ছোট খাট কিছু অভ্যাসে বিপদের ঝুঁকি! জানুন অল্প বয়স থেকেই কিডনি সুস্থ রাখার ৭টি জাদুকরী নিয়ম
কিডনির রোগকে প্রায়শই ‘সাইলেন্ট কিলার’ (Silent Killer) বলা হয়, কারণ কিডনির কার্যক্ষমতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাইরে থেকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
আমাদের মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি। শরীর থেকে বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ ছাঁকন (Filter) করে বের করে দেওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরে জলের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করার মতো বহু জটিল কাজ নিখুঁতভাবে করে থাকে এই জোড়া অঙ্গটি। তবে বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের কারণে খুব অল্প বয়সেই অনেকে 'ক্রনিক কিডনি ডিজিস' (CKD)-এর মতো মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কিডনির রোগকে প্রায়শই ‘সাইলেন্ট কিলার’ (Silent Killer) বলা হয়, কারণ কিডনির কার্যক্ষমতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাইরে থেকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই বয়স বাড়ার পর সতর্ক না হয়ে, অল্প বয়স থেকেই সচেতন হওয়া এবং সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কিডনি সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে অল্প বয়স থেকে কোন কোন নিয়ম মেনে চলা উচিত, তার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো।
১. কিডনি রোগ প্রতিরোধে অল্প বয়স থেকেই যা যা করণীয়
- ক) পর্যাপ্ত জল পানের অভ্যাস (Stay Hydrated):
কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) জল পান করা উচিত। পর্যাপ্ত জল খেলে কিডনি খুব সহজে রক্ত থেকে সোডিয়াম, ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে পারে। এতে কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) হওয়ার ঝুঁকিও প্রায় থাকে না।
- খ) ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইনকিলার এড়ানো:
সামান্য মাথাব্যথা, গা-হাত পা ব্যথা বা জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনায়াসে পেইনকিলার (NSAIDs যেমন—আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ইত্যাদি) খাওয়ার মারাত্মক কুঅভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অল্প বয়স থেকে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা সরাসরি কিডনির ফিল্টার টিস্যু ধ্বংস করে দেয়।
- গ) রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা (সুগার) নিয়ন্ত্রণে রাখা:
উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হলো কিডনি বিকল হওয়ার দুটি প্রধান কারণ। রক্তের শর্করা ও রক্তচাপ বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অল্প বয়স থেকেই বছরে অন্তত একবার সুগার ও প্রেশার মেপে দেখা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
- ঘ) কাঁচা নুন ও লবণাক্ত খাবার কমানো:
খাবারে অতিরিক্ত নুন (সোডিয়াম) খেলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food), চিপস, সসেজ, চানাচুর এবং পাতে অতিরিক্ত কাঁচা নুন খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
- ঙ) অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন:
ধূমপান ও তামাক সেবন কিডনিতে রক্ত প্রবাহের গতি কমিয়ে দেয়, যার ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে শরীরে মারাত্মক টক্সিন জমাতে সাহায্য করে।
- চ) সুষম আহার ও সুস্থ ওজন বজায় রাখা:
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত প্রসেসড প্রোটিন, রিফাইন্ড চিনি ও কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন। পুষ্টিকর শাকসবজি, ফলমূল এবং সহজে হজম হওয়া খাবার খান। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে।
- ছ) দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম:
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সাঁতার কাটা, জগিং করা, সাইকেল চালানো বা দ্রুত হাঁটার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম করুন। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. কখন কিডনি পরীক্ষা (Kidney Function Test) করানো জরুরি?
যদি পরিবারে আগে থেকে কারও কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে, তবে ২৫-৩০ বছর বয়সের পর থেকেই বছরে অন্তত একবার রক্তের ‘সিরম ক্রিয়েটিনিন’ (Serum Creatinine) এবং প্রস্রাবের ‘অ্যালবুমিন’ (Urine Routine/Albumin) পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
কিডনি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। তাই ভবিষ্যতের জটিলতা ও ডায়ালিসিসের মতো কষ্টদায়ক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে অল্প বয়স থেকেই এই সহজ ও স্বাস্থ্যকর নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


