পেটের কৃমির সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন? জানুন ওষুধ ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে কৃমি দূর করার জাদুকরী ৫ প্রাকৃতিক টোটকা

ডিওয়ার্মিং ওষুধের পাশাপাশি আমাদের রান্নাঘরে থাকা কিছু অলৌকিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে কৃমি দূর করা সম্ভব।

Published on: Aug 7, 2026, 11:32:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কৃমি (Intestinal Worms) কেবল শিশুদের সমস্যা নয়, বড়দের মধ্যেও এটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত অস্বস্তিকর একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। দূষিত জল, ঠিকমতো হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া, অপরিষ্কার বা আধসিদ্ধ শাকসবজি ও মাংস খাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধির অভাবে পেটে কৃমির বংশবৃদ্ধি ঘটে। পেটে কৃমি হলে পেটে ব্যথা, বদহজম, গুহ্যদ্বারে চুলকানি, ওজন কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা এবং সবসময় ক্লান্তি অনুভুত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

পেটের কৃমির সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন? জানুন দূর করার ৫ প্রাকৃতিক টোটকা
পেটের কৃমির সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন? জানুন দূর করার ৫ প্রাকৃতিক টোটকা

ডিওয়ার্মিং ওষুধের পাশাপাশি আমাদের রান্নাঘরে থাকা কিছু অলৌকিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে কৃমি দূর করা সম্ভব। ঘরোয়া উপায়ে পেটের কৃমি নির্মূল করার ৫টি জাদুকরী টোটকা ও সঠিক নিয়ম নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. পেটের কৃমি বিনাশে ৫টি অলৌকিক ঘরোয়া উপাদান

ক) কাঁচা রসুন (Garlic):

রসুনে রয়েছে ‘অ্যালিসিন’ (Allicin) নামক এক শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক উপাদান, যা পেটের যেকোনো ক্ষতিকর কৃমি ও তার ডিম ধ্বংস করতে অসামান্য কার্যকর।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ কোয়া কাঁচা রসুন ভালো করে চিবিয়ে হালকা গরম জল দিয়ে গিলে খেয়ে নিন। টানা এক সপ্তাহ সকালে কাঁচা রসুন খেলে কৃমির সমস্যা দ্রুত দূর হয়।

খ) কাঁচা পেঁপে ও মধু (Raw Papaya and Honey):

কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে ‘পাপাইন’ (Papain) নামক এক বিশেষ এনজাইম, যা পেটের অ্যান্থেলমিন্টিক গুণাবলীর মাধ্যমে কৃমি মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: ১ চামচ কাঁচা পেঁপের রসের সাথে ১ চামচ মধু এবং ৪ চামচ হালকা গরম জল ভালো করে মিশিয়ে নিন। সকালে খালি পেটে এই মিশ্রণটি পান করুন। এর ২ ঘণ্টা পর ১ গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করলে পেটের মরা কৃমি পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়।

গ) কাঁচা পেঁপে বা কুমড়োর বীজ (Pumpkin Seeds):

কুমড়োর বীজে ‘কুকুরবিটাসিন’ (Cucurbitacin) নামক এক বিশেষ যৌগ থাকে, যা কৃমিকে অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেয়। এর ফলে কৃমি আর পেটের দেওয়ালে আটকে থাকতে পারে না এবং শরীর থেকে সহজে বেরিয়ে যায়।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ চামচ কুমড়োর বীজ রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। ১ গ্লাস গরম দুধ বা জলের সাথে এই গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন।

ঘ) নিমের পাতা ও মেথি বাটা (Neem Leaves):

নিম হলো প্রকৃতির সবচেয়ে বড় জীবাণু ও পরজীবীনাশক। এটি পেটের টক্সিন দূর করে কৃমির সংক্রমণ মূল থেকে উপড়ে ফেলে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: এক মুঠো টাটকা নিম পাতা বেটে ছোট ছোট গুলি বানিয়ে নিন। সকালে খালি পেটে একটি করে নিম পাতার গুলি হালকা জল দিয়ে গিলে খেয়ে নিন। নিয়মিত ৩-৪ দিন ব্যবহারে পেটের সমস্ত কৃমি মরে সাফ হয়ে যাবে।

ঙ) কাঁচা হলুদ ও ইষদুষ্ণ জল (Raw Turmeric):

কাঁচা হলুদে থাকা অ্যান্টি-সেপ্টিক ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী কৃমির কারণে পাকস্থলী ও অন্ত্রের যে ক্ষত তৈরি হয়, তা নিরাময় করার পাশাপাশি কৃমি ধ্বংস করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: ১ চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সামান্য নুন মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে কৃমি দ্রুত দূর হয়।

২. কৃমির সংক্রমণ চিরতরে এড়াতে জরুরি কিছু নিয়ম

  • খাওয়ার আগে হাত ধোয়া: যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করুন।
  • নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা: হাতের নখে ময়লা বা কৃমির ডিম জমে থাকে, তাই নিয়মিত নখ কাটুন।
  • ফুটানো জল পান ও শাকসবজি ধোয়া: সর্বদা ফুটানো বা পরিষ্কার জল পান করুন এবং কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

পেটের কৃমির সমস্যা অবহেলা করলে শরীরের পুষ্টি শোষণ ব্যাহত হয়। কেমিক্যালযুক্ত ওষুধের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে নিয়মিত এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহার করলে পেট থাকবে সম্পূর্ণ কৃমি মুক্ত ও সুস্থ।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More