা গ্যাস বের হয়ে গিয়ে ব্যথা কমে আসে।
৩. জিরা ও মৌরির জল
জিরা ও মৌরি দুটোতেই এমন কিছু প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে, যা পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড নিরাময়ে সাহায্য করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ১ গ্লাস জলে ১ চামচ আস্ত জিরা এবং ১ চামচ মৌরি ফুটিয়ে হাফ গ্লাস করে নিন। ইষদুষ্ণ অবস্থায় এই ফুটানো জলটি পান করুন। ভারী বা তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর জিরা-মৌরির জল খেলে হজম দ্রুত হয় এবং এসিড রিফ্লাক্স রোধ হয়।
৪. ঠাণ্ডা দুধ বা টক দই (ডায়েটারি ফাইবার)
ঠাণ্ডা দুধে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড শুষে নিতে এবং এসিড তৈরি বাধা দিতে সাহায্য করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: গ্যাস্ট্রিকের কারণে বুকে তীব্র জ্বালাপোড়া হলে চিনি ছাড়া এক কাপ ঠাণ্ডা দুধ ধীরে ধীরে পান করুন। এ ছাড়া টক দইয়ে থাকা 'প্রোবায়োটিক' বা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
৫. ডাবের জল ও বেকিং সোডা
ডাবের জল হলো ইলেকট্রোলাইটের চমৎকার উৎস, যা শরীরের পিএইচ (pH) ভারসাম্য রক্ষা করে পাকস্থলীর এসিড শান্ত করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা হলে একটি তাজা ডাবের জল পান করুন। এ ছাড়া খুব জরুরি পরিস্থিতিতে হাফ গ্লাস জলে হাফ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে তা তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমায়।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা চিরতরে এড়াতে জরুরি কিছু নিয়ম
- খাবার নিয়ম মেনে খাওয়া: দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা পর পর অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খান।
- পর্যাপ্ত জল পান: দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। সকালে উঠে খালি পেটে ১-২ গ্লাস হালকা গরম জল পানের অভ্যাস করুন।
- খাওয়ার পরপরই না শোয়া: রাতে বা দুপুরে খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই শুয়ে না পড়ে অন্তত আধ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান।
- ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন ত্যাগ: চা, কফি এবং ধূমপান পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণ বাড়ায়, তাই এগুলি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাময়িকভাবে কমাতে ঘরোয়া উপাদানগুলো অসামান্য কাজ করে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই সমস্যা হতে থাকে বা পায়খানার সাথে রক্তপাত, বমি ও ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অনতিবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরীক্ষা করানো উচিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


