বর্ষায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ? কয়েল বা স্প্রে নয়, রসুন দিয়েই তাড়ান মশা! জানুন ৫টি ঘরোয়া টোটকা
কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই রসুন ব্যবহার করে ঘরকে মশামুক্ত রাখার ৫টি সহজ ঘরোয়া উপায় জেনে নিন।
বর্ষাকাল আসতেই বাড়িতে মশার উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে যায়। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক মশাবাহিত রোগের ভয়ে আমরা অনেকেই বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত স্প্রে, লিকুইড বা মশারি কয়েল ব্যবহার করে থাকি। তবে এই সমস্ত কয়েল বা কেমিক্যাল স্প্রে থেকে নির্গত ধোঁয়া আমাদের ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং হাপানির মতো শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে।

কিন্তু আপনি কি জানেন, আমাদের রান্নাঘরের অতিপরিচিত একটি মশলা দিয়েই কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মশা চিরতরে খেদানো সম্ভব? সেটি হলো রসুন (Garlic)। হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদে রসুনকে বিভিন্ন পোকা-মাকড় ও মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। রসুনে থাকা বিশেষ সালফার যৌগ ও এর তীব্র তীব্র গন্ধ মশার স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, যার ফলে মশা নিমেষে ঘর ছেড়ে পালায়।
কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই রসুন ব্যবহার করে ঘরকে মশা মুক্ত রাখার ৫টি সহজ ঘরোয়া উপায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
১. মশা তাড়াতে কেন এত কার্যকরী রসুন?
রসুনের মধ্যে 'অ্যালিসিন' (Allicin) নামক একটি শক্তিশালী সালফারযুক্ত উপাদান থাকে। এই অ্যালিসিনের তীব্র ও ঝাঁঝালো গন্ধ মানুষের নাকে সহনীয় হলেও মশা ও অন্যান্য উড়ন্ত পতঙ্গের সংবেদনশীল ঘ্রাণেন্দ্রিয় একেবারেই সহ্য করতে পারে না।
মশা মানুষের শরীরের ঘাম ও কার্বন ডাই অক্সাইডের গন্ধ শুঁকে রক্ত চুষতে আসে। কিন্তু রসুনের ঝাঁঝালো বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে মশা তার শিকার খোঁজার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ঘরের কাছাকাছি আসতে ভয় পায়।
২. রসুন দিয়ে মশা তাড়ানোর ৫টি সহজ ও জাদুকরী উপায়
ক) রসুনের হোমমেড প্রাকৃতিক স্প্রে (Garlic Mosquito Spray):
- তৈরির নিয়ম: ১০-১২ কোয়া রসুন খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে থেঁতো করে নিন। এরপর ১ কাপ জলে সেই রসুন সেদ্ধ করে নিন মিনিট পাঁচেক। জল ঠান্ডা হলে ছেঁকে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন।
- ব্যবহারের নিয়ম: ঘরের কোণে, পর্দা, জানালার ফাঁকে, খাটের নিচে বা বারান্দায় এই জল স্প্রে করুন। রসুনের প্রাকৃতিক বাষ্পে ঘরের সব মশা সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যাবে।
খ) রসুন ও নারকেল তেলের বডি লোশন (Natural Mosquito Repellent Cream):
- তৈরির নিয়ম: ২ চামচ রসুনের রসের সাথে ৩ চামচ বিশুদ্ধ নারকেল তেল বা নিম তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন।
- ব্যবহারের নিয়ম: সন্ধ্যায় ঘরে বা বাইরে বেরোনোর সময় হাত-পায়ে হালকা করে মেখে নিন। রসুনের গন্ধের কারণে মশা আপনার কাছাকাছি ঘেঁষতে পারবে না। এই তেল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ত্বকের জন্য উপকারী।
গ) রসুন ও লবঙ্গের ধূপ বা বাটি (Garlic and Clove Natural Vaporizer):
- তৈরির নিয়ম: কয়েকটি রসুনের কোয়া খোসা সহ থেঁতো করে একটি ছোট বাটিতে রাখুন। তার মধ্যে ৫-৬টি আস্ত লবঙ্গ এবং কয়েক ফোঁটা কর্পূরের তেল বা সরষের তেল দিন।
- ব্যবহারের নিয়ম: ঘরের কোণে বা জানালার কাছে এই বাটিটি রেখে দিন। লবঙ্গ ও রসুনের সম্মিলিত ঝাঁঝালো গন্ধে ঘরে মশা ঢুকতেই পারবে না।
ঘ) রসুন সেদ্ধ বাষ্পীয় পদ্ধতি (Garlic Steam Method):
- সন্ধের সময় যখন ঘরে মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়, তখন একটি পাত্রে জল ও এক মুঠো থেঁতো করা রসুন দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত জলের বাষ্প পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে দিন। রসুনের এই ভাপ ঘরের বাতাস থেকে মশাকে নিমেষে তাড়িয়ে দেয়।
ঙ) রসুনের কোয়া জানালার খাঁজে রাখা:
- সহজ উপায়ে মশা আটকানো বা প্রতিরোধ করতে রসুনের কোয়া মাঝখান থেকে কেটে জানালার গ্রিলে বা দরজার পাশে রেখে দিন। রসুনের কাটা অংশের তীব্র তাজা গন্ধ বাইরের মশাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
৩. রসুন ব্যবহারের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগত সুবিধা
- সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত: কয়েলের ধোঁয়ায় যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে, রসুন তার থেকে ১০০% মুক্ত ও নিরাপদ।
- শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ: ঘরে ছোট শিশু বা হাঁপানির রোগী থাকলেও রসুনের স্প্রে ব্যবহারে কোনো শ্বাসকষ্ট বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।
মশাবাহিত রোগের হাত থেকে পরিবারকে বাঁচাতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল কয়েলের মোহ ত্যাগ করে আজই বেছে নিন রান্নাঘরের সহজ উপাদান রসুন। প্রকৃতির এই সহজ টোটকায় আপনার ঘর থাকবে সতেজ, স্বাস্থ্যকর এবং পুরোপুরি মশামুক্ত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


