কীভাবে খাঁটি ঘি চিনবেন? কেনার আগে ভালো করে জেনে নিন

বর্তমান বাজারে যে হারে ভেজাল ঘি-এর রমরমা বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল পণ্য চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ঘি-এর সাথে বনস্পতি বা ডালডা, চর্বি এবং রাসায়নিক সুগন্ধি মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

Published on: Dec 29, 2025, 12:14:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রান্নায় স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানো থেকে শুরু করে সুস্বাস্থ্যের খাতিরে খাঁটি ঘি-এর জুড়ি মেলা ভার। তবে বর্তমান বাজারে যে হারে ভেজাল ঘি-এর রমরমা বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল পণ্য চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ঘি-এর সাথে বনস্পতি বা ডালডা, চর্বি এবং রাসায়নিক সুগন্ধি মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কীভাবে খাঁটি ঘি চিনবেন? কেনার আগে ভালো করে জেনে নিন
কীভাবে খাঁটি ঘি চিনবেন? কেনার আগে ভালো করে জেনে নিন

আপনার রান্নাঘরের ঘি-টি আসলেও খাঁটি কি না, তা খুব সহজে ঘরোয়া উপায়ে যাচাই করার কিছু পদ্ধতি জেনে নিন।

খাঁটি ঘি চেনার ৫টি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষা

ল্যাবরেটরিতে না গিয়েও আপনি নিচের পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ঘি-এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন:

১. হাতের তালুতে পরীক্ষা (The Palm Test)

খাঁটি ঘি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় এটি। সামান্য ঘি হাতের তালুতে নিন। ঘি-টি যদি খাঁটি হয়, তবে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই তা দ্রুত গলতে শুরু করবে। যদি ঘি গলতে সময় নেয় বা দানা দানা রয়ে যায়, তবে বুঝবেন এতে ভেজাল মেশানো হয়েছে।

২. প্যান বা কড়াই পরীক্ষা (The Heat Test)

একটি কড়াই গরম করে তাতে এক চামচ ঘি দিন। ঘি-টি যদি সাথে সাথে গলে যায় এবং গাঢ় বাদামী বর্ণ ধারণ করে, তবে সেটি খাঁটি। কিন্তু যদি ঘি গলতে দেরি হয় এবং গলে যাওয়ার পর হালকা হলুদ বর্ণ দেখায়, তবে বুঝবেন এতে ডালডা বা ভেজাল কিছুর মিশ্রণ রয়েছে।

৩. আয়োডিন পরীক্ষা (The Iodine Test)

ঘি-তে আলু বা স্টার্চ মেশানো আছে কি না তা বুঝতে এই পরীক্ষাটি সেরা। অল্প পরিমাণ গলানো ঘি-এর মধ্যে দুই ফোঁটা আয়োডিন দ্রবণ (Iodine solution) মিশিয়ে দিন। যদি ঘি-এর রঙ বেগুনি বা নীল হয়ে যায়, তবে নিশ্চিত হোন যে এতে আলু বা চালের গুঁড়োর মতো স্টার্চ মেশানো হয়েছে।

৪. তালের ছাপ ও দানাদার টেক্সচার

খাঁটি ঘি সাধারণত দানাদার হয়। অনেক সময় ডালডা মেশালে তা অতিরিক্ত মসৃণ বা চটচটে দেখায়। এছাড়া খাঁটি ঘি ফ্রিজে রাখলে তা সমানভাবে জমে যায় এবং ওপরের স্তরে আলাদা কোনো তেলের স্তর তৈরি হয় না।

৫. জলের গ্লাসে পরীক্ষা

এক গ্লাস জলের ওপর এক চামচ গলানো ঘি দিন। খাঁটি ঘি জলের ওপরে ভেসে থাকবে এবং জমাট বাঁধবে না। যদি ঘি জলের নিচে চলে যায় বা চর্বির মতো জমাট বেঁধে যায়, তবে বুঝতে হবে এতে ভেজাল চর্বি বা রাসায়নিক রয়েছে।

খাঁটি ঘি-এর বৈশিষ্ট্য কী কী?

  • ঘ্রাণ: খাঁটি ঘি-এর সুগন্ধ খুব মনোরম হয়, যা ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি মাখন থেকে আসে। কৃত্রিম ঘি-এর গন্ধ তীব্র এবং নাকে লাগে।
  • রঙ: গরুর দুধের ঘি সাধারণত সোনালি হলুদ বা হালকা হলদে হয়। মোষের দুধের ঘি সাদাটে ভাব থাকে।
  • স্থায়িত্ব: খাঁটি ঘি ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় রাখলেও অনেক দিন ভালো থাকে।

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাঁটি ঘি-এর বিকল্প নেই। বাজার থেকে ঘি কেনার সময় সব সময় বিশ্বস্ত সূত্র বা নামী ব্র্যান্ডের 'Agmark' লোগো দেখে নেওয়া ভালো। তবে উপরে উল্লেখিত ঘরোয়া পরীক্ষাগুলো আপনাকে নকল ঘি-এর হাত থেকে বাঁচতে এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More