How to get rid of cockroaches naturally: বিষাক্ত স্প্রে ছাড়াই ঘর হবে আরশোলামুক্ত! রান্নাঘরের এই ৫টি উপাদানেই পালাবে পোকা
How to get rid of cockroaches naturally: আরশোলা তাড়াতে বাজারে অনেক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে বা চক পাওয়া যায়। তবে সেগুলোতে থাকা ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষ্য থাকলে রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
How to get rid of cockroaches naturally: রান্নাঘরের স্ল্যাব, আলমারির কোণ কিংবা বাথরুমের কমোড—বাড়ির যেকোনো অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় হানা দিতে ওস্তাদ এই আরশোলা (Cockroach)। আরশোলা কেবল দেখতেই বিরক্তিকর নয়, এটি অত্যন্ত নোংরা একটি পতঙ্গ। নর্দমা বা ড্রেন থেকে উঠে আসা এই আরশোলা শরীরের ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে বা খাবারে মুখ দিলে মারাত্মক ব্যাক্টেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে টাইফয়েড, ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিং-এর মতো কঠিন রোগ হতে পারে। এমনকি আরশোলার গায়ের গন্ধ ও লালা থেকে বাচ্চাদের মধ্যে অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যাও দেখা দেয়।

আরশোলা তাড়াতে বাজারে অনেক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে বা চক পাওয়া যায়। তবে সেগুলোতে থাকা ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষ্য থাকলে রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে সুখবর হলো, কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ছাড়াই রান্নাঘরের কিছু সাধারণ উপাদান দিয়ে আরশোলা চিরতরে তাড়ানো সম্ভব। কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে ঘর আরশোলামুক্ত করবেন, জেনে নিন।
আরশোলা তাড়ানোর জন্য তাদের জীবনচক্র এবং কোন কোন গন্ধ তারা সহ্য করতে পারে না, তা জানা জরুরি। কিছু নির্দিষ্ট সুগন্ধ এবং প্রাকৃতিক মিশ্রণ আরশোলার স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল করে দেয়, যার ফলে তারা সেই জায়গা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
১. তেজপাতা ও লবঙ্গের গন্ধের কেরামতি:
আমাদের রান্নার মসলা তেজপাতা ও লবঙ্গ আরশোলা তাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। আরশোলা তেজপাতার তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ একদম সহ্য করতে পারে না। কয়েকটি শুকনো তেজপাতা হাত দিয়ে গুঁড়ো করে রান্নাঘরের কোণে, সিঙ্কের নিচে এবং আলমারির র্যাকে ছড়িয়ে রাখুন। তেজপাতার গন্ধে আরশোলা ওই চত্বরে আসবে না। একইভাবে, আরশোলা যেখানে বেশি ঘোরে সেখানে ৪-৫টি লবঙ্গ রেখে দিলে এর কড়া গন্ধে তারা ঘর ছেড়ে পালায়।
২. বেকিং সোডা এবং চিনির মোক্ষম ফাঁদ:
এটি আরশোলা মারার একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং নিরাপদ প্রাকৃতিক ফাঁদ। সমপরিমাণ বেকিং সোডা এবং গুঁড়ো চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি ঘরের কোণে বা আরশোলার আস্তানার চারপাশে ছড়িয়ে দিন। চিনির মিষ্টি গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে আরশোলা এটি খেতে আসবে। বেকিং সোডা আরশোলার পেটে প্রবেশ করার পর তার পরিপাকতন্ত্রকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যার ফলে আরশোলা মারা যায়।
৩. বোরিক পাউডার এবং আটার লাড্ডু:
বোরিক পাউডার যেকোনো ওষুধের দোকানে বা মুদি দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। এটি মানুষের জন্য বিষাক্ত না হলেও আরশোলার জন্য কালান্তক। সমপরিমাণ আটা বা ময়দা, সামান্য চিনি এবং বোরিক পাউডার জল দিয়ে মেখে ছোট ছোট লেচি বা লাড্ডু তৈরি করে নিন। এই লাড্ডুগুলো ফ্রিজের নিচে, গ্যাস ওভেনের পাশে বা ড্রেনের মুখে রেখে দিন। বোরিক পাউডারের সংস্পর্শে এলেই আরশোলা চিরতরে বিদায় নেবে।
৪. পিপারমিন্ট অয়েল বা পুদিনা তেলের স্প্রে:
এসেনশিয়াল অয়েলের মধ্যে পিপারমিন্ট অয়েল বা পুদিনা পাতার তেল পোকা মাকড় তাড়াতে ওস্তাদ। একটি স্প্রে বোতলে এক কাপ জল নিয়ে তাতে ১০-১৫ ফোঁটা পিপারমিন্ট অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্রাকৃতিক স্প্রেটি রাতে ঘুমানোর আগে রান্নাঘর ও বাথরুমের চারপাশে স্প্রে করুন। এর তীব্র রিফ্রেশিং সুগন্ধ ঘরকে সুবাসিত করবে, আর আরশোলাদের তাড়াতে সাহায্য করবে।
৫. লেবুর রস ও গরম জলের ব্যবহার:
লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড আরশোলা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এক বালতি হালকা গরম জলে দুটি পাতিলেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই জল দিয়ে প্রতিদিন ঘর ও রান্নাঘরের মেঝে ভালো করে মুছুন। লেবুর গন্ধ যেখানে থাকে, আরশোলা সেখানে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
ভবিষ্যতে আরশোলা আসা বন্ধ করার কিছু সহজ টিপস:
- খাবার খোলা রাখবেন না: রাতের খাবার কখনো ডাইনিং টেবিলে খোলা রাখবেন না। ধোঁয়া বা গন্ধ আরশোলাকে আকর্ষণ করে।
- শুকনো রাখুন: রান্নাঘরের সিঙ্ক বা বাথরুমের মেঝে সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। জল না পেলে আরশোলা বেশিদিন বাঁচতে পারে না।
- আবর্জনা পরিষ্কার: প্রতিদিনের ডাস্টবিনের ময়লা প্রতিদিন রাতে ঘরের বাইরে ফেলে দিন এবং ডাস্টবিনটি ঢাকনাযুক্ত ব্যবহার করুন।
ঘরকে ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাই হলো সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। বাজারের দামি ও বিষাক্ত স্প্রে-র পেছনে টাকা খরচ না করে, আজ থেকেই এই সহজ ও নিরাপদ ঘরোয়া উপায়গুলো অ্যাপ্লাই করুন। আপনার বাড়ি থাকবে একদম হাইজেনিক এবং আরশোলামুক্ত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


