আপনি কি দরকারি কথা হামেশাই ভুলে যান? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অনেক সময় ‘ব্রেন ফগ’ বলা হয়। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনযাত্রা এবং কিছু কৌশলের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তিকে আবার শাণিত করে তোলা সম্ভব।

Published on: Jan 15, 2026 4:57 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চাবি কোথায় রাখলেন মনে পড়ছে না? কিংবা খুব জরুরি কোনো মিটিংয়ের কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গেল? আমাদের অতি-ব্যস্ত জীবনে অল্পস্বল্প ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও, এটি যখন নিয়মিত হতে শুরু করে তখন তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অনেক সময় ‘ব্রেন ফগ’ বলা হয়। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনযাত্রা এবং কিছু কৌশলের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তিকে আবার শাণিত করে তোলা সম্ভব।

আপনি কি দরকারি কথা হামেশাই ভুলে যান? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন
আপনি কি দরকারি কথা হামেশাই ভুলে যান? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন

দরকারি কথা ভুলে যাওয়ার কারণ এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কার্যকর উপায় জেনে নিন।

কেন আমরা দরকারি কথা ভুলে যাই?

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার পেছনে কেবল বয়স নয়, বরং আধুনিক জীবনের বেশ কিছু অভ্যাস দায়ী:

  • মাল্টিটাস্কিং: একসাথে অনেক কাজ করতে গেলে মস্তিষ্ক কোনো একটি বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিতে পারে না।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিনের স্মৃতিগুলোকে স্থায়ীভাবে জমা করে। ঘুম কম হলে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কের 'হিপোক্যাম্পাস' নামক অংশকে প্রভাবিত করে, যা স্মৃতি ধরে রাখার জন্য দায়ী।
  • পুষ্টির অভাব: ভিটামিন বি-১২ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়।

ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তির ৫টি বৈজ্ঞানিক কৌশল

১. 'মোনোক্লক' পদ্ধতি অনুসরণ করুন

মাল্টিটাস্কিং ছেড়ে একটি সময়ে একটিই কাজ করার অভ্যাস করুন। যখন কোনো জরুরি কথা শুনছেন বা পড়ছেন, তখন আশেপাশে মোবাইল বা অন্য কোনো বিক্ষিপ্ততা রাখবেন না। মনোযোগ যত গভীর হবে, স্মৃতি তত দীর্ঘস্থায়ী হবে।

২. নামতা বা পাজল সমাধান করুন

মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সুডোকু, শব্দজব্দ বা দাবা খেলার মতো ‘ব্রেন গেম’ খেলুন। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলো সক্রিয় থাকে, যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. 'ভিজ্যুয়ালাইজেশন' বা ছবি তৈরি করা

যেকোনো তথ্য মনে রাখার জন্য সেটিকে একটি ছবির সাথে মনে মনে মিলিয়ে নিন। যেমন—কারো নাম মনে রাখতে হলে তার চেহারার কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাথে নামটি জুড়ে দিন। মস্তিষ্ক তথ্যের চেয়ে ছবি বেশি দ্রুত মনে রাখতে পারে।

৪. মেডিটেশন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস

প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট ধ্যান বা মেডিটেশন করলে মস্তিষ্কের কর্টেক্স পুরু হয় এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় আখরোট, ডার্ক চকোলেট, গ্রিন টি এবং পালং শাকের মতো ‘ব্রেন ফুড’ রাখুন।

৫. লিখে রাখার অভ্যাস

ডিজিটাল যুগে আমরা সব ফোনে সেভ করি, কিন্তু কোনো তথ্য একবার কাগজে কলমে লিখলে তা মস্তিষ্কে অনেক বেশি গেঁথে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকা বা ‘টু-ডু লিস্ট’ তৈরির অভ্যাস আপনার মস্তিষ্ক থেকে বাড়তি চাপ কমিয়ে দেবে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি ভুলে যাওয়ার ধরন এমন হয় যে আপনি পরিচিত মানুষের নাম একদমই মনে করতে পারছেন না, কিংবা চেনা রাস্তা হারিয়ে ফেলছেন—তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (Neurologist) পরামর্শ নিন। এটি বি-১২ এর তীব্র অভাব বা প্রাথমিক ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হতে পারে।