বৃদ্ধ বয়সে ডিমেনশিয়া থেকে বাঁচতে চান? ৪০ বছর বয়স থেকেই এই ১০টি কাজ করুন

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণগুলো বার্ধক্যে প্রকাশিত হলেও এর বীজ বপন হতে শুরু করে মধ্যবয়সেই। তাই চল্লিশের পর থেকে জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করা এবং স্মৃতিশক্তিকে দীর্ঘকাল সতেজ রাখা সম্ভব।

Published on: Dec 20, 2025, 09:42:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

চল্লিশ বছর বয়স পার হওয়া মানেই জীবনের এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়ানো। চিকিৎসকদের মতে, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণগুলো বার্ধক্যে প্রকাশিত হলেও এর বীজ বপন হতে শুরু করে মধ্যবয়সেই। তাই চল্লিশের পর থেকে জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে মস্তিষ্কের ক্ষয় রোধ করা এবং স্মৃতিশক্তিকে দীর্ঘকাল সতেজ রাখা সম্ভব।

বৃদ্ধ বয়সে ডিমেনশিয়া থেকে বাঁচতে চান? ৪০ বছর বয়স থেকেই এই ১০টি কাজ করুন
বৃদ্ধ বয়সে ডিমেনশিয়া থেকে বাঁচতে চান? ৪০ বছর বয়স থেকেই এই ১০টি কাজ করুন

ডিমেনশিয়া দূরে সরিয়ে রাখতে এবং মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস কী কী হতে পারে, জেনে নিন।

মস্তিষ্ক সতেজ রাখতে এবং ডিমেনশিয়া রুখতে ১০টি কার্যকর অভ্যাস

মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ বা নিউরনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে চল্লিশের পর থেকে নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা জরুরি:

১. নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম

হাঁটা, দৌড়ানো বা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এটি হিপোক্যাম্পাস (মস্তিষ্কের স্মৃতির অংশ) সতেজ রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ঘাম ঝরানো ব্যায়াম স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য মহৌষধ।

২. ভূমধ্যসাগরীয় বা 'মাইন্ড' ডায়েট (MIND Diet)

খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনুন। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, বেরি জাতীয় ফল, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ (ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ) এবং অলিভ অয়েল যুক্ত করুন। অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করুন, যা মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

৩. নতুন কিছু শেখার চেষ্টা

মস্তিষ্ককে সবসময় চ্যালেঞ্জের মুখে রাখুন। নতুন কোনো ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা কোনো সৃজনশীল শখ (যেমন—পেইন্টিং বা কোডিং) রক্তসংবহন ও নিউরনের সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। একে বলা হয় 'কগনিটিভ রিজার্ভ' তৈরি করা।

৪. পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম

স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মস্তিষ্ক থেকে বিষাক্ত প্রোটিন (বিটা-অ্যামাইলয়েড) পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, যা ডিমেনশিয়ার অন্যতম কারণ।

৫. সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা

একাকীত্ব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, আড্ডা দেওয়া বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা বিষণ্ণতা কমায় এবং মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে।

৬. রক্তচাপ ও শর্করার নিয়ন্ত্রণ

উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে (Vascular Dementia)। চল্লিশের পর নিয়মিত চেকআপ করুন এবং রক্তচাপ ও সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৭. শ্রবণশক্তির যত্ন নেওয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রবণশক্তি কমে গেলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। কানে শুনতে সমস্যা হলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজন হলে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করুন।

৮. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমানো

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে। নিয়মিত ধ্যান (Meditation), যোগব্যায়াম বা নিঃশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল (Cortisol) নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৯. ধুমপান ও মদ্যপান বর্জন

ধুমপান মস্তিষ্কের ধমনীকে সংকুচিত করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করে। তাই এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।

১০. মস্তিষ্কের ধাঁধা ও গেম

সুডোকু, দাবা বা শব্দজট সমাধান করার অভ্যাস করুন। এটি মস্তিষ্কের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা (Executive Function) বাড়ায় এবং চিন্তাভাবনাকে তীক্ষ্ণ রাখে।

শেষে দরকারি কথা

ডিমেনশিয়া কোনো অনিবার্য পরিণতি নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি আমাদের জীবনযাত্রার ফসল। চল্লিশ বছর বয়সেই যদি আমরা সচেতন হই এবং উপরের অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করি, তবে বার্ধক্যেও একটি স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল স্মৃতিশক্তি বজায় রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, আজকের ছোট ছোট অভ্যাসই কালকের সুস্থ মস্তিষ্কের চাবিকাঠি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More